সোমবার | ১৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১লা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | সকাল ৭:৫০
Logo
এই মুহূর্তে ::
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১৩৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলায় পলিসি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন আবশ্যক : হাসান মোঃ শামসুদ্দীন ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১৩৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ পলাশীর যুদ্ধ ও একটি সিদ্ধান্ত (শেষ পর্ব) : সুব্রত দত্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১৩১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ পলাশীর যুদ্ধ ও একটি সিদ্ধান্ত (প্রথম পর্ব) : সুব্রত দত্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১৩০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১২৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিজুরিকা চক্রবর্তী-র ছোটগল্প ‘একাকিনী’ ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১২৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ মৈত্রেয়ী ব্যানার্জী-র ছোটগল্প ‘আবহমান’ ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১২৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ সুস্বাদু ও রসালো আলুবোখারা–প্রকৃতির এক অনন্য উপহার : রিঙ্কি সামন্ত প্রবাস বাংলা কালচারাল সোসাইটির অনবদ্য সুরঞ্জলি রবীন্দ্র-নজরুল জয়ন্তী : ফারজানা নাজ শম্পা ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১২৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ স্মৃতিবেলা : শিশুবেলা : ড. শিবশঙ্কর পাল ইবোলা ভাইরাস দ্রুত ছড়ালেও আতঙ্ক ছড়াবেন না, সতর্ক থাকাই একমাত্র পথ : মোহন গঙ্গোপাধ্যায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১২৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ পরিবেশ দিবসে রবীন্দ্রনাথ : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১২৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ সিন্ধুসভ্যতা বিশেষজ্ঞ র‍্যান্ডাল ল’-র সুতকাগেনদোর-সফরের নির্যাস : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১২৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ অয়ন মুখোপাধ্যায়-এর ছোটগল্প ‘পঞ্চাশ নম্বরে নাম’ ক্ষয়িষ্ণু পুরুষ লেখক সসীম কুমার বাড়ৈ আলোচক সুতপা দত্ত দাশগুপ্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১২২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ কলকাতার হকার, উচ্ছেদ অভিযান, ইতিহাসের প্যারাডক্স : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১২১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিনোদিনী দিন ফিরিবার নয়
Notice :

পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই শুভ দোল পূর্ণিমা-র আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন,  ই-মেল : pagefour2020@gmail.com

‘গায়ন’ থেকেই গাজন শব্দের সৃষ্টি : অসিত দাস

অসিত দাস / ১৬৫৯ জন পড়েছেন
আপডেট বুধবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৫

আমার মতে, গায়ন থেকেই গাজন। গর্জন বা গাঁ-জন থেকে নয়। তৎসম শব্দ গায়ন-বাদন থেকে আসে গায়ন-বাজন। সেখান থেকেই বর্ণবিপর্যয়ে গাজন-বায়ন হয়েছে। তা থেকে সংক্ষেপে গাজন। শিবের গাজন, ধর্মের গাজন, হুজুগে গাজন প্রভৃতির কথা শোনা যায়। চৈত্রমাসের বাইরে অন্য সময় গাজন হলে তাকে হুজুগে গাজন বলে। ধান ভানতে শিবের গীত গাইতে হল বলে দুঃখিত।

চৈত্রসংক্রান্তিতে চড়ক আর গাজন বাঙালির অন্যতম লোকপ্রিয় পার্বণ। দীর্ঘ একমাসব্যাপী সন্ন্যাস-রাখা ভক্তরা এইদিন চড়কের ঝাঁপ দেয়। হুতোমের আমলেও এই চড়ক ও গাজনের রমরমা ছিল। লিখেছেন “চড়কীর পিঠ সড়সড় কচ্চে”। ‘ঢাকের গটরার সঙ্গে গাজন বেরিয়েচে’। আলালের ঘরের দুলাল উপন্যাসে টেকচাঁদ ঠাকুরও গাজনের কথা ফলাও করে লিখেছেন। তা, চড়কের দোসর এই গাজন শব্দটি কোথা থেকে এল?

গর্জন থেকে গাজন এসেছে বলে বেশিরভাগ পণ্ডিতের বিশ্বাস। গাজনের গানে ততটা তর্জনগর্জন হয় কি? মনে তো হয় না। আর একটি প্রচলিত মত হল গাঁ-জন থেকেই নাকি গাজন এসেছে। মানে গ্রামগঞ্জের লোকজন একসঙ্গে মেতে উঠত এই উৎসব উপলক্ষ্যে। তাই গাঁ-জন থেকেই নাকি গাজন! গ্রামগঞ্জের লোক তো নানা উৎসবেই মেতে ওঠে, সব উৎসবের নাম তো গাজন হয় না!

চৈত্র শেষে গাজনের ঢাক বাজে। গ্রাম থেকে শহর, সর্বত্র শোনা যায় ঢাক-ঢোল-কাঁসরের আওয়াজ। বাংলা বছরের শেষ উৎসব হল এই গাজন। এই উৎসবে দেবাদিদেব মহাদেবের আরাধনায় মেতে ওঠেন ভক্তরা। গাজন উৎসবে আপামর বাঙালি সামিল হন শিবের আরাধনায়।

বিশিষ্ট গবেষকরা জানাচ্ছেন, গাজন শব্দের উৎপত্তি ‘গর্জন’ থেকে। অনেকের ধারণা, শিব সাধনার সময় সন্ন্যাসীদের হুঙ্কার বা রব থেকেই গাজন শব্দের উৎপত্তি। ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণেও মেলে গাজনের উল্লেখ। পুরাণের প্রকৃতিখণ্ডে লেখা হয়েছে, ‘‘চৈত্র মাস্যথ মাঘেবা যোহর্চ্চয়েৎ শঙ্করব্রতী। করোতি নর্ত্তনং ভক্ত্যা বেত্রবানি দিবাশিনম্।। মাসং বাপ্যর্দ্ধমাসং বা দশ সপ্তদিনানি বা। দিনমানং যুগং সোহপি শিবলোক মহীয়তে।।’’ এর অর্থ চৈত্রে কিংবা মাঘে এক, সাত, দশ, পনেরো কিংবা তিরিশ দিন হাতে বেতের লাঠি নিয়ে শিবব্রতী হয়ে নৃত্য ইত্যাদি করলে মানুষের শিবলোক প্রাপ্তি হয়।

অনেক গবেষকের ধারণা, গাজন উৎসবে রয়েছে বৌদ্ধ ধর্মের প্রভাব। আবার বাংলার মঙ্গলকাব্যতেও গাজনের উল্লেখ পাওয়া যায়। যেমন ধর্মমঙ্গল কাব্যে রয়েছে এর বিস্তৃত বিবরণ। তবে অন্য একটি অংশের মতে, গা শব্দ বলতে গাঁ বা গ্রামকে বোঝায়। আর, জন শব্দ বলতে জনসাধারণকে বোঝায়। অর্থাৎ গ্রামের জনসাধারণের যা উৎসব তাই গাজন। জনশ্রুতি রয়েছে, গাজনই হল সেই দিন যেদিন শিবের সঙ্গে মা কালীর বিবাহ সম্পন্ন হয়। আরও লৌকিক বিশ্বাস হল, গাজনের সন্ন্যাসীরা হলেন আসলে শিবের বরযাত্রী। নন্দীভৃঙ্গী বাদ যায় কেন।

গাজন উৎসবের তিনটি অংশ থাকে। যথা — ঘাট সন্ন্যাস, নীলব্রত এবং চড়ক। অনেক জায়গাতে গাজন উৎসবে চৈত্র মাসের প্রথম দিন থেকেই ভক্ত সন্ন্যাসীরা পালন করতেন, সেটা অতীতকালের কথা। তবে বর্তমান সময়ে চৈত্র সংক্রান্তির সাত দিন আগে অথবা তিন দিন আগে থেকে কঠোরব্রত পালন করেন সন্ন্যাসীরা। এই সময়ে পরিচ্ছন্ন বস্ত্র ধারণ করে হবিষ্যান্ন গ্রহণ করেন তাঁরা। নীলষষ্ঠীরব্রতের পরে চৈত্র সংক্রান্তির দিন অনুষ্ঠিত হয় চড়ক পূজা। চড়কও চক্র থেকে আসেনি। শিবের আর এক নাম চণ্ডার্ক। তা থেকেই অপভ্রংশে চণ্ডাক তথা চণ্ডক। চণ্ডক থেকে চড়ক।

গাজনের গানে অনেক জায়গায় মুখোশ নৃত্যের প্রচলন দেখা যায়। যা স্থানীয় ভাষায় বোলান গান নামেও পরিচিত। এগুলি বর্ধমান, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, নদিয়া বীরভূম জেলাতে দেখা যায়। এই সময়ে শিব-গৌরী সাজেন অনেকেই। এর পাশাপাশি নন্দী, ভৃঙ্গী ভুত-প্রেত, দৈত্য, দানব প্রভৃতি হরেক ধরনের সং সেজেও নৃত্য করেন অনেকে। লৌকিক ছড়া, আবৃত্তি, অন্যান্য গানও করা হয়।

পৌরাণিকভাবে গাজন উৎসবের সূচনা নিয়ে নানা কাহিনী প্রচলিত। লোকবিশ্বাস এই যে, বান নামে এক রাজা ছিলেন প্রবল শিবভক্ত। তিনি দেবাদিদেব মহাদেবকে তুষ্ট করতে কঠোর তপস্যা করেন। শিবভক্তির সেই সূত্র মেনে এখনও পর্যন্ত সন্ন্যাসীরা চড়কের বাণ পরেন। কাঁটার উপরে ঝাঁপও দেন। গাজনে যেন এক প্রকার কৃচ্ছ্রসাধনের ব্রত পালন করেন সন্ন্যাসীরা। আগুন ঝাঁপ, কাঁটা ঝাঁপ, কপাল-জিভ ফোঁড়া ইত্যাদি দেখা যায়। অসিপত্রব্রত নামেও একপ্রকার ঝাঁপচড়ক ছিল আগে। গবেষকরা বলছেন, ১৪৮৫ সালে রাজা সুন্দরানন্দ ঠাকুর প্রথম চড়ক পুজোর প্রচলন করেন। সেই থেকেই এই প্রথা মেনে আসছেন হিন্দু ধর্মাবলম্বী মানুষজন।

গাজনের এই পুজোর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ভূত-প্রেত, পুনর্জন্ম প্রভৃতি বিষয়। এক সময়ে গাজনের সন্ন্যাসীরা হুড়কো দিয়ে নিজেদেরকে চাকার সঙ্গে বেঁধে দ্রুত বেগে ঘুরতেন। সেসময় ব্রিটিশ সরকার আইন প্রণয়ন করে এই প্রথা বন্ধ করে দিয়েছিল। তবে বর্তমান সময়ে কোনও কোনও স্থানে এই রীতি দেখা যায়। গাজনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল, এই সময়ে অন্ত্যজ শ্রেণির নারী-পুরুষ নির্বিশেষে প্রত্যেকেই সন্ন্যাস ধর্ম পালন করতে পারেন। অনেক ক্ষেত্রে আবার দেখা যায় শিব-পার্বতী সেজে কেউ কেউ ভিক্ষা পাত্র নিয়ে ঘোরেন। সারাদিন বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে ঘুরে আতপ চাল, কাঁচা আম, কাঁচা কলা প্রভৃতি সংগ্রহ করেন। একে বলে মাধুকরী বা মাদগিরি।

পশ্চিমবঙ্গের উত্তর থেকে দক্ষিণ, সর্বত্রই গাজন উৎসব দেখা যায়। পুরুলিয়া-মালদা জেলায় গম্ভীরা উৎসব পালিত হয় এই সময়। কোথাও তা চৈত্র সংক্রান্তি থেকে হয়, কোথাও তা আবার পয়লা বৈশাখে হয়। চার দিন ধরে চলে এই উৎসব। একদিকে যেমন শিব আরাধনা চলে, তেমনই অন্যদিকে দৈনন্দিন জীবনের নানাবিধ সমস্যার কথা সন্ন্যাসী তথা ভক্তরা দেবাদিদেব মহাদেবের উদ্দেশে বলতে থাকেন। সেখানে সমস্ত ধরনের কথাই খোলামেলাভাবে বলা হয়। পশ্চিমবঙ্গের জেলাগুলির পাশাপাশি কলকাতাতেও দেখা যায় চৈত্রসংক্রান্তির সঙ সাজা। দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুরে সঙ বের হয়। কলকাতার জেলেপাড়ার সঙের কথাও কমবেশি সকলেই জানেন। এর পাশাপাশি কালীঘাটের নকুলেশ্বরতলা-সহ বেশ কিছু জায়গায় আজও গাজন পালিত হয়। কাঁসারিপাড়ার সঙও বেশ নামকরা।

চৈত্র মাসের শেষ সপ্তাহ জুড়ে সন্ন্যাসী বা ভক্তদের মাধ্যমে শিবের গাজন অনুষ্ঠিত হয়। চৈত্রসংক্রান্তিতে চড়কপূজার সঙ্গে এই উৎসবের সমাপ্তি ঘটে। গাজন সাধারণত তিনদিন ধরে চলে। এই উৎসবের একটি অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হল মেলা। চৈত্রসংক্রান্তির গাজনে কালীনাচ একটি উল্লেখযোগ্য অনুষ্ঠান। ধর্মের গাজনের বিশেষ অঙ্গ হল নরমুণ্ড বা গলিত শব নিয়ে নৃত্য বা মড়াখেলা (কালিকাপাতারি নাচ)। জ্যৈষ্ঠমাসে মনসার গাজনে মহিলা সন্ন্যাসী বা ভক্ত্যারা অংশ নেন, তাঁরা চড়কের সন্ন্যাসীদের মতোই অনুষ্ঠান পালন করেন। বর্ধমান জেলার পাঁড়ুই গ্রামের শিবের গাজন পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রিয় গাজনগুলির মধ্যে অন্যতম। এখানে প্রতি বছর আঠাশ ফলের দিন অর্থাৎ আঠাশে চৈত্র, শ্মশানচিরন নামে বিশাল আচারঅনুষ্ঠান হয়। যা প্রায় ৫০০ বছরের পুরনো। পাঁড়ুই গ্রামটি সংবাদপত্রের শিরোনাম হয়েছিল এক যুগ আগে।

শ্রীখণ্ড গ্রামের গাজন ‘বাবা দুগ্ধকুমার শিবের গাজন’ হিসেবে বিখ্যাত। জলপাইগুড়ির গাজনের নাম গমীরা। বাঁকুড়া জেলার ছাতনা থানার ঝাঁটিপাহাড়ী গ্রামের গাজনও খুব বিখ্যাত। তবে তা চৈত্র মাসে নয়, জ্যৈষ্ঠ মাসের পঁচিশ-ছাব্বিশ তারিখ নাগাদ পালিত হয়। এই অনুষ্ঠানটি হুজুগে গাজন উৎসব নামে পরিচিত। যেহেতু এটি চৈত্রের চৌহদ্দির বাইরে।

তবে কলকাতার ছাতুবাবু-লাটুবাবুর বাড়িসংলগ্ন বাজারেও এখনও চড়ক ও গাজন হয় ধূমধাম করে, হুতোমও যখন শহর কলকাতায় চড়কের ক্লাসিক্যাল বিবরণ দিয়েছেন, তখন গাজন যে বঙ্গজীবনে সর্বব্যাপ্ত ছিল, তা বেশ বোঝা যায়। লৌকিক ছড়াতেও স্থান করে নিয়েছে গাজন। ‘আমরা দুটি ভাই, শিবের গাজন গাই/ ঠাকুমা গেল গয়া-কাশী, ডুগডুগি বাজাই।’

বাংলা প্রবাদেও গাজনের হাঁকডাক, —

১. শিবের খোঁজ নেই, গাজনের ঘটা।

২.গাজনে উঠলে বাপকে শালা বলে।

৩. গাজনের নেই ঠিকঠিকানা/ডাক দিয়ে বলে- ঢাক বাজা না!

৪. ভরা গাজনে ঢাক ছেঁড়া।

৫. অধিক সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট।

আসলে আমাদের ভাষাবিদরা অনেকে মিলে সেমিনার-টেমিনার করে যে ব্যুৎপত্তিগুলি বার করেন, সেগুলি বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বেঠিক হয়। হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় বঙ্গীয় শব্দকোষ লিখতে গিয়ে যেভাবে তদ্গত হয়ে থাকতেন, সেরকমটা আর দেখা যায় না।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন