পরিচিত ও প্রচলিত স্বাধীনতা সংগ্রামীদের নির্ঘণ্টে কিঞ্চিত অবিজ্ঞাপিত নাম হল বিপ্লবী হেমন্তকুমার সরকার। কিন্তু পরাধীন ভারতের নদিয়া জেলা তথা বাংলার বিপ্লবী আন্দোলনের পরিবেশে এই নামটি অচেনা ছিল না। প্রচারে অনালোকিত এই মেধাবী বিপ্লবীর উপস্থিতি স্বাধীনতা সংগ্রামে ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছিল। শুধু তাই নয়, গভীরে অবলোকন করলে তাঁর ব্যক্তিত্বের একাধিক স্তর উন্মোচিত হয়, যা অভাবিত প্রসন্নতা আনে। প্রশ্ন জাগতেই পারে যে কিভাবে এই বহুমুখী প্রতিভার গৌরাবান্বিত কাহিনী মানুষের কাছে অবজ্ঞাত। জনপ্রিয়তার শীর্ষে তিনি অদৃশ্য। অথচ বারংবার বিশ শতকের খ্যাতনামা বিপ্লবীদের সাথে তাঁর নাম উল্লেখিত হয়েছে। তবুও হেমন্তকুমার সরকার যেন চর্চার বাইরে রয়ে গেছেন।

সুভাষচন্দ্র বসুর সহপাঠী ও সহচর হেমন্তকুমার সরকার ছিলেন চিত্তরঞ্জন দাশের অনুগত শিষ্য। তিনিই চিত্তরঞ্জন দাশের সঙ্গে সুভাষচন্দ্রের পরিচয় করিয়েছিলেন। নেতাজীর আত্মজীবনীতে রয়েছে যে হেমন্তকুমার সরকারই তাঁকে রাজনীতিতে আসার প্রেরণা যুগিয়েছিলেন। হেমন্তকুমারের সাথে সুভাষের পরিচয় ঘটিয়েছিলেন তাদের শিক্ষক বেণীমাধব দাস। এই কিংবদন্তী শিক্ষকের নিবিড় সান্নিধ্যে এসেই হেমন্তকুমার স্বদেশ প্রেমের মন্ত্রে উদ্বুদ্ধ হয়েছিলেন। বেণীমাধব দাস পূর্বে কটকে Ravenshaw Collegiate School-এ হেডমাস্টার ছিলেন, সুভাষ, সেখানে তাঁর অতি প্রিয় ছাত্র ছিলেন। তিনি ১৯১১ খ্রিস্টাব্দে কৃষ্ণনগর কলিজিয়েট স্কুলে (ব্যরিস্টার মনোমোহন ঘোষের বসতবাটি) হেডমাস্টার হয়ে এলে বিপ্লবের সাথে হেমন্তকুমারের যোগসূত্রতা ঘটে। বেণীবাবুকে তারা যে দেবতাজ্ঞানে ভক্তি করতেন তা হেমন্তকুমারের অপ্রকাশিত আত্মজীবনী থেকে জানা যায়। সেখানে বন্ধু সুভাষের প্রসঙ্গেও একাধিক অবিমিশ্র ঘটনার উল্লেখ রয়েছে। সুভাষের মথুরা লীলার কথা সকলেই জেনেছেন কিন্তু তিনি যখন বৃন্দাবনে রাখাল বালকদের সঙ্গে গোঠে মাঠে খেলা করত সেই লীলার প্রধান সঙ্গী হিসাবে হেমন্তকুমার সরকারের বিবরণ খুব মূল্যবান। ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দে হেমন্ত ও সুভাষ দুই বন্ধু সন্ন্যাস জীবন গ্রহণের জন্য বাড়ি থেকে পালিয়েছিলেন। হরিদ্বার, মথুরা, বৃন্দাবন, কাশী, গয়া প্রভৃতি জায়গায় সন্ন্যাসী হয়ে ঘুরেও ছিলেন। কিন্তু সারা ভারত ভ্রমণ করেও গুরুলাভ হল না। কাশীতে থাকতে স্বামী ব্রহ্মানন্দ উপদেশ দিয়েছিলেন বাড়ি ফিরতে। কারণ তাদের মন তখনও সন্ন্যাসের জন্য তৈরি হয়নি। সেখানেই দুই বন্ধুর সন্ন্যাস জীবনের ফুলস্টপ হয়। নইলে হয়তো আজ ইতিহাসে সুভাষচন্দ্র বসুর নাম অন্যভাবে লিপিবদ্ধ হত।

হেমন্তকুমার সরকার দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের স্বরাজ পার্টির প্রধান হুইপ ছিলেন। দেশবন্ধুর ‘বাংলার কথা’ দৈনিক সংবাদপত্রের সহ-সম্পাদক ছিলেন হেমন্তকুমার সরকার। আরও দুটি পত্রিকার সম্পাদনার সাথে যুক্ত ছিলেন। সাপ্তাহিক ‘জাগরণ’ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান সম্পাদক ছিলেন তিনি। ১৯২১ সালে কুষ্টিয়া থেকে পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয়। ১৯২১-১৯২৪ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত তিনি এই দীর্ঘজীবী পত্রিকাটির সম্পাদনা করেন। ব্রিটিশ আমলে পুলিশ এই পত্রিকার অফিসে হানা দিয়েছিল বলেও জানা যায়। হেমন্তকুমার সরকার ভারতবর্ষ স্বাধীন হবার পর ‘পশ্চিমবঙ্গ’ নামে দৈনিকের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক হন। ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দে এটি প্রথম প্রকাশ পায়। তবে এই পত্রিকাটি ছিল স্বল্পায়ু। এই পত্রিকা তৎকালে বিপুল আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। এই পত্রিকায় প্রকাশিত কিছু কিছু সংবাদ প্রফুল্ল ঘোষ মন্ত্রীসভার মনঃপুত না হওয়াতে পত্রিকা সম্পাদককে মোটা জরিমানা করা হয়। প্রথম দুবার সম্পাদকমণ্ডলী জরিমানার টাকা দিলেও তৃতীয় বার আর অর্থদণ্ড দিতে পারেননি। তাই পত্রিকা বাজেয়াপ্ত হয়। সাংবাদিক ও সম্পাদক হিসাবে ‘দৈনিক পশ্চিমবঙ্গ’ ছিল হেমন্তকুমারের পরম সাফল্য। স্বাধীনতার অনতিপূর্বে দেশভাগের কথা চলাকালে তিনি পশ্চিমবঙ্গ আন্দোলন গড়ে তোলেন। এর সভাপতি ছিলেন আই.এন.এ.-র প্রাক্তন মেজর জেনারেল এ.সি. চ্যাটার্জি এবং মুখপত্র ছিল দৈনিক পত্রিকা ‘পশ্চিমবঙ্গ’। এই আন্দোলনের প্রধান দাবি ছিল ধর্মের ভিত্তিতে দেশভাগ হলে বাংলা এবং পঞ্জাব প্রদেশকেও সেই একই ভিত্তিতে ভাগ করতে হবে যাতে পূর্ববঙ্গ বা পশ্চিম পাঞ্জাব থেকে যারা দেশভাগের পর চলে আসতে বাধ্য হবেন তারা একটা আশ্রয়স্থল পান।

হেমন্তকুমারের সাংবাদিক প্রতিভার ন্যায় সাহিত্যিক প্রতিভার বিষয়টিও অদেখা করা যায় না। ছাত্রাবস্থায় শিক্ষকদের প্রিয় শিক্ষার্থী ও সর্বদা ক্লাসে প্রথম স্থানাধিকারী এই বিপ্লবী রাজনৈতিক কার্যকলাপের সমান্তরালে সাহিত্যচর্চা করতেন। তাঁর বেশ কয়েকটি গ্রন্থ কারাগারে থাকাকালে রচিত। তাঁর রচিত গ্রন্থগুলির যে নামের তালিকা পাওয়া যায়, সেটি এইরূপ— স্পস্টকথা (১৯২১ খ্রি.), যুগশঙ্খ (১৯২১ খ্রি.), স্বরাজ কোন পথে? (১৯২২ খ্রি.), বিপ্লবের পঞ্চঋষি (১৯২৩ খ্রি.), ভাষাতত্ত্ব ও বাংলা ভাষার ইতিহাস (১৯২৩ খ্রি.), উল্টোকথা, সুভাষচন্দ্র (১৯২৭ খ্রি.), ভৈরবী চক্র (১৯২৮ খ্রি.), দেশবন্ধু স্মৃতি (১৯৩১ খ্রি.), ধাপার মাঠ (১৯৩৩ খ্রি.), স্বাধীনতার সপ্তসূর্য, সুভাষের সঙ্গে বারো বছর (১৯৪৬ খ্রি.), The Intellectual Laws of Language (Thesis for P.R.S. 1920), Revolutionaries of Bengal (1923)। এছাড়া তাঁর রচিত কয়েকটি পাঠ্য পুস্তক হল— নব বাংলা ব্যকরণ, প্রাথমিক ভূ-পরিচয় ও সমাজ-বিধান, ভারত-কথা প্রভৃতি। কৃষ্ণনগর কলেজে পড়াকালেই হেমন্তকুমারের সাহিত্যের সাথে যোগসূত্রতা গড়ে ওঠে। কৃষ্ণনগর কলেজ পত্রিকার কাজ ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দে ‘Life & Light’ নামে প্রথম শুরু হয়েছিল, যা ১৯১৫-র জুলাই মাসে প্রথম ছেপে বের হয়। এই কলেজ পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন হেমন্তকুমার সরকার। প্রথম থেকেই তাঁর লেখার মধ্যে সমাজ ও বিপ্লব চেতনার ইঙ্গিত ছিল। কিংবা এমন বললে মনে হয় আরও সঠিক হবে যে, তাঁর রচনায়, ধীশক্তির পাশাপাশি চিত্ত পিপাসা ছিল। তিনি ১৯২৩ খ্রিস্টাব্দে ‘বিপ্লবের পঞ্চঋষি’ নামে যে গ্রন্থ লিখেছিলেন সেখানে পাঁচজন ঋষি ছিলেন— জাঁ জ্যাকস্ রুশো, কার্ল মার্কস, জোসেফ মাৎসিনি, বাকুনিন ও লিয়ঁ তলস্তয়। সুতরাং বিশ্ব ইতিহাস থেকেও তিনি সমাজ বিপ্লবের রস উপার্জন করেন। তাঁর রচিত এরকম একাধিক গ্রন্থের পরিচয় পাওয়া যায়। তাঁর কিছু অপ্রকাশিত পাণ্ডুলিপিও বর্তমান পরিবারবর্গের কাছে রয়েছে।

বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী বিস্মৃত এই মনীষার যেটুকু পরিচিতি তাঁর অধিকাংশটাই সর্বহারার নেতা হিসাবে। একদা বাংলার রাজনৈতিক ক্ষেত্রে হেমন্তকুমার সরকার ছিলেন উজ্জ্বল রত্ন। প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে তাঁর প্রবেশ হয় চিত্তরঞ্জন দাশের হাত ধরে। দেশবন্ধু সম্পাদিত ‘নারায়ণ’ পত্রিকায় প্রকাশিত তাঁর ‘ভিখারি’ গল্পের সূত্র ধরেই তিনি প্রথম দেশবন্ধুর সুনজরে আসেন। অসহযোগ আন্দোলন কালে অধ্যাপক সরকার স্বাধীনতা সংগ্রামে আবির্ভূত হন। ফাঁসির দোরগোরায় যেতে না হলেও, একাধিকবার তাঁকে কারাবরণ করতে হয়। বিশেষত নদিয়া জেলার বিপ্লবী কর্মকাণ্ডের সাথে তিনি ওতপ্রোতভাবে যুক্ত ছিলেন। ১৯২১ খ্রিস্টাব্দে কৃষ্ণনগরে ‘গরবিনী কটেজ’-এ প্রথম জাতীয় আন্দোলনের গোপন শিক্ষাকেন্দ্র গড়ে ওঠে। বিপিনচন্দ্র পালের মতো নেতারা কৃষ্ণনগর পাবলিক লাইব্রেরী ময়দানে এসে বিধ্বংসী ভাষণ দিয়ে যান। হেমন্তকুমারের ওপর নদিয়া জেলা কংগ্রেস কমিটির দায়িত্ব বর্তায়। ১৯২২-এর ডিসেম্বরে স্বরাজ্য দল গঠিত হলে হেমন্তকুমার এর সদস্য হন। ১৯২৩ সালে তিনি স্বরাজ্য দলের টিকিটে নদিয়া থেকে Bengal Legislative Council-এর সভ্য নির্বাচিত হন। বঙ্গীয় ব্যবস্থাপক সভার সভাপতি এইচ.ই.এ. কটনের মতে, অধ্যাপক সরকার ছিলেন সেই সভার অন্যতম মেধাবী সভ্য। ১৯২৪-এর বাজেট অধিবেসনে তাঁর বক্তব্যকে The Statesman পত্রিকা ‘the speech of the season’ হিসাবে চিহ্নিত করে। ১৯২৫ খ্রিস্টাব্দে হেমন্তকুমারের রাজনৈতিক পথদিশারী দেশবন্ধুর অকাল প্রয়াণ তাঁকে বিমূঢ় করে। কিছুটা দিগ্ভ্রান্ত হেমন্ত এই পর্বেই মতবিরোধের কারণে কংগ্রেস ছাড়েন। দেশবন্ধুর বিয়োগে তিনি মুজফ্ফর আহমদের মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের সান্নিধ্যে আসেন। নদিয়ার সর্বহারা শ্রেণীর নেতা হিসাবে এরপর থেকে তিনি পরিচিত হন। মুজফ্ফর আহমদের ‘আমার জীবন ও ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি’ গ্রন্থে উল্লেখ আছে— ১৯২৫-এর ১ নভেম্বর কলকাতায় যে ‘লেবার স্বরাজ পার্টি অফ দি ইন্ডিয়ান ন্যাশেনাল কংগ্রেস’ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল তাতে প্রধান উদ্যোগকারীরা ছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম, হেমন্তকুমার সরকার, কুতুবুদ্দীন আহমেদ ও শামসুদ্দীন হুসয়ন সাহেব। হেমন্তর প্রভাবেই সম্ভবত INC অন্তর্ভুক্ত লেবার স্বরাজ পার্টি নামটি হয়েছিল। এ থেকেই হেমন্তর ভূমিকা স্পষ্ট হয়। ১৯২৫-এর ২৫ ডিসেম্বর এই দলের মুখপত্র রূপে বাংলা সাপ্তাহিক ‘লাঙল’ প্রকাশিত হয়। তবে ‘লাঙল’-এর ওপর লেখা হত “শ্রমিক-প্রজা-স্বরাজ দলের মুখপত্র” ১৯২৬ খ্রিস্টাব্দে ৬ ও ৭ ফেব্রুয়ারি কৃষ্ণনগর পাবলিক লাইব্রেরীর ময়দানে নিখিল বঙ্গীয় প্রজা সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেসন বসে, যার অভ্যর্থনা সমিতির সম্পাদক ছিলেন হেমন্তকুমার সরকার। ‘লাঙল’-এ এই সম্মেলন সম্বন্ধে যে ইস্তেহার ছাপা হয়েছিল তা মুজফ্ফর আহমদের ‘কাজী নজরুল ইসলাম স্মৃতিকথা’য় লিপিবদ্ধ রয়েছে। এই সম্মেলনেই স্থির হয় লেবার স্বরাজ পার্টির নাম বদলে হবে দি বেঙ্গল পেজান্টস অ্যান্ড ওয়ার্কারস্ পার্টি (বঙ্গীয় কৃষক ও শ্রমিক দল)। পার্টির পতাকা ছিল কাস্তে হাতুড়ি খচিত লাল পতাকা। নজরুল ইসলামের ‘শ্রমিকের গান’ এই সম্মেলনেরই উদ্বোধন সঙ্গীত রূপে রচিত হয়েছিল। তিনি নিজেই সভায় গানটি গেয়েছিলেন। এই সময়ে হেমন্তকুমার ও নজরুল একত্রে অকিঞ্চনের আন্দোলনে ব্যস্ত থাকেন। দারিদ্রের দিনে নজরুলকে হুগলী থেকে কৃষ্ণনগরে এনেছিলেন (১৯২৬-এর ৩ জানুয়ারি) হেমন্তকুমারই। কৃষ্ণনগরে প্রায় আড়াই বছর থাকাকালে নজরুল ও হেমন্ত খুব কাছাকাছি ছিলেন। কিন্তু ১৯২৮ খ্রিস্টাব্দে নজরুল কলকাতায় চলে গেলে ও মুজফ্ফর আহমেদ মীরাট ষড়যন্ত্র মামলায় গ্রেফতার হলে তাঁর রাজনৈতিক জীবনে সাময়িক বিরতি আসে। এরপর ১৯৩০-এ আইন অমান্য ও ১৯৪০-এ ব্যক্তিগত সত্যাগ্রহ করতে তাঁকে দেখা যায়। স্বাধীনতা পূর্ব ও স্বাধীনোত্তর পর্বে তিনি একাধিক সমাজসেবামূলক কাজে ব্যস্ত থাকেন। জীবনের শেষভাগে মধুমেহ রোগজনিত সমস্যায় কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি হন এবং ১৯৫২-র ২৬ নভেম্বর সেখানেই মারা যান।

নদিয়া তথা বাংলার সুসন্তান হেমন্তকুমার সরকার আজ লোকচক্ষুর অন্তরালে। এমনকি শান্তিপুরের নিকট বাগআঁচরা গ্রাম, যেখানে তাঁর আদি পৈতৃক নিবাস। সেখানেও তাঁর গ্রামের বর্তমান বাসিন্দাদের বেশিরভাগই হেমন্তকুমারকে চেনেন না। আঞ্চলিক স্তরে তিনি এতটাই অনালোচিত যে গ্রামের নতুন বাসিন্দারা হেমন্তকুমার সরকার সম্পর্কে অজ্ঞাত। তাই তাঁর পৈতৃক ভিটেতে পৌঁছতে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়। অথচ বিশ শতকে সেই গ্রামেরই চিত্রশিল্পী অহীন্দ্র চৌধুরীর বাগানবাড়িটি সকলেরই চেনা। সেটি সেই গ্রামের বিশেষ দ্রষ্টব্য স্থানও বটে। আর অন্যদিকে বিপ্লবী হেমন্তকুমারের পৈতৃক ভিটেবাড়ির ভগ্নপ্রায় ভগ্নাংশ অপ্রিয় ভাবে দণ্ডায়মান। তার আবরণ উন্মোচিত। গ্রামের প্রধান রাস্তার ধারে অবস্থিত হলেও, নতুন দালান আদি ভিটে বাড়িটিকে আড়াল করেছে। নতুন ভাবে নির্মিত বাড়িটিতে হেমন্তকুমারের আপ্তগণ বসত করছেন। আর তাঁর আদি ভিটের ভগ্নস্তুপে গজিয়েছে শাখী। অনাতিশয্যতা এবং পুরাতাত্ত্বিক বিভাগের বেনজরদারীর কারণে এটি আজ একটি বেওয়ারিশ দালান হিসাবে দণ্ডায়মান।
লেখক: আঞ্চলিক ইতিহাস লেখক, নদিয়া।
আবারও এসে গেছি নতুন কিছু জানার জন্যে। বাংলার সুসন্তান শ্রী হেমন্তকুমার সরকার এর সম্পর্কে জানতে পেরে খুবই উৎফুল্ল বোধ করছি। আরও লিখতে থাকুন।
ধন্যবাদ জানাই। পাঠকের মন্তব্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
হেমন্ত সরকার সম্বন্ধে এক অনন্য ঐতিহাসিক দলিল পেলাম, দীপাঞ্জনI বিশেষ ভাবে সমৃদ্ধ হ’লামI
ধন্যবাদ স্যার। আপনার এই প্রতিক্রিয়া আমাকে প্রাণিত করে। আমার প্রণাম নেবেন।
খুব ভালো লেখা,ধন্যবাদ দীপাঞ্জন স্যার
স্বল্প পরিসরে বিরাট তথ্য বহুল মরমী লেখা।
তবু্ও যোগ করি, হেমন্ত সরকারের পরিবারের কোন ব্যক্তি এবং বাস স্থান কৃষন নগরে বর্তমানে আছে কি না, থাকলে কোথায়।
নজরুল এবং হেমন্ত কে নিয়েও বোধ হয় অনুরূপ দীর্ঘ একটি লেখা তুমি করতে পারবে।
হেমন্ত সরকার প্রত্যক্ষত কোন আন্দলনে আংশ নি
য়েছিলেন কি।
হেমন্তর সাথে বেনীমাধব পরিবারের বিশেষত বীনা দাশ-এর কোন যোগ ছিল কি।
দীপাঞ্জন বাবু আপনার সঙ্গে কন্টাক্ট করতে চাই,
please mail or call me i want to talk to you . phone- 6295511340