বুধবার | ১৭ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | সকাল ৭:২০
Logo
এই মুহূর্তে ::
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১৩৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ কালীঘাট পটচিত্রের ইতিকথা : মনোজিৎকুমার দাস খোলাখাম : অশোক মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১৩৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ জামা, জামি, জামাইষষ্ঠী : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১৩৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলায় পলিসি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন আবশ্যক : হাসান মোঃ শামসুদ্দীন ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১৩৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ পলাশীর যুদ্ধ ও একটি সিদ্ধান্ত (শেষ পর্ব) : সুব্রত দত্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১৩১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ পলাশীর যুদ্ধ ও একটি সিদ্ধান্ত (প্রথম পর্ব) : সুব্রত দত্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১৩০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১২৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিজুরিকা চক্রবর্তী-র ছোটগল্প ‘একাকিনী’ ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১২৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ মৈত্রেয়ী ব্যানার্জী-র ছোটগল্প ‘আবহমান’ ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১২৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ সুস্বাদু ও রসালো আলুবোখারা–প্রকৃতির এক অনন্য উপহার : রিঙ্কি সামন্ত প্রবাস বাংলা কালচারাল সোসাইটির অনবদ্য সুরঞ্জলি রবীন্দ্র-নজরুল জয়ন্তী : ফারজানা নাজ শম্পা ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১২৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ স্মৃতিবেলা : শিশুবেলা : ড. শিবশঙ্কর পাল ইবোলা ভাইরাস দ্রুত ছড়ালেও আতঙ্ক ছড়াবেন না, সতর্ক থাকাই একমাত্র পথ : মোহন গঙ্গোপাধ্যায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১২৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ পরিবেশ দিবসে রবীন্দ্রনাথ : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১২৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ সিন্ধুসভ্যতা বিশেষজ্ঞ র‍্যান্ডাল ল’-র সুতকাগেনদোর-সফরের নির্যাস : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১২৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ অয়ন মুখোপাধ্যায়-এর ছোটগল্প ‘পঞ্চাশ নম্বরে নাম’
Notice :

পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই শুভ দোল পূর্ণিমা-র আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন,  ই-মেল : pagefour2020@gmail.com

গান্ধীবুড়ি, বীরাঙ্গনা মাতঙ্গিনী হাজরা

পেজ ফোর, বিশেষ প্রতিনিধি / ১৪০৭ জন পড়েছেন
আপডেট সোমবার, ১৫ আগস্ট, ২০২২

১৯৪২-এর ২৯ সেপ্টেম্বর। বেলা তিনটে। পরাধীন ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের জন্য নিবেদিত বিপ্লবী জনতার মিছিল চলছে এগিয়ে তমলুক থানা ও দিওয়ানি আদালতের দিকে। তমলুক শহরের চারটে প্রধান প্রবেশপথে সেই মিছিল আটকানোর জন্য মোতায়েন করা হয়েছে ব্রিটিশ পুলিশ। বিপ্লবীদের মুখে স্লোগান, ‘ইংরেজ ভারত ছাড়ো’, ‘বন্দেমাতরম’, ‘গান্ধীজি কি জয়’। মেদিনীপুরের তমলুক শহরের উত্তর দিকের গ্রাম হোগলা, আলিনান, জ্যামিট্যা, সোয়াদিঘি, খোসখানা, ডিমারী, বিশ্বাস, ধলহারা, মথুরি, সিউরি থেকে দলে দলে সাধারণ মানুষ রূপনারায়ণ নদের পাড় ধরে হেঁটে আসছে স্লোগান দিতে দিতে। বছরের পর বছর ব্রিটিশ শাসকের অমানবিক অপমানকর অত্যাচার আর সহ্য করা যাচ্ছে না। নিজের দেশেই পরাধীন। সারা শরীরের রক্ত ফুটতে শুরু করেছে জনতার। পায়রাটুঙ্গি খালের কাছে দেওয়ানি কোর্টের পেছনে বানপুকুর পাড়ে বিশাল ব্রিটিশ সেনাবাহিনী অহিংস জনতার মিছিলের পথ আটকে দাঁড়াল। আর এগোলেই গুলি করা হবে। এগোনো চলবে না। সঙ্গে চলল অকথ্য ভাষায় অপমানকর কথা আর অশ্রাব্য গালাগালি। উদ্যত বন্দুকের সামনে তখন আগুনময় উদ্বেলিত জনতা। হঠাৎই মথুরি গ্রামের ১৩ বছরের ছোট্ট রোগা বালক লক্ষ্মীনারায়ণ দাস ছুটে গিয়ে এক ব্রিটিশ পুলিশের হাত থেকে উত্তেজিত হয়ে ছিনিয়ে নিতে গেল নেট বন্দুক। সেই ছোট্ট বালককে পুলিশরা বন্দুকের বাঁট আর বেয়োনেট দিয়ে থেঁতলে থেঁতলে খোঁচা মেরে মেরে খুন করে ফেলল। মৃত্যুযন্ত্রণার বুকচেরা চিৎকার-আর্তনাদ কিছুটা হতচকিত করে ফেলল জনতাকে।

ঠিক তখনই সেই মিছিলের মধ্যে থেকে লোকজন ঠেলে এগিয়ে এলেন ৭৩ বছরের এক বৃদ্ধা। সামনের একজনের হাত থেকে একটা ত্রিবর্ণরঞ্জিত পতাকা নিজের হাতে নিয়ে নিলেন। সামনের একটা বাড়ির দালানে উঠে হতচকিত জনতাকে আহ্বান করে বললেন, “হয় জয়, না হয় মরণ। হয় এগিয়ে যাব নয় মরব। আমি সকলের আগে থাকব। কেউ পিছিয়ে যেও না। এসো। আর যদি কেউ না আসো তবে আমি একাই এই পতাকা নিয়ে এগিয়ে যাব। তাতে যদি মর্তে হয় মরব। এসো আমার সঙ্গে।” সেই মহীয়সী প্রবীণা পতাকাটি নিয়ে শুরু করলেন হাঁটা। দেশমুক্তির এক অদম্য জেদ এই বৃদ্ধার অন্তরে-বাহিরে। সঙ্গে সঙ্গে ব্রিটিশ শাসকের পুলিশের হুমকি, “খবরদার, এক পা এগোলেই গুলি করব।” যদিও সেই হুমকি টলাতে পারেনি এই তেজস্বিনী বৃদ্ধার গতিপথ। তাঁর লক্ষ্য পরাধীনতার শৃঙ্খল মোচন, দেশের স্বাধীনতা, একমাত্র স্বাধীনতা। অকুতোভয় সেই বৃদ্ধা বন্দেমাতরম বলতে বলতে এগিয়ে চললেন। হঠাৎ একটি গুলি ছুটে এসে বিদ্ধ করল বৃদ্ধার বাম হাতটি। রক্তের লাল নদী যেন বইতে লাগল তাঁর বাম হাত-সহ সারা শরীরে। তবু দৃপ্ত পায় এগিয়ে চলতে লাগলেন বৃদ্ধা, অসহ্য যন্ত্রণার মধ্যেও পতাকাটিকে ডান হাতে আঁকড়ে ধরে বানপুকুরের পাড় ধরে।

ব্রিটিশের সেনাবাহিনী আবার গুলি চালাল বৃদ্ধার শরীর লক্ষ করে এবং বৃদ্ধার ডান হাতে গিয়ে বিদ্ধ হল সেই গুলি। রক্তে ভেসে যাচ্ছে দেশমাতৃকার সেই বীরাঙ্গনার পরনের সাদা থান কাপড়টা। গুলিবিদ্ধ জখম দুটি হাত দিয়ে বুকের মাঝে পতাকাদণ্ডটি সন্তানকে আঁকড়ে ধরে রাখার মতো সজোরে ধরে রেখে বৃদ্ধা এগিয়ে চলেছেন, মুখে ‘বন্দেমাতরম, ‘ইংরেজ ভারত ছাড়ো’। রক্তের স্রোত বইছে সারা শরীরে, লাল রক্তের ফোঁটায় ফোঁটায় ভিজে যাচ্ছে পরাধীন দেশের মাটি।

ব্রিটিশ শাসকের অমানবিক পুলিশকর্মী বিস্মিত, ভীত। তাই তারা আরও ন্যক্কারজনক ঘৃণ্য হিংস্রতার পরিচয় দিল। আবার চলল গুলি। সেই গুলি গিয়ে বিদ্ধ হল সেই অহিংসার প্রতীক প্রবীণা মহীয়সীর কপালের কাছে বাঁ চোখের নীচে। গুলিটা তাঁর মাথার খুলি ফাটিয়ে বেরিয়ে গেল। আগ্নেয়গিরির মতো শত সহস্র কোটি ধারায় ছিটকে পড়ল রক্তের বন্যা। মাটিতে লুটিয়ে পড়লেন তিনি। তখনও তাঁর বুকে চেপে ধরা সেই পতাকাটি। রক্তে ভিজে উঠেছে ত্রিবর্ণ পতাকা। নিথর হয়ে পড়ে রইলেন ‘গান্ধীবুড়ি’, ‘বীরাঙ্গনা মাতঙ্গিনী হাজরা’।

মাতঙ্গিনী জন্মেছিলেন মেদিনীপুর জেলার তমলুক থানার হোগলা গ্রামের অতি গরিব এক চাষি পরিবারে।

তখনকার দিনে জন্মতারিখ রাখা হত না। আর মাতঙ্গিনীর জন্ম তো গরিব ও নিরক্ষর এক চাষি পরিবারে। তবুও ঐতিহাসিকরা অনেক চেষ্টা-চরিত্র করে বার করেছেন তাঁর জন্মের সালটি। সেটি হল ইংরাজির ১৮৭০ সাল। তবে সঠিক তারিখটি আজও জানা যায়নি। তাঁর বাবার নাম ছিল ঠাকুরদাস মাইতি। চাষবাস করে তিনি কোনরকমে সংসার চালাতেন। মায়ের নাম ছিল ভগবতী মাইতি। গরিব চাষির ঘর। তার ওপর আবার কন্যা সন্তান। তখনকার দিনে অবস্থাপন্ন ঘরের ছেলেদের মধ্যেই লেখাপড়ার তেমন চল ছিল না। সুতরাং মাতঙ্গিনীরও লেখাপড়া হয়নি একেবারেই। এগারো বছর বয়স হতে না হতেই বিয়ে হয়ে গেল আলিনান গ্রামের ৬২ বছর বয়সী ত্রিলোচন হজরার সাথে । কিন্তু তাঁর বিবাহিত জীবন বেশিদিন স্থায়ী হল না। মাত্র আঠারো বছর বয়সেই স্বামীকে হারালেন তিনি। তখন তিনি ধর্মীয় পথে দীক্ষা নেন।

স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শ ও বাণী তাঁকে বিশেষভাবে উদ্বুদ্ধ করেছিল। স্বামী বিবেকানন্দ দেশবাসীদের উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন- ‘এখন থেকে আগামী পঞ্চাশ বছর তোমাদের একমাত্র উপাস্য দেবতা হবেন- জননী-জন্মভূমি। তাঁর পূজো করো সকলে।’ স্বামীজির কথাটা মাতঙ্গিনীকে বিশেষভাবে স্পর্শ করেছিল। তিনি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করলেন দেশকে বিদেশির শাসনমুক্ত করে দেশবাসীর মুখে হাসি ফোটানোর চেয়ে বড়ো ধর্ম আর কিছুই থাকতে পারে না। তিনি উপনিবেশিক শাসনের থেকে দেশকে মুক্তি সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন এবং মহাত্মা গান্ধীর অহিংস ধর্মমত অনুসরণ করেন।

১৯০৫ সালে প্রত্যক্ষভাবে ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন মাতঙ্গিনী হাজরা। মতাদর্শগতভাবে তিনি ছিলেন একজন গান্ধীবাদী। ১৯৩২ সালে মাতঙ্গিনী আইন অমান্য আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে আলিনান লবণ কেন্দ্রে লবণ উৎপাদন করেন এবং লবণ আইন অমান্য করার জন্য তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। অল্পকাল পরেই অবশ্য তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কর মকুবের দাবিতে প্রতিবাদ চালিয়ে গেলে আবার তাঁকে কারারুদ্ধ করা হয়। এই সময় তিনি বহরমপুরের কারাগারে ছয় মাস বন্দী ছিলেন।

১৯৩২ সালে গান্ধীর আইন অমান্য আন্দোলন-এ (লবণ সত্যাগ্রহ) গ্রেফতার হওয়ার পর শাস্তি হিসেবে তাঁকে দীর্ঘ পথ হেঁটে যেতে বাধ্য করা হয়। তিনি চৌকিদারি ট্যাক্স বন্ধ করে দেওয়ার আন্দোলনেও অংশ নেন। ওই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের শাস্তিদানের উদ্দেশ্যে সরকার কর্তৃক গঠিত বেআইনি আদালতের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে স্লোগান দিয়ে আদালত ভবনের দিকে অগ্রসর হওয়ার সময়ে তাঁকে আবার গ্রেফতার করা হয়। এ সময়ে তাঁকে ছয় মাসের কারাদন্ড দিয়ে বহরমপুর জেলে পাঠানো হয়।

জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর মাতঙ্গিনী ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের কার্যাবলির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত হয়ে পড়েন। গান্ধীজীর পথ অনুসরণ করে তিনি চরকায় সুতা কাটা ও খদ্দরের কাপড় বোনায় আত্মনিয়োগ করেন। ১৯৩৩ সালে তিনি শ্রীরামপুর মহকুমা কংগ্রেস সম্মেলনে যোগদান করেন। সেখানে প্রতিবাদকারীদের উপর পুলিশ লাঠিচার্জ করে। তিনি সর্বদা মানবতাবাদী উদ্দেশ্য সাধনে নিয়োজিত থেকেছেন। তাঁর অঞ্চলে যখন মহামারী আকারে বসন্ত-রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটে, তখন তিনি আক্রান্ত পুরুষ, নারী ও শিশুদের সেবা করেছেন। জনগণ সোহাগভরে তাঁকে ‘গান্ধী বুড়ি’ বলে ডাকত।

ভারত ছাড় আন্দোলন (১৯৪২) চলাকালে মেদিনীপুরের জনগণ থানা, আদালত ও অন্যান্য সরকারি অফিস জোরপূর্বক দখল করার উদ্দেশ্যে আক্রমণের পরিকল্পনা করছিল। ওই সময় ৭২ বছর বয়সী মাতঙ্গিনী শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দেন। ২৯ সেপ্টেম্বর পুলিশ গুলি চালালে তিনি অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবকদের পিছনে রেখে নিজেই এগিয়ে যান। পুলিশ তিনবার তাঁকে গুলি করে। গুলি লাগে তাঁর কপালে ও দুই হাতে। তবুও তিনি এগিয়ে যেতে থাকেন। এরপরেও বারংবার তাঁর উপর গুলিবর্ষণ করা হয়। জাতীয় পতাকাটি মুঠোর মধ্যে শক্ত করে উঁচিয়ে ধরে বন্দেমাতরম ধ্বনি উচ্চারণ করতে করতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

সেদিন মাতঙ্গিনী হাজরার মৃত্যুবরণের দৃষ্টান্তটি মানুষকে বিপ্লবের পথে উদ্বুদ্ধ করে তুলেছিল। ১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীনতা অর্জন করলে অসংখ্য স্কুল, পাড়া ও রাস্তার নাম মাতঙ্গিনী হাজরার নামে উৎসর্গ করা হয়। স্বাধীন ভারতে কলকাতা শহরে প্রথম যে নারীমূর্তিটি স্থাপন করা হয়েছিল, সেটি ছিল মাতঙ্গিনী হাজরার মূর্তি। ১৯৭৭ সালে কলকাতার ময়দানে এই মূর্তিটি স্থাপিত হয়।

তমলুকে ঠিক যে জায়গাটিতে তিনি মৃত্যুবরণ করেছিলেন, সেই জায়গাটিতেও তার একটি মূর্তি আছে। ২০০২ সালে ভারত ছাড়ো আন্দোলন ও তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকার গঠনের ৬০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে ভারতের ডাকবিভাগ মাতঙ্গিনী হাজরার ছবি দেওয়া পাঁচ টাকার পোস্টাল স্ট্যাম্প চালু করে।

প্রভাবতী সিনহার সাক্ষাৎকার

গৌতম চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত ‘ভারত ছাড়ো আন্দোলন, বিপ্লবীদের মুলহোমুখি’ পুস্তক (জানুয়ারি ২০০২) থেকে এই সাক্ষাৎকারটি পুনর্মুদ্রিত হল।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন