| | |
এই মুহূর্তে ::
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৮৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ সিংহবাহিনী দুর্গা মৃগবাহিনীও : শ্যামলকান্তি চক্রবর্তী দেবদেবীর পূজায় দুর্বার প্রয়োজন কেন ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৮৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৮৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ সাহিত্যে নোবেলজয়ী অ্যান কারসন-এর শব্দের ব্যুৎপত্তির ধারণা : অসিত দাস মিয়ানমার সংকটের রাজনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা : হাসান মোঃ শামসুদ্দীন ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৮৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৮৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেলেন কানাডার কবি অ্যান কারসন : অসিত দাস পেজফোরনিউজ-এর শারদোৎসব বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ প্রকাশিত হল ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৮৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ একটি অব্যক্তিগত বয়ান : তপোধীর ভট্টাচার্য মহালয়ার প্রার্থনা : সুব্রত দত্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৮৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিশ্বজিৎ মণ্ডল-এর ছোটগল্প ‘এক টুকরো ভোর’ আশ্বিনের শারদপ্রাতে : যশোবন্ত রায় আমার ছেলেবেলার মহালয়ার সকাল : পীযূষ কান্তি দাস পর্দার দাপুটে নায়ক, বাস্তব জীবনে মানবতাবাদী — নানা পাটেকরের জীবন ও অবিনশ্বর কীর্তি : রিঙ্কি সামন্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৮২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ সসীমকুমার বাড়ৈ-এর ছোটগল্প ‘প্রকৃতি বিভাজন খেলা’ মিরকাশিমের বীরকুল, হেস্টিংসের ব্রাইটন, জন ফ্র্যাঙ্ক স্নেইথ-এর দীঘা : সুব্রত গুহ ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৮১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ SIR-এর ফাঁসে জ্ঞানেশ কুমার, কমিশনের অন্দরে অশান্তি (শেষ কিস্তি) : দিলীপ মজুমদার রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে পাঁচ দফা কৌশল বাস্তবায়নের রোডম্যাপ : হাসান মোঃ শামসুদ্দীন কলকাতার নব্য কাজিয়ার দুর্গা : অসিত দাস SIR-এর ফাঁসে জ্ঞানেশ কুমার, কমিশনের অন্দরে অশান্তি (সপ্তম কিস্তি) : দিলীপ মজুমদার আমাদের নিখোঁজ শিশুরা: সংখ্যার বাইরে যে প্রশ্নগুলো জরুরি : নিকোলাস বিশ্বাস
Notice :
❅ পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই পিতৃ পক্ষের শেষ, মাতৃপক্ষের সূচনা শুভ মহালয়ার আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন, ই-মেল : pagefour2020@gmail.com, আমাদের পোর্টালের কিছু ছবি বাদে প্রায় সব ছবিই অন্তর্জাল থেকে সংগ্রহ করা হয়। কারুর যদি কপিরাইট থাকে জানাবেন। আমরা সেই ছবি পোর্টাল থেকে ডিলিট করে দেব।

ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৮৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ

Reporter
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গা / ৭১ Views জন পড়েছেন
আপডেট বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬

[সংক্ষিপ্তসার — গ্রান্ট এখানে রাজকোষের স্মারকলিপি-র একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ তুলে ধরেছেন — এটা ১১৮২ বঙ্গাব্দের ৬ই মাঘ (১৭৭৬-এর জানুয়ারি) উচ্চপদস্থ এক ইংরেজ কর্মকর্তার হাতে দেওয়া হয়েছিল। এই নথি যৌথভাবে দিয়েছিলেন কানুনগো লক্ষ্মীনারায়ণের গোমস্তা শ্রীনারায়ণ এবং কানুনগো মহেন্দ্রনারায়ণের সেরেস্তাদার নরসিংহ। স্মারকলিপিতে দুই সুবাদারের শাসনামলের হিসাব রয়েছে — ১. জাফর খান (১৫ বছর ৯ মাস ৫ দিন)- বাংলা, ওড়িশা ও বিহার থেকে আদায় করা মোট সাম্রাজ্য রাজস্ব ১৬,৫১,০০,৩০৬ টাকা — যার পুরোটাই দিল্লিতে পাঠানো হয়। ২. সুজা-উদ-দৌলা (১০ বছর ৬ মাস ২২ দিন)- বাংলা ও বিহারের আদায় ১১,৩১,৪০,৩৩৮ টাকা; দিল্লিতে পাঠানো — নগদ, বিনিময় বিল, পরিবহন ব্যয় ও ধার পরিশোধ সহ। ওড়িশা ছিল মোহাম্মদ টুকি খানের আলাদা শাসনে। দুই শাসনামলে বাংলা সুবা থেকে মোট পাঠানো হয়- ২৭,৩৪,৯৭,১১৩ রুপি। এর মধ্যে খাসনভিসি — একমাত্র স্বীকৃত স্থায়ী অতিরিক্ত কর — ১,১০,৭১,০৬৮ রুপি; বার্ষিক গড়ে ৪,৭৮,৮৪২ রুপি। গ্রান্টের লক্ষ্য হলো — জাফর খানের ব্যক্তিগত সম্পদ বিশ্লেষণ। তিনি দেখান — প্রাচ্যের রাষ্ট্রনীতিতে সরকারি কর্মকর্তার মৃত্যুর পর তাঁর সম্পত্তির ওপর রাজকীয় মালিকানা প্রতিষ্ঠিত হতো। জাফর খানের উত্তরাধিকারী সম্রাটের কোষাগারে ৬১ লক্ষের কিছু কম সম্পদ জমা দেন; ঋণ পরিশোধে ১৪ লক্ষেরও বেশি বাদ দিতে হয়। গ্রান্টের মতে — জাফর খানের প্রকৃত সম্পদ ছিল এক কোটি সত্তর লক্ষ; যার সিংহভাগ অর্জিত হয়েছিল গোপন ও অসাধারণ আদায়ের মাধ্যমে — বার্ষিক প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা। গ্রান্ট আরও দেখান — সুজা-উদ-দৌলার শ্বশুর-সংক্রান্ত সম্পত্তির হিসাব থেকে তাঁর হাতে নগদ ও রত্নালঙ্কার মিলিয়ে এক কোটি সত্তর লক্ষ সম্পদ অবশিষ্ট ছিল। একইভাবে তাঁর পুত্র সরফরাজ খান-এর সুবাদারি আরোহণের সময়ও সমপরিমাণ সম্পদের হিসাব ধরা যায়। সবশেষে গ্রান্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি উল্লেখ করেন — যে প্রাচ্যদেশীয় শাসক শান্তির দশ বছরে এমন তহবিল গড়ে তোলেন না যা যুদ্ধের ব্যয় নির্বাহে সক্ষম, তিনি অদূরদর্শী। কারণ শান্তির সময়ে যে ভূখণ্ড বার্ষিক আয়ের অন্তত এক-পঞ্চমাংশ সাশ্রয়ের সুযোগ দেয় না, তা অধিকার করে রাখার বিশেষ মূল্য নেই।]

হিন্দুস্তানের সর্বত্র এই শতাব্দীর শুরু থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত মুঘল প্রতিনিধিত্বমূলক সরকারের যে সর্বজনবিদিত রীতি অনুযায়ী উল্লিখিত অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হতো, তা এই বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য আলাদা কোনো প্রমাণের প্রয়োজনীয়তা রাখে না; অন্যথায়, আলোচ্য সময়ের বারো বছর পরের একটা আনুমানিক রাজস্ব আদায়ের হিসাব — যা আমাদের কাছে সংরক্ষিত আছে — তাকে এক্ষেত্রে সবচেয়ে অকাট্য প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করা যেত। রাজনৈতিক আলোচনার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অন্য একটা বিষয়কে আনুষঙ্গিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যেই আমরা এখানে আমাদের মূল আলোচনার ধারাবাহিকতা ক্ষুণ্ণ করে পূর্বোল্লিখিত একটা নথির কিছু বিবরণ তুলে ধরছি; একই সাথে, এই বিবরণ আমাদের তুলে ধরা বক্তব্যের সত্যতা প্রমাণেও সহায়তা করবে। বিষয়টির নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে শুরুতেই জানিয়ে রাখা প্রয়োজন যে, ১১৮২ বঙ্গাব্দের ৬ই মাঘ (অর্থাৎ ১৭৭৬ সালের জানুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময়ে) জনৈক উচ্চপদস্থ ইংরেজ কর্মকর্তাকে এই নথির প্রতিলিপি তুলে দেওয়া হয়েছিল – যৌথভাবে দিয়েছিলেন কানুনগো লক্ষ্মীনারায়ণের গোমস্তা শ্রীনারায়ণ এবং অন্য কানুনগো মহেন্দ্রনারায়ণের সেরেস্তাদার নরসিংহ। এরপর সুজা খানের আমলে — ১১৩৫ বঙ্গাব্দে — বাংলার খাসমহলগুলোর এহতিমামবন্দীর (যা মূলত তশখিস-জমা-তুমারি বা রাজস্ব নির্ধারণের হিসাব) সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করা হয়েছে। একই সময়ের জায়গির বরাদ্দ ও সেই সংক্রান্ত মন্তব্য; এবং ১৭৬৫-তে আমাদের প্রথম বন্দোবস্তের আওতাভুক্ত দেওয়ানি ভূমির জমা বা রাজস্বের প্রধান খাতগুলো — যার সবকিছুই হাল আমলে প্রকাশিত এবং মিস্টার [ফিলিপ] ফ্রান্সিসের রাজস্ব বন্দোবস্ত-বিষয়ক পরিকল্পনার সাথে সংযুক্ত অনুরূপ অনূদিত হিসাবের সাথে হুবহু মিলে যায়। মূল নথিপত্রের অতিরিক্ত অংশ — যা হয়তো একইভাবে আগে উপস্থাপন করা হয়নি — তা থেকেই আমরা বর্তমান বিবরণ সংগ্রহ করেছি; সংক্ষিপ্ত বিবরণটি তুলে ধরা হলো এবং এর শিরোনাম হলো —

বাংলা সুবা ইত্যাদি থেকে রাজদরবারে প্রেরিত রাজকোষের স্মারকলিপি;

যথা —

প্রথমত — জাফর খানের শাসনামলে — ১ম শেফার থেকে ১ম বছর শেহুদ মীরহুম (অর্থাৎ তুরখশীর) থেকে ৯ম ফেরদস আরামগাহ (মোহাম্মদ শাহ)-এর ৫ই জিলকদ পর্যন্ত — ১৫ বছর ৯ মাস ৫ দিন।

রাজকীয় কোষাগারের হিসাবে আদায়-

বাংলা সুবার মহল ও সায়েরের জমা তুমারী … ১৪,০৭,৩৮,১৩৬ ১ ৮

ওড়িশা সুবার জমা তুমারী … ৩৮,৩৭,১৫১ ৯ ২

বাগেলপুর বা বিহার সুবার জমা তুমারী … ৭,২১,২৪৫ ৩ ০

খালসা শরীফার প্রতিষ্ঠিত পাওনার সংগৃহীত পরিমাণ … ১৪,৫২,৯৬,৫৩২ ১৩ ১০

পেশকাশ ও পরিবর্তনশীল আয় — বাংলার নজর ঈদৈন, জায়গিরদারদের থেকে সংগৃহীত … ১,২৮,৩৯,৯৯৮ ১৫ ৫

ওজুহাত খাসনভিসি ইত্যাদি … ৬৭,৬৫,৪৮০ ১৩ ১৫

প্রয়াত কমল-উদ-দীন খানের প্রভাব … ১,৯৮,২৯৪ ০ ০

মোট … ১,৯৮,০৩,৭৭৩ ১৩ ০

তিন সুবার সাম্রাজ্য রাজস্বের মোট আদায় … ১৬,৫১,০০,৩০৬ ১০ ০

দিল্লিতে রাজকোষের পাঠানো হল-

বাংলা সুবার হিসাবে … ১৬,০৫,৪১,৯০৯ ১৪ ৭

ওড়িশা সুবার হিসাবে … ৩৮,৩৭,১৫১ ৯ ২

বাগেলপুর বা বিহার সুবার হিসাবে … ৭,২১,২৪৫ ৩ ০

মোট প্রেরণ — বিল, রাজকোষ বা পরিবহন ব্যয়সহ … ১৬,৫১,০০,৩০৬ ১০ ০

দ্বিতীয়ত — সুজা-উদ-দৌলার শাসনামলে — মোহাম্মদ শাহের ৯ম বছরের ৬ই জিলকদ থেকে একই রাজত্বের ২৭শে জমাদিউল আউয়াল পর্যন্ত — যা ১১৪৩ বঙ্গাব্দের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ; সময়কাল ১০ বছর ৬ মাস ২২ দিন।

সংগৃহীত — পূর্ববর্তী হিসাব অনুযায়ী, তবে দশটি অঙ্কে বিস্তারিত; যথা-

বাংলা জমা তুমারী খালসা শরীফা … ৯,৯৪,৭৫,৮৩১ ১৩ ১৯

পেশকাশ ও পরিবর্তনশীল আয় — নজর ঈদৈন … ৮,৫৬,৯১৮ ৮ ০ – ওজুহাত খাসনভিসি ইত্যাদি … ৫২,০৫,৫৭৭ ১০ ০; প্রয়াত জাফর খানের প্রভাব … ৬০,৯৩,২২৭ ৫ ৩; ইব্রাহিম আলী খানের প্রভাব … ১,০০,০০০ ০ ০; নাজির আহমেদের প্রভাব … ১,০২,৬৪৮ ৪ ০; কোলা পূষণ — ইওরোপীয় কারখানা … ৫,৬৫,০০০ ০ ০; ইয়াফত খেদমত — জমিদারি ও অন্যান্য পদের অনুদানের ফি … ৪,৫০,০০০ ০ ০; বীরভূমের জমিদার বেদিয়া-উল-জামানের ওপর জরিমানা … ১,০৬,০০০ ০ ০ – মোট … ১,৩৪,৭৯,৩৭১ ১১ ৪

বাগেলপুর বা বিহার সুবা, একই সময়ে … ১,৮৫,১৩৫ ৫ ৫

উভয় প্রদেশে সংগৃহীত সাম্রাজ্যিক রাজস্বের স্বীকৃত মোট … ১১,৩১,৪০,৩৩৮ ১৪ ৮ (দ্রষ্টব্য — ওড়িশা প্রদেশ ছিল মোহাম্মদ টুকি খানের শাসনে — সুজার অবৈধ পুত্র, অথবা মুর্শিদকুলি খানের জামাতা।)

দিল্লিতে পাঠানো — প্রতিটা সুবার আদায়ি অর্থের সমান পরিমাণে; বিস্তারিত – নগদে … ৮,১২,২৭,৬৭৪ ৯ ৩; বিনিময় বিল … ২,৯৯,৫৭,৪৭০ ১৫ ৫; পরিবহন ও হিন্দুয়াত ব্যয় … ৪,৯০,১৯৩ ৬ ০; জাফর খানের শাসনামলে বণিক ও ব্যাংকারদের থেকে ধার করা অর্থের পরিশোধ … ১৪,৬৫,০০০ ০ ০ । মোট … ১১,৩১,৪০,৩৩৮ ১৪ ৮

উভয় শাসনামলে বাংলা সুবার হিসাবে মোট প্রেরণ — রুপি ২৭,৩৪,৯৭,১১৩ ৭ ১০। এর মধ্যে খাসনভিসি — যা আসল তুমার জুমার অতিরিক্ত ধার্যকৃত সব করের মধ্যে একমাত্র স্বীকৃত স্থায়ী কর — ছিল ১,১০,৭১,০৬৮ ৭ ১৫; অথবা ২৫ বছরের বার্ষিক গড়ে ৪,৭৮,৮৪২ রুপি।

টীকা ১

রাজকোষের স্মারকলিপি- টেকনিক্যাল শব্দের তালিকা ও বর্ণনা

১. শেফার (Seffer) — মুঘল আমলের চান্দ্র মাসের নাম — হিজরি বর্ষের দ্বিতীয় মাস।

২. শেহুদ মীরহুম (Shehud Meerhoom) — মূলত মুঘল আমলে যুদ্ধক্ষেত্রে বা কোনো মহৎ উদ্দেশ্যে নিহত সম্মানিত ব্যক্তিদের পরিবারের জন্য বরাদ্দকৃত রাজস্ব-মুক্ত নিষ্কর জমি বা বিশেষ ভাতা (Madad-i-Maash / Altamgha)-কে বোঝানো হয়েছে। মুঘল ও নবাবী আমলে যেসকল সৈনিক বা ব্যক্তিবর্গ রাষ্ট্রের সুরক্ষায় বা কোনো ধর্মীয়/ন্যায্য সংগ্রামে প্রাণ হারাতেন (শহীদ হতেন), তাদের পরিবারকে “শহীদ মরহুম”-এর ওয়ারিশ হিসেবে গণ্য করা হতো। জমি ছাড়াও অনেক সময় রাজকোষ থেকে এই শহীদ পরিবারগুলোকে নিয়মিত আর্থিক অনুদান বা ভাতা দেওয়া হতো, যাকে রাজস্বের পরিভাষায় ‘মদদ-ই-মাশ’ (Madad-i-Maash) বা ‘আলতামগা’ (Altamgha) গ্রান্টের অংশ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হতো।

৩. ফেরদস আরামগাহ (Ferdose Aramgah) — হয়ত স্বর্গীয় বা প্রয়াত কোনো শাসকের আমলে দেওয়া ভূমি ও রাজস্ব মঞ্জুরি (Revenue Grant)। মুঘল আমলে কোনো মৃত সম্রাট বা নবাবকে সরাসরি নামে না ডেকে শ্রদ্ধা জানিয়ে “জান্নাত আরামগাহ” (স্বর্গে বিশ্রাানিরত) বা “ফেরদস আরামগাহ” বলে সম্বোধন করা হতো। “আরামগাহ” শব্দটি কবরস্থান বা সমাধিস্থল অর্থেও ব্যবহৃত হয় (যেমন- পারসি ঐতিহ্যে কবরস্থানকে আরামগাহ বলা হয়)। সেক্ষেত্রে রাজস্ব নথির এই মিনিটে কোনো ধর্মীয় স্থান, সমাধি বা স্থায়ী পুণ্যভূমির রক্ষণাবেক্ষণের জন্য চিরস্থায়ীভাবে করমুক্ত জমি বা রাজস্ব অনুদান দেওয়ার সিদ্ধান্তকে বোঝানো হয়েছে [আমি শিওর নই – অন্য কোনও মানে হতে পারে]

৪. জিলকদ (Zicadeh) — হিজরি বর্ষের একাদশ মাস।

৫. জমা তুমারী (Jumma Toomary) — মুঘল আমলে ভূমির ওপর ধার্য নির্ধারিত রাজস্ব-তালিকা। “জমা” অর্থ মোট আদায়; “তুমারী” অর্থ নির্ধারিত।

৬. মহল (Mhal) — রাজস্বের একক — গ্রাম বা জমিদারির অংশ।

৭. সায়ের (Sair) — রাজস্বের অতিরিক্ত উৎস — বাজার, শুল্ক, টোল, আবগারি ইত্যাদি।

৮. খালসা শরীফা (Khalsa Shereefa) — রাজকোষ — যেখানে সরাসরি রাজস্ব জমা হতো। “খালসা” অর্থ সরাসরি সরকারি ব্যবস্থাপনাধীন; “শরীফা” অর্থ সম্মানিত বা রাজকীয়।

৯. পেশকাশ (Peshcush) — করদ রাজা বা জমিদারদের সার্বভৌম শাসককে প্রদত্ত নির্দিষ্ট কর বা উপঢৌকন।

১০. নজর ঈদৈন (Nuzzer Eyedeen) — ঈদের সময় প্রদত্ত উপহার বা নজরানা। “নজর” অর্থ উপহার; “ঈদৈন” অর্থ ঈদ সংক্রান্ত।

১১. জায়গিরদার (Jageerdar) — সামরিক বা প্রশাসনিক কর্মকর্তা — যিনি বেতনের বিনিময়ে জমি ভোগ করতেন।

১২. ওজুহাত খাসনভিসি (Wojoohat khasnoveessy) — রাজস্বের বিভিন্ন খাত বা অনুচ্ছেদ। “ওজুহাত” অর্থ খাত বা দফা; “খাসনভিসি” অর্থ জমিদারদের বার্ষিক ইজারা নবায়নের সময় আদায়কৃত রসুম। রাজস্বের বিভিন্ন খাত বা অনুচ্ছেদ। [জুহাত’ (Wujuhat) আরবি ‘ওয়াজাহ’-র (Wajah) বহুবচন ‘উজুহ’-রও (Wujuh) বহুবচন (جمع الجمع বা double plural)। সাধারণ অভিধানে এর অর্থ “কারণ”, “দালিলি যুক্তি” বা “কৈফিয়ত”। মুঘল আমলে ভারতের ভূমি আর রাজস্ব ব্যবস্থায় ‘ওজুহাত’ (Wujuhat) বলতে ভূমি রাজস্বের (Land Revenue) বাইরে আদায় করা নানা প্রকারের কর, উপকর, শুল্ক, অনুচ্ছেদ বোঝাত। অনেক ক্ষেত্রে গৃহপালিত পশুর ওপর ধার্য কর (Cattle Tax) বোঝাত। মুঘল আমলে মোট রাজস্ব বা ‘জমা’-র (Jama) প্রধান অংশ আসত ভূমি থেকে, আর বাকি অংশ আসত বাণিজ্যিক শুল্ক ও বিভিন্ন বিবিধ কর থেকে, যা নথিপত্রে সামগ্রিকভাবে ‘ওজুহাত’ বা ‘সায়ের-জিহাত’ (Sair-jihat) নামে লিপিবদ্ধ থাকত। — Bashir Ahmad Qureshi, Standard Twentieth Century Dictionary (Urdu into English)]

১৩. কেমাল-উদ-দীন খান (Kemal ul dien Khan) — কর্মকর্তা — রংপুরের ইজারাদার (Farmer of Rangpur)- ১৭৮১ সালে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির অধীনে রংপুর অঞ্চলের (তুচ্ছ কুন্ডি, কুচবিহার ও রঙ্গমাটি সহ) রাজস্ব আদায়ের বন্দোবস্ত কেমাল-উদ-দীন খানের নামে সম্পন্ন করা হয়েছিল। তৎকালীন নথিতে তাঁর নাম ‘কোমলো দিন হোসেন’ (Comaulo Dhein Hussain) হিসেবেও পাওয়া যায়। গ্রান্ট এবং সমসাময়িক রাজস্ব নথিপত্র অনুযায়ী, কেমাল-উদ-দীন খান ছিলেন মূলত একজন পুতুল বা নামসর্বস্ব ব্যক্তি (Nonentity)। পর্দার আড়ালে আসল রেন্টার বা ইজারাদার ছিলেন কুখ্যাত রাজা দেবী সিংহ, যিনি সরকারের কাছে রাজস্বের জন্য প্রকৃত দায়ী ব্যক্তি ছিলেন। দেবী সিংহ নিজের প্রভাব গোপন রাখতে কেমাল-উদ-দীনকে সামনে রেখে এই ইজারা নিয়েছিলেন। ওয়ারেন হেস্টিংসের আমলে বাংলায় রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে যে ব্যাপক শোষণ ও অনিয়ম চলেছিল, গ্রান্ট তাঁর মিনিটে এই চরিত্রগুলোর মাধ্যমে তা বিশ্লেষণ করেছেন। উল্লেখ্য, এই কেমাল-উদ-দীন খানই মহারাজ নন্দকুমারের বিরুদ্ধে জালিয়াতির বিখ্যাত মামলায় অন্যতম প্রধান সরকারি সাক্ষী ছিলেন।

১৪. সাম্রাজ্যিক রাজস্ব (Imperial Revenue) — মুঘল সম্রাটের প্রাপ্য রাজস্ব — যা তিনটি সুবা (বাংলা, বিহার, ওড়িশা) থেকে সংগৃহীত।

১৫. বাগেলপুর (Baghelpoor) — বিহার সুবার প্রাচীন নাম — যা বর্তমানে ভাগলপুর নামে পরিচিত।

১৬. দিল্লিতে প্রেরণ (Remittances to Delhi) — রাজকোষের অর্থ দিল্লির সম্রাটের কাছে পাঠানোর প্রক্রিয়া।

১৭. বিল (Bills) — বিনিময় বিল বা হুন্ডি — যার মাধ্যমে দিল্লিতে অর্থ প্রেরণ করা হতো।

১৮. জমাদিউল আউয়াল (Jemade ulawul) — হিজরি বর্ষের পঞ্চম মাস।

১৯. খালসা শরীফা (Khalsa Shereefa) — রাজকোষ — যেখানে সরাসরি রাজস্ব জমা হতো।

২০. ইব্রাহিম আলী খান (Ibrahim Ali Khan) — একজন কর্মকর্তা — গ্রান্ট বেনারসের বিখ্যাত ম্যাজিস্ট্রেট ও বিচারক আলী ইব্রাহিম খানকে একজন “অসাধারণ সততা ও ন্যায়পরায়ণতার অধিকারী ব্যক্তি” (Man of probity) হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আলী ইব্রাহিম খান (যিনি খলিল আজিমাবাদী নামেও পরিচিত) ছিলেন মূলত ১৭৮১ সালে ওয়ারেন হেস্টিংস কর্তৃক বেনারসের দেওয়ানি ও ফৌজদারি আদালতের প্রধান ম্যাজিস্ট্রেট বা জজ নিযুক্ত হওয়া একজন উচ্চপদস্থ মুঘল কর্মকর্তা ও কূটনীতিবিদ। জেমস গ্রান্ট যখন হায়দ্রাবাদ ও বাংলায় ব্রিটিশদের জন্য রাজস্বের উৎস এবং পূর্ববর্তী ইতিহাস অনুসন্ধান করছিলেন, তখন তিনি আলী ইব্রাহিম খানের লেখা মারাঠাদের ইতিহাস-সংক্রান্ত ফারসি গ্রন্থ ‘তারিখ-ই-ইব্রাহিম খান’ (বা ‘তারিখ-ই-মারাঠা’) থেকে গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক তথ্য সংগ্রহ করেছিলেন।

২১. নাজির আহমেদ (Nazir Ahmed) — কর্মকর্তা।

২২. কোলা পূষণ (Kola Pooshan) — ইওরোপীয় কারখানা বা বাণিজ্যকেন্দ্র — যা থেকে রাজস্ব আদায় হতো। এটা আগের কোনও এক কস্তির টিকায় বিশদে ব্যাখ্যা করেছি, আবারও চুম্বকে দিলাম — কোলাপোষ; ইওরোপীয় টুপি (পাগড়ি নয়) পরে এমন। উদাহরণ — “প্রথম গড়েতে কোলাপোষের নিবাস ইঙ্গরেজ ওলন্দাজ ফিরিঙ্গি ফরাস” (ভারতচন্দ্র রায় গুণাকর)। {ফারসি- কুলাহ + পোশ}। অর্থাৎ, “কোলাপোষ” বলতে সেই ব্যক্তিদের বোঝানো হতো যারা পাগড়ি বা দেশীয় পোশাকের বদলে ইওরোপীয় ধাঁচের টুপি পরতেন। মুঘল ও উপনিবেশিক বাংলায় এই শব্দটি দিয়ে ইওরোপীয় বণিক, সৈনিক, মিশনারি বা কোম্পানির কর্মচারীদের বোঝানো হতো — কারণ তারা স্থানীয়দের মতো পাগড়ি বা শিরস্ত্রাণ পরতেন না, বরং ইওরোপীয় টুপি (hat) পরতেন।

২৩. ইয়াফত খেদমত (Yaft Khedmat) — মুঘল আমলে কোনো অঞ্চলের রাজস্ব আদায় বা নির্দিষ্ট প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের জন্য যখন জমিদার বা রাজস্ব কর্মকর্তা নিয়োজিত হতেন, তখন সেই পদের মঞ্জুরি বা নবায়নের স্বীকৃতিস্বরূপ নবাব বা সরকারকে একটি নির্দিষ্ট ফি বা নজরানা দিতে হতো। এটাই ইয়াফত খেদমত। জমিদাররা যখন তাঁদের রাজস্ব আদায়ের এলাকা বা ‘খেদমত’ নিশ্চিত বা নবায়ন করার জন্য রাজকীয় ‘সনদ’ লাভ করতেন, তখন এই করটি ধার্য করা হতো। জেমস গ্রান্ট তাঁর রাজস্ব বিষয়ক বিবরণীতে এটিকে একটি প্রশাসনিক কমিশন বা চাকুরির অধিকার প্রাপ্তির ফি হিসেবে উল্লেখ করেছেন । এটি মূলত আপদকালীন অতিরিক্ত কর বা ‘আবওয়াব’-এর একটি অংশ হিসেবে বিবেচিত হতো, যা জমিদার বা ইজারাদারদের কাছ থেকে আদায় করে সরাসরি রাজকীয় কোষাগারে বা নবাবের বিশেষ তহবিলে জমা করা হতো।

২৪. বেদিয়া-উল-জামান বা বাদি-উল-জামান (Bedia ul Zeman) — বীরভূমের জমিদার — যার ওপর জরিমানা ধার্য করা হয়।

২৫. জরিমানা (Fine) — শাস্তিমূলক অর্থ — যা জমিদারের ওপর ধার্য করা হতো।

২৬. মোহাম্মদ টুকি খান (Mohamed Tucki Khan) — সুজার অবৈধ পুত্র বা মুর্শিদকুলি খানের জামাতা — যিনি ওড়িশার পৃথক শাসক ছিলেন।

২৭. মুর্শিদকুলি খান (Moorshed Kooli Khan) — বাংলার দেওয়ান ও সুবাদার — যিনি ১৭২২ সালে ১৩ চাকলার চূড়ান্ত বন্দোবস্ত করেন।

২৮. নগদে (In specie) — নগদ মুদ্রায় — সোনা বা রুপার মুদ্রায় পরিশোধ।

২৯. বিনিময় বিল (Bills of exchange) — হুন্ডি — যার মাধ্যমে দিল্লিতে অর্থ প্রেরণ করা হতো।

৩০. হিন্দুয়াত (Hindoviat) — হিন্দু রীতিনীতি, ঐতিহ্যগত হিসাবরক্ষণ পদ্ধতি বা দেশীয় কর ব্যবস্থা”-কে বুঝিয়েছেন। মুঘল আমলে বাংলায় দাপ্তরিক ভাষা ফারসি হলেও তৃণমূল স্তরে এবং স্থানীয় জমিদারদের অধীনে রাজস্বের হিসাব-নিকাশ মূলত দেশীয় হিন্দু বা স্থানীয় রীতিতে রাখা হতো এটা বলেছেন – এটা বলেছেন ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস অ্যাট অস্টিন-এর অধ্যাপক সুমিত গুহ । মুঘল দরবার বা কেন্দ্রীয় স্তরে ফারসি ভাষার আধিপত্য থাকলেও, গ্রামীণ স্তরে রাজস্বের হিসাব ও নথিপত্র সচল রাখার জন্য কোম্পানি ও মোঘল প্রশাসনকে স্থানীয় ‘কায়স্থ’ বা ‘পাটোয়ারী’দের (যাঁরা মূলত হিন্দু ছিলেন) ওপর নির্ভর করতে হতো। । গ্রান্ট এই স্থানীয়, ঐতিহ্যবাহী ও ঐতিহ্যগত প্রশাসনিক ও আর্থিক সংস্কৃতিকে “হিন্দুয়াত” বা “হিন্দোভিয়াত” (Hindoviat) বলে অভিহিত করেন।

৩১. ধার করা অর্থ (Money borrowed) — জাফর খানের শাসনামলে বণিক ও ব্যাংকারদের থেকে ধার করা অর্থ — যা পরিশোধ করা হয়।

৩২. আসল তুমার জুমা (Ausil Toomar Jumma) — বাংলার প্রকৃত রাজস্ব-তালিকা — যা টোডরমল ১৫৮২ সালে নির্ধারণ করেন এবং সুলতান সুজা ১৬৫৮ সালে উন্নত করেন।

৩৩. খাসনভিসি (Khasnoveessy) — জমিদারদের বার্ষিক ইজারা নবায়নের সময় আদায়কৃত রসুম — একমাত্র স্বীকৃত স্থায়ী অতিরিক্ত কর। খাসনবিশ – রাজা বা জমিদারের ব্যক্তিগত সচিব, গোপনীয় নথির লেখক বা প্রধান লিপিকার। ফারসি শব্দ ‘খাস’ (ব্যক্তিগত/গোপন) এবং ‘নবিশ’ (লেখক) থেকে এই শব্দটির উৎপত্তি। রাজা, নবাব বা বড় জমিদারদের অত্যন্ত বিশ্বস্ত ও ব্যক্তিগত নথিপত্র, হিসাব এবং চিঠিপত্র লেখার দায়িত্ব তাঁদের ওপর থাকত। মুর্শিদকুলি খানের সময় থেকে শুরু করে ব্রিটিশ আমলের শুরুর সময় পর্যন্ত রাজস্ব বিভাগের প্রধান দলিলপত্র বা ‘নথি’ দেখাশোনা করার জন্য খাসনবিশদের নিয়োগ করা হতো।

৩৪. স্থায়ী কর (Established impost) – স্থায়ীভাবে নির্ধারিত কর — যা প্রতি বছর আদায় করা হতো।

৩৫. ২৫ বছরের বার্ষিক গড় (Annual medium of 25 years) — ২৫ বছরের রাজস্ব আদায়ের গড় হিসাব — যা থেকে বার্ষিক করের হার নির্ণয় করা হয়।

গ্রান্টের এই অংশ জাফর খান ও সুজা-উদ-দৌলার ব্যক্তিগত সম্পদ এবং মুঘল রাষ্ট্রনীতির একটি গভীর বিশ্লেষণ। তিনি দেখান — সরকারি কর্মকর্তারা গোপন আদায়ে বিপুল সম্পদ অর্জন করতেন; কিন্তু মৃত্যুর পর সেই সম্পদের বড় অংশ রাজকোষে যেত। গ্রান্টের মূল বক্তব্য হলো — আবওয়াবের পরিমাণ বা অনিয়ম নয়; বরং জমিদারদের অতিরিক্ত আদায় ও গোপন সম্পদ অর্জন — এই দুটোই ছিল জনগণের অসন্তোষের মূল কারণ। এই বিশ্লেষণই পরবর্তীতে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ও রাজস্ব সংস্কারের ভিত্তি তৈরি করে।

চলবে

ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট ফ্রম দ্য সিলেক্ট কমিটি অন দি অ্যাফেয়ার্স অফ দি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সংক্ষেপে দ্য ফিফথ রিপোর্ট।

বিশ্বেন্দু নন্দ

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ

পেজফোরনিউজ-এর নববর্ষ বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন

Currently Maintained by the2.dev