| | |
এই মুহূর্তে ::
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৮৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৮৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ সাহিত্যে নোবেলজয়ী অ্যান কারসন-এর শব্দের ব্যুৎপত্তির ধারণা : অসিত দাস মিয়ানমার সংকটের রাজনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা : হাসান মোঃ শামসুদ্দীন ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৮৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৮৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেলেন কানাডার কবি অ্যান কারসন : অসিত দাস পেজফোরনিউজ-এর শারদোৎসব বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ প্রকাশিত হল ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৮৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ একটি অব্যক্তিগত বয়ান : তপোধীর ভট্টাচার্য মহালয়ার প্রার্থনা : সুব্রত দত্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৮৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিশ্বজিৎ মণ্ডল-এর ছোটগল্প ‘এক টুকরো ভোর’ আশ্বিনের শারদপ্রাতে : যশোবন্ত রায় আমার ছেলেবেলার মহালয়ার সকাল : পীযূষ কান্তি দাস পর্দার দাপুটে নায়ক, বাস্তব জীবনে মানবতাবাদী — নানা পাটেকরের জীবন ও অবিনশ্বর কীর্তি : রিঙ্কি সামন্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৮২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ সসীমকুমার বাড়ৈ-এর ছোটগল্প ‘প্রকৃতি বিভাজন খেলা’ মিরকাশিমের বীরকুল, হেস্টিংসের ব্রাইটন, জন ফ্র্যাঙ্ক স্নেইথ-এর দীঘা : সুব্রত গুহ ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৮১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ SIR-এর ফাঁসে জ্ঞানেশ কুমার, কমিশনের অন্দরে অশান্তি (শেষ কিস্তি) : দিলীপ মজুমদার রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে পাঁচ দফা কৌশল বাস্তবায়নের রোডম্যাপ : হাসান মোঃ শামসুদ্দীন কলকাতার নব্য কাজিয়ার দুর্গা : অসিত দাস SIR-এর ফাঁসে জ্ঞানেশ কুমার, কমিশনের অন্দরে অশান্তি (সপ্তম কিস্তি) : দিলীপ মজুমদার আমাদের নিখোঁজ শিশুরা: সংখ্যার বাইরে যে প্রশ্নগুলো জরুরি : নিকোলাস বিশ্বাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৮০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ মানুষকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে নয়া পুঁজিবাদ : সঞ্জয় মুখোপাধ্যায় SIR-এর ফাঁসে জ্ঞানেশ কুমার, কমিশনের অন্দরে অশান্তি (ষষ্ঠ কিস্তি) : দিলীপ মজুমদার
Notice :
❅ পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই পিতৃ পক্ষের শেষ, মাতৃপক্ষের সূচনা শুভ মহালয়ার আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন, ই-মেল : pagefour2020@gmail.com, আমাদের পোর্টালের কিছু ছবি বাদে প্রায় সব ছবিই অন্তর্জাল থেকে সংগ্রহ করা হয়। কারুর যদি কপিরাইট থাকে জানাবেন। আমরা সেই ছবি পোর্টাল থেকে ডিলিট করে দেব।

ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৮৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ

Reporter
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গা / ৬২ Views জন পড়েছেন
আপডেট বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬

[সংক্ষিপ্তসার  —  গ্রান্টের এই পর্বের লেখায় ফৌজদারি আবওয়াব-এর বিস্তারিত হিসাব পাচ্ছি — এগুলো মূলত সীমান্ত ও সামরিক প্রশাসনিক অঞ্চলে ধার্য করা হতো। ৪র্থ। মাথট-ফিলখানা: মুর্শিদাবাদে রক্ষিত নাজিম ও দেওয়ানের হাতির ভরণপোষণের জন্য ধার্য আংশিক কর। মূলত অভ্যন্তরীণ জেলার ওপর আরোপিত; রোকিনপুর, জালালপুর, ত্রিপুরা, সিলেট (পূর্ব) এবং পূর্ণিয়া, রাজমহল, বীরভূম, বিষ্ণুপুর, পাচেত (পশ্চিম) এই করের আওতার বাইরে ছিল। এই জেলাগুলো থেকে পাওয়া রাজস্ব ছিল সমগ্র খালসা ভূমির আসল জমার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ। নতুন কর-নির্ধারণ ছিল মূল ভাড়ার প্রায় চার শতাংশ বা ৩,২২,৬৩১ টাকা। আবওয়াব ফৌজদারি সিলেট ইত্যাদি (মোট ৭,৫৪,৭২০ টাকা): সিলেটের সাধারণ কর: ১,৫৯,৫৩৫ টাকা — যা কড়িতে পরিশোধিত হতো। পূর্ণিয়ার খালসা অংশ: ২,৮৩,০২৭ টাকা — সইফ খান ও আলিবর্দির কঠোর প্রশাসনে মূল্যায়িত। ত্রিপুরা রোশনাবাদ: ১,৮৪,৭৫১ টাকা (৮৭,৯৯৩ টাকা বাদ দেওয়ার পর)। নিখাস: ঘোড়া ও গবাদি পশুর শুল্ক — ১১,৬৭৯ টাকা। থানাজাত: কুতওয়াহ-র থানাদারি রাজস্ব — ১,১৫,৭২৮ টাকা (রাঙ্গামাটি, নেলডি, মোহাম্মদ শাহী ইত্যাদি সহ)। আবওয়াব ফৌজদারি ঘোড়াঘাট: ১৯,২৭৯ টাকা — সমগ্র চাকলার জমিদারিতে সূক্ষ্ম অংশ হিসেবে ধার্য। আবওয়াব ফৌজদারি মুর্শিদাবাদ: ১৬,৬৩৯ টাকা — জরিমানা বা স্বেচ্ছাচারী কর হিসেবে ধার্য। সর্বমোট ফৌজদারি আবওয়াব: ৭,৯০,৬৩৮ টাকা। সুজা খানের ভূখণ্ডীয় মূল্যায়ন: আসল জুমার এক-পঞ্চমাংশেরও কম — ১৯,১৪,০৯৫ টাকা। এর সঙ্গে খাসনভিসি ২,৫৮,৮৫৭ টাকা যোগ করলে সর্বমোট সুবাদারি আবওয়াব দাঁড়ায় ২১,৭২,৯৫২ টাকা। ৫ম। ফৌজদারি আবওয়াব: এটি ব্যক্তিগত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত বা সাময়িক জরিমানা নয়; বরং ভূমির ওপর সীমিত ও স্থায়ী কর  —  যা প্রাদেশিক শাসকরা নিজ নিজ এখতিয়ারে আদায় করতেন। এর নীতি ও মানদণ্ড ছিল তুমারের অনুরূপ। বোঝা মূলত দূরবর্তী সীমান্ত জেলার ওপর পড়ত। মূল রাজকীয় করের অনুপাতে এই বৃদ্ধি ছিল প্রায় ২২ শতাংশ। জাফর খানের আমল থেকে ১৭৩৯ সাল পর্যন্ত (প্রায় ২৬ বছর) এই প্রক্রিয়া চলেছিল। সম্রাট-নির্ধারিত তুমা ও পূর্ববর্তী সুবাদারের চাপানো কর ছাড়াও দেশ থেকে আরও ১৫ লক্ষ টাকা আনুষঙ্গিক ও সাময়িক আয় হতো; ফলে মোট সরকারি রাজস্ব দাঁড়াত এক কোটি ষাট লক্ষ টাকা। সুজা খানের ১৯ বছরের চক্রে — যার মধ্যে সব ভূমি-সনদ নবায়নের ফলে এক বছরের মূল জমার সমপরিমাণ ফি আদায় হতো — মোট আয় দাঁড়ায় প্রায় এক কোটি সত্তর লক্ষ টাকা; অর্থাৎ পূর্বসূরির নির্ধারিত আয়ের চেয়ে মাত্র দশ লক্ষ টাকা বেশি।]

৪র্থ। মাথট-ফিলখানা (Mathoot Feel Khaneh) হলো একটা আংশিক চাঁদা বা কর — যা প্রকৃতিগতভাবে পূর্বোল্লিখিত করর মতোই — এবং এটা মূলত মুর্শিদাবাদে রক্ষিত নাজিম ও দেওয়ানের হাতির ভরণপোষণের ব্যয় নির্বাহের জন্য ধার্য করা হতো। এই খাজনা মূলত অভ্যন্তরীণ জেলাগুলোর ওপর আরোপ করা হতো; তবে রোকুনপুর এবং পূর্ব ও পশ্চিম সীমান্তের জেলাগুলোকে এর আওতার বাইরে রাখা হয়েছিল। পূর্বদিকের জেলাগুলোর মধ্যে ছিল জালালপুর, ত্রিপুরা ও সিলেট; আর পশ্চিমদিকের জেলাগুলোর মধ্যে ছিল পূর্ণিয়া, রাজমহল, বীরভূম, বিষ্ণুপুর ও পাচেত। এই জেলাগুলো থেকে পাওয়া রাজস্ব সমগ্র দেশের খালসা (সরকারি খাস) ভূমির মোট আসল জমার (মূল রাজস্বের) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ছিল। ফলে, নতুন কর-নির্ধারণের (যা ছিল মূল ভাড়ার প্রায় চার শতাংশ বা ঠিক ৩,২২,৬৩১ টাকা) কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অবশিষ্ট মূল রাজস্বের পরিমাণ দাঁড়ায় ৮০ লক্ষ টাকা।

(১) আবওয়াব, ফৌজদারি, সিলেট ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত

প্রথমত — ওই প্রদেশের ওপর একটি সাধারণ কর — যা তার সম্পূর্ণ আসল জুমা, জায়গির ও খালসার তুলনায় অনুপাতে বিশাল মনে হবে; অর্থাৎ ৫,৩১,৪৫৫ টাকা; এবং প্রকৃতপক্ষে এটি একটি দূরবর্তী সীমান্ত প্রদেশের প্রকৃত পরিস্থিতির চেয়েও বেশি হতে পারে — যা কৃষিতে দরিদ্র এবং বাণিজ্যে এতটাই কম সুবিধাভোগী যে আজও রাজস্ব ও পণ্যদ্রব্য কড়িতে পরিশোধ করা হয়, সাধারণ বিনিময় মাধ্যম হিসেবে মুদ্রার পরিবর্তে; তবুও সুজা খানের আমলে সরকারের জমা খাতে আনা এই প্রতিষ্ঠিত বৃদ্ধি, যা আগে ফৌজদাররা আদায় করত, এর পরিমাণ ছিল … ১,৫৯,৫৩৫ টাকা।

দ্বিতীয়ত — পূর্ণিয়ার সমৃদ্ধ, বিশাল ও অনির্ধারিত প্রদেশের বর্ধিত খালসা অংশের ওপর একটি অত্যন্ত সহনীয় মাঝারি মূল্যায়ন — যা সইফ খান ও আলিবর্দি খানের কঠোর প্রশাসনের অধীনে সার্বভৌম মূল্যায়নে অনেক উন্নত হয়েছিল, যারা তখন বাংলার সুবাদারের অধীনে কাজ করতেন … ২,৮৩,০২৭ টাকা।

তৃতীয়ত — ত্রিপুরা রোশনাবাদের ওপর অনুরূপ কর; তবে এর থেকে শেষ পর্যন্ত বাদ দিতে হবে ৮৭,৯৯৩ টাকা (জাফর খানের তুমারী বন্দোবস্ত থেকে নেওয়া আমাদের মূল্যায়ন এবং সুজার মূল্যায়নের অতিরিক্ত অংশ) যখন জমিদার তার দেশ ও স্বাধীনতার বড় অংশ পুনরুদ্ধার করেছিলেন; বর্তমানে আমরা সম্পূর্ণ ফৌজদারি বৃদ্ধি হিসেবে উল্লেখ করছি … ১,৮৪,৭৫১ টাকা।

চতুর্থত — নিখাস — ঘোড়া ও অন্যান্য গবাদি পশুর ওপর শুল্ক, যা মুর্শিদাবাদ শহরে বিক্রির জন্য আনা হতো … ১১,৬৭৯ টাকা।

পঞ্চমত — তান্নাজাত — দেশের বিভিন্ন অংশে সৈন্যদের বা সামরিক বাহিনীর ছোট গ্যারিসন বা ঘাঁটি। সর্বত্র যেখানে সৈন্য সমাবেশ হতো, সেখানে একটি বাজার বা হাট থাকত — যা নিয়মিত পুলিশের জন্য একজন কুতওয়াল-এর অধীন থাকত, যিনি কমান্ডারের কাছ থেকে নিয়োগ পেতেন। খুচরা বিক্রেতাদের মদ বিক্রির লাইসেন্স দেওয়া হতো একটি ফির বিনিময়ে, এবং বিক্রয়ের জন্য প্রদর্শিত অন্যান্য পণ্যের জন্য নির্দিষ্ট শুল্ক দিতে হতো। এই মুনাফাগুলো প্রথমে পদের ব্যক্তিগত আয় হিসেবে বিবেচিত হতো, পরে সরকার কর্তৃক বাজেয়াপ্ত করা হয়। এভাবেই কুতওয়াহ-র তান্নাদারি রাজস্ব-এর ভিত্তি তৈরি হয় … ৪৮,০০০ টাকা।

রাঙ্গামাটি, হাতি ধরার কেরদাহ ব্যয়সহ … ২৪,০০০ টাকা।

নেলডি, বুসনায় … ২৪,০২৫ টাকা।

মোহাম্মদ শাহী … ১০,৮৬০ টাকা।

এবং ১৯টি অন্যান্য ছোট তান্নার … ৮,৮৪৩ টাকা।

মোট … ১,১৫,৭২৮ টাকা।

সর্বমোট– আবওয়াব ফৌজদারি সিলেট ইত্যাদি … ৭,৫৪,৭২০ টাকা।

(২) আবওয়াব ফৌজদারি ঘোড়াঘাট —

এগুলো সমগ্র চাকলার সমস্ত প্রধান জমিদারি বা পরগনায় বিস্তৃত ছিল — মোট যোগফলের একটি অত্যন্ত সূক্ষ্ম অংশ হিসেবে … ১৯,২৭৯ টাকা।

(৩) আবওয়াব ফৌজদারি মুর্শিদাবাদ —

একইভাবে সমগ্র চাকলায় প্রচলিত ছিল, এবং সম্ভবত পূর্ববর্তী অনুচ্ছেদের মতোই — এগুলো জরিমানা বা ছোট স্বেচ্ছাচারী কর হিসেবে ধার্য করা হয়েছিল, যদি না তান্নাদারি আবওয়াবের প্রকৃতির হয় … ১৬,৬৩৯ টাকা।

সর্বমোট– ফৌজদারি আবওয়াব … ৭,৯০,৬৩৮ টাকা।

৪) উপরের চারটি আরও সাধারণ শিরোনামের অধীনে সুজা খানের সম্পূর্ণ প্রতিষ্ঠিত ভূখণ্ডীয় মূল্যায়ন অন্তর্ভুক্ত ছিল — যা আসল জুমার এক-পঞ্চমাংশেরও কম বৃদ্ধি গঠন করে, সুবার সমস্ত খালসা ভূমির — অথবা আরও সুনির্দিষ্টভাবে … ১৯,১৪,০৯৫ টাকা।

এর সঙ্গে যদি আমরা খাসনভিসির পূর্ববর্তী অনুচ্ছেদের পরিমাণ যোগ করি … ২,৫৮,৮৫৭ টাকা।

সুবাদারি আবওয়াবের সর্বমোট হবে … ২১,৭২,৯৫২ টাকা।

৫ম। ফৌজদারি আবওয়াব — এটা একটা ভুল ধারণা যে, এই ধরনের কর ব্যক্তিগত সম্পত্তির ওপর বাজেয়াপ্তকরণ বা সাময়িক জরিমানাস্বরূপ ছিল এবং ফৌজদাররা তাঁদের বিচারিক ক্ষমতার বলে তা আদায় করতেন। বরং, আগেই উল্লেখ করা হয়েছে যে, এগুলি ছিল ভূমির ওপর এক ধরণের সীমিত ও স্থায়ী কর বা নির্ধারণ; যা সংশ্লিষ্ট প্রাদেশিক শাসকরা তাঁদের নিজ নিজ এখতিয়ারভুক্ত এলাকায় আদায় করতেন। এই কর নির্ধারণের নীতি ও আনুপাতিক মানদণ্ড ছিল তুমার (মূল রাজস্ব)-এর অনুরূপ — ঠিক যেমনটি সুবাদারির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা অনুসরণ করতেন। ফলে, এর বোঝা মূলত দূরবর্তী সীমান্ত জেলাগুলোর ওপরই পড়ত। এসব অঞ্চল তখনো পুরোপুরি বিজিত বা অন্বেষিত হয়নি এবং রাজনৈতিকভাবে স্বেচ্ছাচারী প্রতিনিধিদের নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছিল। এর সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য ছিল রায়তদের থেকে পাওয়া ভূমির কর (যা প্রকৃত সার্বভৌম শাসকের ন্যায্য পাওনা বলে বিবেচিত হতো) আরও নির্ভুলভাবে নিরূপণ করা অথবা সুবিধাজনক উপায়ে তা বৃদ্ধি করা। রাজস্ব বৃদ্ধির এই অতিরিক্ত অংশকে বিশেষ (special) আখ্যা দেওয়া যেতে পারে। তবে এই বিশেষত্ব স্থানীয় বিস্তৃতির বিচারে নয় — পূর্ববর্ণিত চারটি বিষয়ের তুলনায় — বরং খুব কম সংখ্যক খাতের অধীনে এগুলি অন্তর্ভুক্ত থাকার কারণেই এমনটি বলা হয়। এছাড়া, এগুলি সাধারণত অধীনস্থ জমিদারি এলাকার পরিবর্তে চাকলা বা ফৌজদারি ও থানাদারি এখতিয়ারভুক্ত অঞ্চলের ভিত্তিতে প্রাথমিকভাবে নির্ধারিত হয়েছিল। তবে এগুলি তিনটি উপ-বিভাগে অত্যন্ত অসমভাবে বিন্যস্ত ছিল; যথা —

মূল রাজকীয় করর অনুপাতে হিসাব করলে এই বৃদ্ধি ছিল প্রায় ২২ শতাংশ। জাফর খানের আমলে এই কর আদায়ের সূচনা থেকে শুরু করে — বাংলা ও সমগ্র হিন্দুস্তানে মুঘল সাম্রাজ্যের পতনের ইতিহাসের এই উল্লেখযোগ্য সময়কাল পর্যন্ত (প্রায় ২৬ বছর) — ১৭৩৯ সালে দিল্লি থেকে নিযুক্ত সর্বশেষ জনপ্রিয় প্রতিনিধির শাসনকাল সমাপ্ত হওয়া পর্যন্ত এই প্রক্রিয়া চলেছিল। তবে লক্ষ্য করা গেছে যে, সম্রাট-নির্ধারিত তুমা এবং পূর্ববর্তী সুবাদারের চাপানো অতিরিক্ত ও ঘোষিত কর ছাড়াও, সম্ভবত দেশ থেকে আরও ১৫ লক্ষ টাকার মতো আনুষঙ্গিক ও সাময়িক আয় হতো; যার ফলে তৎকালীন মোট সরকারি রাজস্বের পরিমাণ দাঁড়াত এক কোটি ষাট লক্ষ টাকায়। একইভাবে, আলোচ্য শাসনকালে — যদিও পুরোনো নির্ধারিত ভাড়ার (rental) তুলনায় অনেক বেশি পরিমাণ অর্থ আদায়ের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকরা হয়েছিল — আমাদেরকে তাঁর (জাফরের) উত্তরসূরির জন্যও গোপন ও অনিয়মিত উৎস থেকে পাওয়া অতিরিক্ত বার্ষিক আয়ের হিসাব ধরতে হবে। তবে এই হিসাবটি সমানুপাতিক হারে করা উচিত নয়; কারণ পূর্ববর্তী শাসকের ব্যক্তিগত আয়ের উৎসগুলোর মধ্যে নজরানা এবং নিজামতের অন্যান্য প্রথাগত আয় পরবর্তী শাসকের আমলে সরকারি কোষাগারের নির্ধারিত পাওনার সাথে স্থায়ীভাবে একীভূত করা হয়েছিল। ফলে, সম্ভবত কেবল জমিদারি সনদ নবায়নের জন্য অনুমোদিত ও প্রচলিত পেশকাশ-কেই হিসাবের অন্তর্ভুক্ত করা যুক্তিযুক্ত; যা পর্যায়ক্রমে পরিবর্তনশীল হলেও গড়ে অন্তত সাড়ে পাঁচ লক্ষ টাকার একটা বড় ও নিয়মিত আয়ের জোগান দিত। ১৯ বছরের একটা চক্র বা সময়কাল বিবেচনা করলে — যার মধ্যে বাংলার সমস্ত ভূমি-সনদ নবায়নের ফলে এক বছরের মূল জমা বা রাজস্বের সমপরিমাণ সাধারণ ফি (fine) আদায় হতো — সুজা খানের মোট আয় দাঁড়ায় প্রায় এক কোটি সত্তর লক্ষ টাকায়; অর্থাৎ তাঁর পূর্বসূরির নির্ধারিত আয়ের চেয়ে মাত্র দশ লক্ষ টাকা বেশি।

টিকা ১

গ্রান্টের এই অংশটি ফৌজদারি আবওয়াব-এর একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র তুলে ধরে — যেখানে সিলেট, ঘোড়াঘাট ও মুর্শিদাবাদ অঞ্চলে বিভিন্ন ধরনের কর ধার্য করা হতো। এর মধ্যে সিলেটের কড়িতে পরিশোধিত কর, পূর্ণিয়ার খালসা অংশ, ত্রিপুরার মূল্যায়ন, ঘোড়া ও গবাদি পশুর শুল্ক, এবং সামরিক ঘাঁটির তান্নাদারি রাজস্ব উল্লেখযোগ্য। গ্রান্টের মূল বক্তব্য হলো — সুবাদারি আবওয়াবের মোট পরিমাণ ২১,৭২,৯৫২ টাকা — যা আসল জুমার এক-পঞ্চমাংশেরও কম। কিন্তু মূল সমস্যা ছিল জমিদারদের অতিরিক্ত আদায় — যা সরকারি হিসাবের বাইরে ছিল। এই বিশ্লেষণই পরবর্তীতে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ও রাজস্ব সংস্কারের ভিত্তি তৈরি করে।

গ্রান্ট যে ফৌজদারি আবওয়াব-এর বিস্তারিত হিসাব দিয়েছেন শেতা তিন প্রধান অঞ্চলে বিভক্ত ১. সিলেট ও অন্যান্য (৭,৫৪,৭২০ টাকা)- এর মধ্যে ছিল —  সিলেটের সাধারণ কর- ১,৫৯,৫৩৫ টাকা — যা কড়িতে পরিশোধিত হতো। পূর্ণিয়ার খালসা অংশ- ২,৮৩,০২৭ টাকা — সইফ খান ও আলিবর্দির কঠোর প্রশাসনে মূল্যায়িত। ত্রিপুরা রোশনাবাদ- ১,৮৪,৭৫১ টাকা। নিখাস- ঘোড়া ও গবাদি পশুর শুল্ক — ১১,৬৭৯ টাকা। তান্নাজাত- কুতওয়াহ-র তান্নাদারি রাজস্ব — ১,১৫,৭২৮ টাকা (রাঙ্গামাটি, নেলডি, মোহাম্মদ শাহী ইত্যাদি সহ)। ২. ঘোড়াঘাট (১৯,২৭৯ টাকা)- সমগ্র চাকলার জমিদারিতে সূক্ষ্ম অংশ হিসেবে ধার্য। ৩. মুর্শিদাবাদ (১৬,৬৩৯ টাকা)- জরিমানা বা স্বেচ্ছাচারী কর হিসেবে ধার্য।

মোট ফৌজদারি আবওয়াব- ৭,৯০,৬৩৮ টাকা।

সুজা খানের টেরিটোরিয়াল মূল্যায়ন — আসল জুমার এক-পঞ্চমাংশেরও কম — ১৯,১৪,০৯৫ টাকা।

খাসনভিসি যোগ করলে- ২,৫৮,৮৫৭ টাকা।

সর্বমোট সুবাদারি আবওয়াব- ২১,৭২,৯৫২ টাকা।

টিকা ২

১. আবওয়াব– মূল রাজস্বের অতিরিক্ত কর — যা পরে স্থায়ী হয়ে যায়।

২. ফৌজদারি– ফৌজদারের এখতিয়ারভুক্ত অঞ্চল — যেখানে সামরিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালিত হতো।

৩. জুমা– নির্ধারিত রাজস্ব বা খাজনা।

৪. জায়গির– সামরিক বা প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের বেতনের বিনিময়ে দেওয়া ভূমি।

৫. খালসা– সরাসরি সরকারি ব্যবস্থাপনাধীন ভূমি।

৬. কড়ি– শামুকের খোলস — যা বাংলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিনিময় মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হতো।

৭. নিখাস– ঘোড়া ও গবাদি পশুর ওপর শুল্ক।

৮. থানাজাত– সামরিক ঘাঁটি বা গ্যারিসন — যেখানে সৈন্য সমাবেশ হতো এবং বাজার গড়ে উঠত।

৯. কোতওয়াল– পুলিশ প্রধান — যিনি বাজারের শৃঙ্খলা রক্ষা করতেন।

১০. থানাদারি– সামরিক ঘাঁটির রাজস্ব।

১১. কেরদাহ– হাতি ধরার ব্যয়।

১২. খাসনভিসি– জমিদারদের বার্ষিক ইজারা নবায়নের সময় আদায়কৃত রসুম।

১৩. সুবাদারি আবওয়াব- সুবাদারের আমলে প্রবর্তিত অতিরিক্ত কর।

টিকা ৩

“তবে রোকুনপুর এবং পূর্ব ও পশ্চিম সীমান্তের জেলাগুলোকে এর আওতার বাইরে রাখা হয়েছিল।”

সীমান্ত প্রদেশের সরকারগুলোর কেবল সেনাবাহিনী রাখা নয়, সীমান্ত প্রশাসনের সামগ্রিক কাঠামো, ভূগোল ও রাজনৈতিক বাস্তবতা মেনেই মুঘলরা সীমান্ত প্রদেশ থেকে পূর্ণ হারে রাজস্ব নিত না।

১. সীমান্ত প্রদেশে রাজস্ব কম নেওয়ার কারণ — সামরিক ব্যয়ের ভার: সীমান্ত প্রদেশগুলোতে (যেমন পূর্ণিয়া, রাজমহল, বীরভূম, বিষ্ণুপুর, পাচেত, জালালপুর, ত্রিপুরা, সিলেট) স্থায়ী সেনাবাহিনী, ফৌজদার, থানাদার ও মিলিশিয়া রাখতে হতো। এই ব্যয় মেটানোর জন্য রাজস্বের একটি বড় অংশ সেখানেই খরচ হয়ে যেত — দিল্লি বা মুর্শিদাবাদে পৌঁছাত না। মুঘল প্রশাসন এই ব্যয়কে “মস্কুরাত” (বিবিধ ব্যয়) বা “তানখাহ” (বরাদ্দ) হিসেবে গণ্য করত। সামরিক জায়গির ব্যবস্থা: সীমান্ত অঞ্চলে অনেক জমি জায়গির হিসেবে বরাদ্দ থাকত — যা সরাসরি সামরিক কর্মকর্তাদের বেতন ও সৈন্যদের ভরণপোষণে ব্যয় হতো। তাই এই জমি থেকে আলাদা করে রাজস্ব আদায় করা হতো না; বরং জায়গিরদাররাই স্থানীয় রাজস্ব ভোগ করতেন। অসম্পূর্ণ বিজয় ও অস্থিরতা: রাউস তার বইয়ে লিখেছেন — সীমান্ত অঞ্চলগুলো “অসম্পূর্ণভাবে বিজিত বা অন্বেষিত” ছিল। মুঘলদের নিয়ন্ত্রণ সেখানে সবসময় দৃঢ় ছিল না। তাই তারা স্থানীয় জমিদার, রাজা বা বিদ্রোহী প্রধানদের সঙ্গে আপস করে পেশকাশ (নামমাত্র কর) নিতেন — পূর্ণ রাজস্ব নয়। ঘ. ভৌগোলিক প্রতিকূলতা:বীরভূম, বিষ্ণুপুর, পাচেত — এসব অঞ্চল ছিল পাহাড়ি, জঙ্গলময় ও দুর্গম। সেখানে রাজস্ব আদায় করা কঠিন ছিল; তাই মুঘলরা স্থানীয় সামন্তদের ওপর নির্ভর করতেন — যারা নামমাত্র কর দিতেন।

২. গ্রান্ট লিখেছেন — “রোকিনপুর এবং পূর্ব ও পশ্চিম সীমান্তের জেলাগুলোকে এর আওতার বাইরে রাখা হয়েছিল।” এর কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেছেন —  এই জেলাগুলো থেকে পাওয়া রাজস্ব ছিল সমগ্র খালসা ভূমির আসল জমার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ; এই জেলাগুলো সামরিক জায়গির হিসেবে ব্যবহৃত হতো; আর সেখানে ফৌজদারি প্রশাসন ছিল আলাদা — যা সরাসরি সুবাদারের নিয়ন্ত্রণে ছিল না।

৩. সীমান্ত প্রদেশ থেকে রাজস্ব নেওয়ার পদ্ধতি — মুঘলরা সীমান্ত প্রদেশ থেকে পূর্ণ রাজস্ব না নিলেও, সম্পূর্ণভাবে ছেড়ে দিত না। তারা নিত —  পেশকাশ: করদ রাজা বা জমিদারদের প্রদত্ত নির্দিষ্ট কর; নজরানা: উপহার বা ভেট; ফৌজদারি আবওয়াব: সামরিক প্রশাসনের ব্যয় নির্বাহের জন্য ধার্যকৃত কর; থানাদারি রাজস্ব: সামরিক ঘাঁটির আয়। অর্থাৎ, সীমান্ত প্রদেশ থেকে নিয়মিত ও পূর্ণ হারে রাজস্ব আদায় করা হতো না; বরং সামরিক ও প্রশাসনিক প্রয়োজনে সেই রাজস্ব সেখানেই ব্যয় হয়ে যেত।

৪. কেন গুরুত্বপূর্ণ — গ্রান্ট এই সীমান্ত প্রদেশগুলোর রাজস্বকে ফৌজদারি আবওয়াব-এর আওতায় এনেছেন — কারণ তিনি দেখাতে চেয়েছেন, এই অঞ্চলগুলো থেকে প্রকৃত রাজস্বের পরিমাণ নির্ধারণ করা কঠিন ছিল। সীমান্তে সেনাবাহিনী রাখার ব্যয় ও স্থানীয় সামন্তদের স্বায়ত্তশাসনের কারণে রাজস্বের হিসাব গোপন করা সহজ ছিল। এই কারণেই পরবর্তীতে ব্রিটিশরা এই অঞ্চলগুলোকে “অনুৎপাদনশীল” বলে চিহ্নিত করেছিল — যদিও গোপনে এগুলো স্থানীয় প্রতিনিধিদের জন্য অত্যন্ত লাভজনক ছিল।

চলবে

ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট ফ্রম দ্য সিলেক্ট কমিটি অন দি অ্যাফেয়ার্স অফ দি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সংক্ষেপে দ্য ফিফথ রিপোর্ট।

বিশ্বেন্দু নন্দ

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ

পেজফোরনিউজ-এর নববর্ষ বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন

Currently Maintained by the2.dev