| | |
এই মুহূর্তে ::
নন্দিনী অধিকারী-র ছোটগল্প ‘সর্বংসহা’ ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৯২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৯১/২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ রাজারাজড়া ও বণিকের দুর্গাপূজায় নিম্নবর্গ ছিল রবাহূত : অসিত দাস প্রজনন অধিকার নিশ্চিত হলেই সুস্থ্য বাংলাদেশ গড়া সম্ভব : নিকোলাস বিশ্বাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৯১/১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ অয়ন মুখোপাধ্যায়-এর ছোটগল্প ‘জলের অক্ষর’ কতো বড়ো বড়ো পুজোরে বাবা… : জ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৯০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ নবপত্রিকা: দুর্গাপূজার অন্তরালে শস্যদেবী ও প্রকৃতির আরাধনা : যশোবন্ত রায় মন্ত্র ভুল বললেও কোনও অসুবিধে নেই… নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী : জ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৮৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ সিংহবাহিনী দুর্গা মৃগবাহিনীও : শ্যামলকান্তি চক্রবর্তী দেবদেবীর পূজায় দুর্বার প্রয়োজন কেন ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৮৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৮৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ সাহিত্যে নোবেলজয়ী অ্যান কারসন-এর শব্দের ব্যুৎপত্তির ধারণা : অসিত দাস মিয়ানমার সংকটের রাজনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা : হাসান মোঃ শামসুদ্দীন ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৮৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৮৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেলেন কানাডার কবি অ্যান কারসন : অসিত দাস পেজফোরনিউজ-এর শারদোৎসব বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ প্রকাশিত হল ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৮৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ একটি অব্যক্তিগত বয়ান : তপোধীর ভট্টাচার্য মহালয়ার প্রার্থনা : সুব্রত দত্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৮৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিশ্বজিৎ মণ্ডল-এর ছোটগল্প ‘এক টুকরো ভোর’
Notice :
❅ পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই পিতৃ পক্ষের শেষ, মাতৃপক্ষের সূচনা শুভ মহালয়ার আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন, ই-মেল : pagefour2020@gmail.com, আমাদের পোর্টালের কিছু ছবি বাদে প্রায় সব ছবিই অন্তর্জাল থেকে সংগ্রহ করা হয়। কারুর যদি কপিরাইট থাকে জানাবেন। আমরা সেই ছবি পোর্টাল থেকে ডিলিট করে দেব।

ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৯২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ

Reporter
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গা / ৬১ Views জন পড়েছেন
আপডেট সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬

[সংক্ষিপ্তসার — এই পর্বে আমরা গ্রান্টের আলিবর্দি খানের রাজস্ব কাঠামো নিয়ে আলোচনা অনুবাদ করব। আলিবর্দি খান (নবাব হেসাম-উদ-দৌলা মহাবৎ জং) সুজা-উদ-দৌলার মৃত্যুর আগেই বিহারের নায়েব-সুবাদার হিসেবে কার্যত স্বাধীন হয়ে উঠেছিলেন। ১৭৪০ সালের শেষভাগে সামরিক শক্তির জোরে তিনি তাঁরই পূর্বসূরির পুত্র এবং উত্তরাধিকারী, রাজ্য পরিচালনায় সম্পূর্ণ অযোগ্য সরফরাজ খানের দুর্বল হাত থেকে বাংলার শাসনভার নিজের হাতে তুলে নেন। মুঘল সাম্রাজ্যের দুর্বলতার সুযোগে সরফরাজ এই রাজ্যকে পৈতৃক সম্পত্তি ভাবতেন — যদিও তাঁর সিংহাসনে আরোহণের বৈধতার দাবি সমস্যাজনক ছিল। আলিবর্দি তরবারির জোরেই ক্ষমতা দখল করেন — যা হিন্দুস্তানে বৈধ অধিকার হিসেবেই গণ্য হতো। আলিবর্দি ১৫ বছরের অস্থিতিশীল সময়ে নিজের বিজিত রাজ্য ধরে রাখেন এবং বাইরের শত্রুদের বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেন। তাঁর মূল লক্ষ্য ছিল প্রতারণা ও আত্মসাতের মাধ্যমে সম্পদ অর্জনকারীদের অবৈধ আয় পুনরুদ্ধার এবং অত্যাচারী সামন্ত-শাসকদের সংখ্যা ও কার্যকলাপ সীমিত করা। তাঁর সুবাদারির প্রথম দশকে মারাঠাদের সঙ্গে যুদ্ধ ও অভ্যন্তরীণ কোন্দলে অতিরিক্ত কর আদায়ের পদক্ষেপ সফল হয় নি; বরং পূর্বনির্ধারিত রাজস্বের লক্ষ্যমাত্রাও আদায় করতে ব্যর্থ হন। ১১৪৯ বঙ্গাব্দে (১৭৪২-৪৩) মাত্র ৬৪,৫২,৪৩৩ টাকা আদায় হয়; ঘাটতির প্রায় ২২ লক্ষ টাকার দায় বর্ধমানের ওপর বর্তায়। পরে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। মারাঠা আক্রমণ ও পাঠান নেতাদের দলত্যাগে জর্জরিত আলিবর্দি উজির সফদর জং-এর সহায়তায় সুবার শাহী আয়ের (৫২ লক্ষ টাকা) অর্ধেক ভবিষ্যতে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। গ্রান্ট বলছেন — খালসা শরীফায় বার্ষিক গড় আয়ের সর্বোচ্চ সীমা সম্ভবত এই সংখ্যাটাই ছিল; এর সঙ্গে সুবাদারি পদের স্থায়ী আয় ১৬ লক্ষ টাকা যোগ করলে মারাঠা আক্রমণের সময়কার প্রকৃত ভূ-রাজস্বের প্রায় সম্পূর্ণ হিসাব পাওয়া যায়। রাজশাহী, দিনাজপুর ও নদীয়ার মতো প্রধান জমিদারদের থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের ঠিক হিসাব করা অসম্ভব — তবে তাঁদের বিপুল ঐশ্বর্য ও সুবাদারের নমনীয় আচরণের কথা বিবেচনায় বড় অঙ্কের অনুমান যুক্তিসঙ্গত। গ্রান্ট বলছেন — আলিবর্দির বার্ষিক সব আয় মিলিয়ে ৮০ লক্ষ রুপির বেশি ধরা সমীচীন নয়। সরফরাজ খানের রেখে যাওয়া সম্পদ — ফারসি ইতিহাসবিদের মতে পাঁচ কোটি টাকার সোনা-দানা ও রত্ন এবং জায়গির থেকে ৩৮ লক্ষ টাকা নগদ — আলিবর্দিকে শুরুর বাধা মোকাবিলায় সহায়তা করে। ফলে তিনি প্রায় দশ বছর শক্তির শিখরে থাকা মারাঠাদের সফলভাবে প্রতিহত করেন। শান্তি ফিরে আসার এক বছর পর, ১৭৫১ সালে, আলিবর্দি পূর্বসূরিদের অনুকরণে অতিরিক্ত কর (আবওয়াব) আরোপ করেন — যদিও যুদ্ধের ঠিক পরেই কর বাড়ানো বিস্ময়কর মনে হতে পারে — কিন্তু ভারতের উর্বরতা, কৃষকের ওপর করের নগণ্য বোঝা, বছরে দু’বার ফসল এবং গবাদি পশুর নিরাপত্তা — এসব বিবেচনায় এই বৃদ্ধি বিস্ময়কর নয়। আলিবর্দি ১১৫৮ বঙ্গাব্দে আবওয়াব প্রবর্তন করে শান্তিপূর্ণ আর্থিক প্রকল্প শুরু করেন।]

আবওয়াব আলিবরদীখানি — আলিবর্দি খানের আমলের আবওয়াব

নবাব হেসাম-উদ-দৌলা আলিবর্দি খান মহাবৎ জং তাঁর প্রধান ও পৃষ্ঠপোষক সুজা-উদ-দৌলার (সুজা খান) মৃত্যুর আগেই বিহারের নায়েব-সুবাদার হিসেবে নিজেকে কার্যত স্বাধীন করে তুলেছিলেন। সেই সুবাদে অর্জিত সম্পদ, প্রভাব ও সামরিক শক্তির জোরে ১৭৪০ সালের শেষভাগে তিনি বাংলার শাসনভার কেড়ে নেন সুজা খানের পুত্র সরফরাজ খানের দুর্বল হাত থেকে। সরফরাজ ছিলেন তাঁরই হিতৈষী ও পূর্বসূরির পুত্র ও উত্তরাধিকারী; কিন্তু তিনি রাজ্য পরিচালনার সম্পূর্ণ অযোগ্য ছিলেন। মুঘল সাম্রাজ্যের দুর্বলতার সুযোগেই তিনি এই রাজ্যকে নিজের পৈতৃক সম্পত্তি বলে মনে করার ধৃষ্টতা দেখাচ্ছিলেন — অথচ তাঁর শাসন করার বৈধ দাবি বা যোগ্যতা ছিল না, কেবল বছরখানেক সময়কাল আকস্মিকভাবে ক্ষমতায় থাকার এক দুর্বল অজুহাত ছাড়া (যদিও সেই অধিকার রক্ষার লড়াইয়ে তিনি বীরের মতো প্রাণ দিয়েছিলেন)। অন্যদিকে, আলোচ্য ক্ষমতা-দখলকারী আলিবর্দি খান তরবারির জোরে সেই শূন্য শাসনভার অধিকার করেন — এটা এমন এক ক্ষমতা দখলের পদ্ধতি যা সর্বত্রই পরোক্ষ বা বাধ্যবাধকতার বশে স্বীকরা হয়, কিন্তু হিন্দুস্তানে তা প্রকাশ্যে বৈধ অধিকার হিসেবেই গণ্য। শাসনের সেই শক্তিশালী হাতিয়ার ব্যবহার করেই তিনি ১৫ বছরের অস্থিতিশীল সময়ে নিজের বিজিত রাজ্য ধরে রেখেছিলেন এবং বাইরের শত্রুদের বিরুদ্ধেও বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেছিলেন। স্বৈরাচারী শাসকের যে ধরনের সংযম প্রত্যাশা করা যায় — বিশেষ করে এমন এক স্বৈরাচারী যিনি রাজনৈতিকভাবে সাধারণ জনগণের বন্ধু — সে ধরণের আচরণ এখানেও দেখা গিয়েছিল। তাঁর সংযম বা পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য ছিল না যারা প্রশাসনের জন্য ঈর্ষাপরায়ণ ও বোঝা-স্বরূপ হয়ে উঠেছিল, কেবল প্রতারণা বা আত্মসাতের মাধ্যমে সম্পদ অর্জনকারী সেইসব ব্যক্তির অবৈধ সরকারি আয় পুনরুদ্ধার করা — বরং তাঁর মূল উদ্দেশ্য ছিল রাষ্ট্রের অপেক্ষাকরা দরিদ্র অথচ কর্মক্ষম প্রজাদের ওপর অত্যাচারী সামন্ত-শাসকদের সংখ্যা ও তাদের কার্যকলাপ সীমিত করা। তাঁর আনুষ্ঠানিক সুবাদারির প্রথম দশকে মারাঠাদের সাথে যুদ্ধ এবং নিজস্ব অনুসারীদের মধ্যকার অভ্যন্তরীণ কোন্দলে তিনি অতিরিক্ত কর বা রাজস্ব আদায়ের কোনও পদক্ষেপই করতে পারেননি; বরং পূর্বনির্ধারিত রাজস্বের লক্ষ্যমাত্রাও পুরোপুরি আদায় করতে ব্যর্থ হন। এমনকি ১১৪৯ বঙ্গাব্দ, ১৭৪২-৪৩ খ্রিস্টাব্দের জমা-ই-তুমারির (নির্ধারিত রাজস্ব) মাত্র ৬৪,৫২,৪৩৩ টাকা আদায় সম্ভব হয়। উল্লেখ্য, ওই বছরের মূলত গঙ্গার পশ্চিম তীরের আক্রান্ত জেলাগুলো রাজস্ব ঘাটতির প্রায় ২২ লক্ষ টাকার দায়ভার বর্ধমানের ওপর বর্তেছিল। পরে সাধারণ রাজস্বের ক্ষতি আরও ব্যাপক আকার ধারণ করে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, একদিকে বর্বর ও শক্তিশালী শত্রুর আক্রমণ এবং অন্যদিকে পাঠান নেতাদের দলত্যাগে, অভ্যন্তরীণ অস্থিরতায় জর্জরিত আলিবর্দি খান [দিল্লির] নামমাত্র সার্বভৌম সম্রাটের রোষানল থেকে বাঁচতে তাঁর প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করে উজির সফদর জং-এর সামরিক শক্তির সমর্থন চাইলেন এই প্রতিশ্রিতিতে, সুবার ৫২ লক্ষ টাকা রাজকীয় আয়ের অর্ধেক অর্থ ভবিষ্যতে দিল্লি পাঠাবেন। আমাদের ধারণা, খালসা শরিফা বা সরকারি কোষাগারে বার্ষিক গড় আয়ের সর্বোচ্চ সীমা সম্ভবত এটাই ছিল; এবং এর সাথে যদি সুবাদারি পদের স্থায়ী আয় ১৬ লক্ষ টাকা (বা মোট আয়ের তিন-চতুর্থাংশ) যোগ করা হয়, তবে মারাঠা আক্রমণের সময়কালে নিয়মিত আদায়করা দেশের কার্যকর ও অব্যবহৃত (অন্য কোনো খাতে বরাদ্দহীন) ভূমিরাজস্বের পুরো হিসাব পাওয়া যায়। রাজশাহী, দিনাজপুর ও নদীয়ার মতো বড় জমিদারদের এলাকা মূলত গঙ্গার পূর্বদিকে অবস্থিত হওয়ায় যুদ্ধের সময় লুণ্ঠনের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছিল — তাদের থেকে ঠিক কী পরিমাণ অতিরিক্ত ও সাময়িক অর্থ আদায় করা হয়েছিল, এতকাল পরে তার উপযুক্ত হিসাব করা অসম্ভব। তবে তাঁদের বিপুল ঐশ্বর্য এবং সুবাদারের বিশেষ নমনীয় আচরণের কথা বিবেচনা করলে — বিশেষ করে প্রজাদের থেকে আদায় করা রাজস্বের প্রকৃত আয় বা হস্তবুদ যাচাই না করার বিষয়টি যে বড় অঙ্কের অর্থ ছিল, এমন অনুমান যুক্তিসঙ্গত। জরুরি প্রয়োজন এবং নিজের ইচ্ছা বাস্তবায়নে সুবাদারের অসাধারণ ব্যক্তিগত ক্ষমতা — যার জোরে তিনি এই অর্থ আদায় করতে পারতেন — বড় ভূমিকা রেখেছিল। অবশ্য এ ধরনের আকস্মিক অর্থ সংগ্রহের জটিলতাও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন; কারণ হিন্দুস্তানে এ ধরনের অর্থ সাধারণত স্বৈরতন্ত্রের কঠোর ও নির্মম দণ্ডের ভয়েই আদায় করা হতো — এবং এই পদ্ধতি ছিল স্বাধীন দেশের দেশপ্রেম-প্রণোদিত স্বেচ্ছায় রাষ্ট্রকে অর্থ দেওয়ার রীতির সম্পূর্ণ বিপরীত। তাই তাঁর বার্ষিক সব ধরনের আয়ের উৎস মিলিয়ে ৮০ লক্ষ রুপির বেশি অর্থের হিসাব ধরা আমাদের কাছে সমীচীন মনে হয় না; যদিও তাঁর নিজস্ব সঞ্চিত সম্পদ বা ব্যক্তিগত তহবিল থেকেও ব্যয় নির্বাহ করা হতো। অন্যদিকে, সরফরাজ খানের রেখে যাওয়া সম্পদের পরিমাণ — সমসাময়িক এক ফারসি ইতিহাসবিদ যা নিঃসন্দেহে অতিরঞ্জিত করে পাঁচ কোটি টাকার সোনা-দানা ও রত্ন এবং নিজস্ব জায়গির থেকে ৩৮ লক্ষ টাকার নগদ সঞ্চয় বলে উল্লেখ করেছিলেন — এবং দিল্লির সম্রাটের অধীনস্থ অন্য বড় মনসবদার বা সামন্ত প্রভুদের সামরিক সহায়তা, তাঁর ক্ষমতা দখলের শুরুর দিকে আপাত-অতিক্রমযোগ্য বাধাগুলো সফলভাবে মোকাবিলা করতে সাহায্য করেছিল। এর ফলে তিনি প্রায় দশ বছর নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও, শক্তির চরম শিখরে থাকা, ভারতের সবচেয়ে যুদ্ধবাজ জাতি হিসেবে পরিচিত, মারাঠাদের সর্বাত্মক আক্রমণ সফলভাবে প্রতিহত করেছিলেন; মারাঠারা তখন কয়েকজন দক্ষ নেতার বিশ্বাসঘাতী হত্যাকাণ্ডে, মুসলিম শাসকের কপট নীতিতে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছিল। শেষ অবদি, বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার ঐক্যবদ্ধ সুবা বাংলার সুবড় ও অমূল্য ভূখবডে [আলিবর্দি খান] কার্যত স্বাধীন কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করলেন; যে কর্তৃত্ব পরে তাঁর উত্তরাধিকারীদের কাছে হস্তান্তরিত হয় এবং যার ফলে প্রাচীন আর বৈধ শাসক ক্ষমতাচ্যুত হয়। অবশ্য এর ব্যতিক্রম ছিল; আলিবর্দি, অধিকৃত অঞ্চলের নিরাপদ ভোগদখলের নিরাপত্তা গ্যারান্টি করতে উড়িষ্যা সুবার সুবর্ণরেখা নদীর দক্ষিণের অংশ মারাঠাদের হাতে ছেড়ে দিলেন। তবে এই ব্যবস্থা ছিল তৈমুর-বংশের দুর্বল ও ক্ষয়িষ্ণু কর্তৃত্বের বিরুদ্ধে বিজয়-মত্ত দস্যুদের দাবির কাছে সম্রাটের অসহায় আত্মসমর্পণের বিপরীতে এক ধরনের আনুগত্যসূচক ক্ষতিপূরণ। শান্তি পুরোপুরি ফিরে আসার এক বছর পর, অর্থাৎ ১৭৫১ সালে, আলিবর্দি পূর্বসূরিদের অনুকরণে প্রচলিত ভূমি-রাজস্বের পাশাপাশি অতিরিক্ত কর আরোপ সমীচীন ও যথাযথ বলে মনে করলেন। ভারতের উর্বরতা যে অপরিসীম — তা তাত্ত্বিকভাবে স্বীকার করার পরেও — অনেকের কাছেই বিষয়টি বিস্ময়কর মনে হতে পারে যে, দীর্ঘ ও ধ্বংসাত্মক যুদ্ধের ঠিক পরে পরেই জমির ওপর আরও আর্থিক বোঝা চাপানো সম্ভব হলো। যুদ্ধের সময়কার সাময়িক বিপর্যয় ভারতের সাধারণ মানুষের ওপর — যাদের চাহিদা কম এবং যারা বস্তুগত ও মানসিক উভয় দিক থেকেই অনাড়ম্বর জীবনযাপনে অভ্যস্ত — অন্য দেশের তুলনায় কম প্রভাব ফেলে; বরং যুদ্ধের বিরতিটুকু মাটির জন্য এক ধরণের বিশ্রাম বা ফ্যালো (fallow) বা অনাবাদী সময়ের মতো কাজ করে, যা পরবর্তী বছরে আরও প্রচুর ফসল ফলানোর শক্তি জোগায়। তবে যারা এ দেশের পরিস্থিতি গভীরভাবে বোঝেন — যেমন, অন্যান্য দেশের তুলনায় কৃষকদের ওপর সরকারের প্রাথমিক করের বোঝা কতটা নগণ্য ছিল; সম্পদের প্রবাহ বাড়ার সাথে সাথে কীভাবে বৈধ করের পরিমাণও আনুপাতিক হারে বেড়েছে; চাষাবাদ প্রক্রিয়া কতটা সহজ অথচ বছরে দু’বার ফসল তোলার মাধ্যমে কতটা প্রচুর ফলন পাওয়া যায়; এবং কঠোর ও হিংস্র শত্রুর হাত থেকেও প্রকৃত পরিশ্রমী কৃষকরা কতটা নিশ্চিত সুরক্ষা পেতেন — তাদের কাছে এটি বিস্ময়কর মনে হবে না। কৃষকরা গবাদি পশুর অফুরন্ত ও নিরাপদ ভাণ্ডারের সুবিধা ভোগ করতেন — অন্ধবিশ্বাসী হিন্দুদের শ্রদ্ধার কারণে যা সর্বদা ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পেত এবং অবাধ চারণভূমির ব্যবহারের সুযোগ দিয়ে রাষ্ট্রও যে রাজনৈতিক বদান্যতা দেখাত, তার ফলে সেগুলো চমৎকারভাবে প্রতিপালিত হতো। স্থানীয় বা ব্যবহারিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের কাছে, বাংলার বিভিন্ন জমিদারির ওপর নতুন করে চাপানো করের বোঝা বহনের ক্ষমতা জমির ছিল — এটা সমস্যা বা সন্দেহের বিষয় নয়। বরং, অতিরিক্ত এই করের বোঝা যদি মুঘল সাম্রাজ্যের আমলে প্রবর্তিত আঞ্চলিক বিভাজন ও পরিমাপের মানদণ্ড অনুযায়ী বণ্টন করা হতো, তবে কৃষকদের ওপর সেটা বোঝা হিসেবে গণ্য না হয়ে বরং তাদের কর্মোদ্যম বাড়ানোর বিচক্ষণ পদক্ষেপ হিসেবেই বিবেচিত হতে পারত। যা-ই হোক, আলিবর্দি ১১৫৮ বঙ্গাব্দে আবওয়াব (অতিরিক্ত কর) প্রবর্তনের মাধ্যমে তাঁর শান্তিপূর্ণ আর্থিক কার্যক্রম শুরু করেন।

টিকা

১. নবাব হেসাম-উদ-দৌলা মহাবৎ জং — ১৭৪০ থেকে ১৭৫৬ পর্যন্ত বাংলার নবাব আলিবর্দি খানের উপাধি।

২. সরফরাজ খান — সুজা-উদ-দৌলার পুত্র ও উত্তরাধিকারী — ১৭৪০ সালে আলিবর্দি খানের হাতে পরাজিত ও নিহত হন।

৩. নায়েব-সুবাদার — সুবাদারের প্রতিনিধি বা উপসুবাদার — প্রাদেশিক প্রশাসন পরিচালক।

৪. মারাঠা [বর্গি]— পশ্চিম ভারতের যোদ্ধা জাতি — যারা ১৮শ শতকে বাংলায় আক্রমণ চালায়।

৫. জমা-ই-তুমারি — নির্ধারিত রাজস্ব-তালিকা — যা মুঘল আমলে ভূমির ওপর ধার্য করা হতো।

৬. খালসা শরীফা — রাজকোষ — যেখানে সরাসরি রাজস্ব জমা হতো।

৭. হস্তবুদ — জমির প্রকৃত আয়-ব্যয় ও উৎপাদন ক্ষমতা সংক্রান্ত জরিপ।

৮. আবওয়াব — মূল রাজস্বের অতিরিক্ত কর — যা পরে স্থায়ী হয়।

৯. সুবাদারি পদের স্থায়ী আয় — সুবাদারের পদাধিকারবলে প্রাপ্ত নির্দিষ্ট আয় — যা ১৬ লক্ষ টাকা হিসেবে উল্লেখিত।

১০. ফ্যালো- অনাবাদী সময় — যা মাটির উর্বরতা পুনরুদ্ধার করে।

১১. ফারসি ইতিহাসবিদ — সমসাময়িক ইতিহাসবিদ মুন্সি সালিমুল্লাহ — সরফরাজ খানের সম্পদের অতিরঞ্জিত বিবরণ দিয়েছেন।

১২. তৈমুর-বংশ-মুঘল সম্রাটদের বংশ — যারা তৈমুরের উত্তরাধিকারী বলে দাবি করতেন।

১৩. সুবর্ণরেখা নদী — ওড়িশার দক্ষিণ সীমান্ত — এই অঞ্চলকে আলিবর্দি নিরাপত্তার গ্যারান্টি হিসেবে ছেড়ে দেন।

১৪. ১১৫৮ বঙ্গাব্দ — বাংলার রাজস্ব-বর্ষ গণনার পদ্ধতি — যা ১৭৫১ খ্রিস্টাব্দের সমতুল্য।

১৫. মনসবদার — মুঘল সামরিক ও প্রশাসনিক পদমর্যাদার অধিকারী।

টিকা ২

আলিবর্দি খানের আমল বাংলার রাজস্ব ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায় —

১. আলিবর্দি তরবারির জোরে ক্ষমতা দখল করেন। সরফরাজ খান ছিলেন দুর্বল ও অযোগ্য — তাই তাঁর পতন অনিবার্য ছিল।

২. আলিবর্দির সুবাদারির প্রথম দশক ছিল মারাঠা আক্রমণ ও অভ্যন্তরীণ কোন্দলে জর্জরিত। তাই তিনি অতিরিক্ত কর আদায় করতে পারেননি; বরং রাজস্বের লক্ষ্যমাত্রাও পুরোপুরি আদায় করতে ব্যর্থ হন।

৩. ইতিহাসবিদ সালিমুল্লাসর মতে — সরফরাজ পাঁচ কোটি টাকার সোনা-দানা ও রত্ন এবং জায়গির থেকে ৩৮ লক্ষ টাকার নগদ রেখে যান। এই সম্পদই আলিবর্দিকে শুরুর বাধা মোকাবিলায় সহায়তা করে।

৪. ১৭৫১ সালে শান্তি ফিরে আসার পর আলিবর্দি আবওয়াব প্রবর্তন করেন। গ্রান্ট বলছেন — ভারতের [আদতে বাঙলা] উর্বরতা, কৃষকের ওপর করের নগণ্য বোঝা এবং বছরে দু’বার ফসল — এসব বিবেচনায় যুদ্ধের পরেই কর বাড়ানো বিস্ময়কর নয়।

৫. আলিবর্দির বার্ষিক সব আয় মিলিয়ে ৮০ লক্ষ রুপির বেশি ধরা সমীচীন নয়। খালসা শরীফায় বার্ষিক গড় আয়ের সর্বোচ্চ সীমা ছিল ৫২ লক্ষ টাকা; সুবাদারি পদের স্থায়ী আয় ১৬ লক্ষ টাকা।

৬. গ্রান্টের অভিযোগ ১৭৬৫-র দেওয়ানি লাভের সময় দেশীয় প্রশাসন এই প্রকৃত হিসাব গোপন করে এবং ইচ্ছাকৃতভাবে রাজস্বের পরিমাণ কমিয়ে দেখায়। আলিবর্দির আমলেই আবওয়াব স্থায়ী হয় — পরবর্তীতে জমিদারদের অতিরিক্ত আদায় ও কৃষক শোষণের মূল উৎস ছিল। গ্রান্টের এই অংশ আলিবর্দি খানের শাসনামল, মারাঠা আক্রমণ, সরফরাজ খানের সম্পদ এবং আবওয়াব প্রবর্তনের একটি গভীর বিশ্লেষণ। তিনি দেখান — আলিবর্দি তরবারির জোরে ক্ষমতা দখল করলেও দক্ষ প্রশাসক ও কূটনীতিক ছিলেন এবং মারাঠা আক্রমণ প্রতিহত করেন এবং শান্তি ফিরে আসার পর আবওয়াব প্রবর্তন করেন। আবওয়াবের পরিমাণ বা অনিয়ম নয়; বরং জমিদারদের অতিরিক্ত আদায় ও গোপন সম্পদ অর্জন — এই দুটোই ছিল জনগণের অসন্তোষের মূল কারণ। এই বিশ্লেষণই পরবর্তীতে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ও রাজস্ব সংস্কারের ভিত্তি তৈরি করে।

টিকা ৩

“সমসাময়িক এক ফারসি ইতিহাসবিদ যা নিঃসন্দেহে অতিরঞ্জিত করে পাঁচ কোটি টাকার সোনা-দানা ও রত্ন এবং নিজস্ব জায়গির থেকে ৩৮ লক্ষ টাকার নগদ সঞ্চয় বলে উল্লেখ করেছিলেন”

উদ্ধৃত অংশে যে ফারসি ইতিহাসবিদ, যিনি সরফরাজ খানের সম্পদ “পাঁচ কোটি টাকার সোনা-দানা ও রত্ন” এবং “নিজস্ব জায়গির থেকে ৩৮ লক্ষ টাকার নগদ সঞ্চয়” বলে উল্লেখ করেছেন — তাঁর নাম গ্রান্টের মিনিটে সরাসরি উল্লেখ নেই। গ্রান্ট তার মিনিটে সরফরাজ খানের সম্পদের বিষয়টি উল্লেখ করেছেন মূলত জাফর খানের সম্পদের সঙ্গে তুলনা করতে — যেখানে তিনি দেখান যে, মুঘল আমলে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সম্পদ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে যেত, কিন্তু উত্তরাধিকারীরা কিছু অংশ পেতেন। সরফরাজ খানের সম্পদের অতিরঞ্জিত বিবরণ সম্ভবত সেই যুগের ফারসি ইতিহাসচর্চার একটি সাধারণ প্রবণতা — যেখানে শাসকদের সম্পদ বর্ণনায় অতিরঞ্জন করা হতো। তবে দুজনের সমসাময়িকের নাম আসে তারিখ-ই-বঙ্গালাহর মুন্সি সলিমুল্লাহ আর গোলাম হোসেন সালিমের ‘রিয়াজ-উস-সালাতিন’।

মুন্সি সলিমুল্লাহ ১৭৬৩–৬৪ খ্রিস্টাব্দে ‘তারিখ-ই-বঙ্গালাহ-য় সরফরাজ খানের সম্পদের এই মূল বিবরণ প্রথম নথিবদ্ধ করেছিলেন। জেমস গ্রান্ট ১৭৮৬ খ্রিস্টাব্দে তাঁর বিখ্যাত ‘মিনিট’-র (Analysis of the Finances of Bengal) রাজস্ব বিশ্লেষণে নবাব সরফরাজ খানের ৫ কোটি টাকার রত্ন ও ৩৮ লক্ষ টাকার নগদ সঞ্চয়ের যে পাহাড় প্রমাণ হিসাব দিয়েছেন, তা হুবহু মুন্সি সলিমুল্লাহর গ্রন্থ থেকেই নেওয়া। অন্য দিকে, গোলাম হোসেন সালিমের ‘রিয়াজ-উস-সালাতিন’ লেখা শেষ হয় ১৭৮৬–৮৮ খ্রিস্টাব্দে। অর্থাৎ, জেমস গ্রান্ট যখন তাঁর মিনিট লিখে শেষ করেন, তারও প্রায় দু’বছর পর। ফলে গ্রান্টের পক্ষে তাঁর মিনিটে গোলাম হোসেন সালিমের বই ব্যবহার করা ঐতিহাসিকভাবে অসম্ভব ছিল। তবে গোলাম হোসেন সালিম ঐতিহাসিক মুন্সি সলিমুল্লাহর ‘তারিখ-ই-বঙ্গালাহ’ থেকে বহু তথ্য সরাসরি গ্রহণ করেছিলেন, ফলে এই বিবরণ তাঁর বইতেও পাওয়া যায়।

টিকা ৪

“মুঘল সাম্রাজ্যের দুর্বলতার সুযোগে সরফরাজ এই রাজ্যকে পৈতৃক সম্পত্তি ভাবতেন — যদিও তাঁর সিংহাসনে আরোহণের বৈধতার দাবি সমস্যাজনক ছিল।”

বাংলার নবাব সরফরাজ খানের সিংহাসনে আরোহণের বৈধতার দাবি সমস্যাজনক ছিল বলার পেছনে মূলত দুটি প্রধান কারণ কাজ করেছিল: মুঘল সম্রাটের আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের (ফরমান) অভাব এবং নাদির শাহের আক্রমণের সময় তাঁর আনুগত্য পরিবর্তনের অভিযোগ। মুঘল শাসনব্যবস্থার নিয়ম অনুসারে, সুবাহ বাংলার নবাব পদ বংশানুক্রমিক ছিল না। এই পদের প্রকৃত বৈধতার জন্য দিল্লির মুঘল সম্রাটের শাহী ফরমান লাভ করা বাধ্যতামূলক ছিল। ১৭৩৯ পিতা সুজাউদ্দিন খানের মৃত্যুর পর সরফরাজ সিংহাসনে বসলেও, তিনি দিল্লির দরবার থেকে তাঁর পদের এই চূড়ান্ত আইনি বৈধতা বা ফরমান নিশ্চিত করতে পারেননি। ১৭৩৯ সালে পারস্যের শাসক নাদির শাহ দিল্লি আক্রমণ করে মুঘল সাম্রাজ্যকে বিপর্যস্ত করলে, নিজের রাজ্য রক্ষা করতে সরফরাজ খান তাঁর দুই মন্ত্রী — হাজী আহমদ ও জগৎ শেঠের পরামর্শে নাদির শাহের নামে মুদ্রা তৈরি এবং খুতবা পাঠের হঠকারী নির্দেশ দেন। কোনো শাসকের নামে মুদ্রা জারি ও খুতবা পাঠ করার অর্থ হলো তাঁর রাজনৈতিক সার্বভৌমত্ব ও বৈধতা স্বীকার করে নেওয়া। নাদির শাহ দিল্লি ছেড়ে চলে যাওয়ার পর, বিহারের নায়েব নাজিম আলীবর্দী খান দিল্লির মুঘল দরবারে সরফরাজ খানের এই পদক্ষেপকে মুঘল সম্রাট মুহাম্মদ শাহের প্রতি চরম ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ ও অবাধ্যতা হিসেবে উপস্থাপন করেন। আলীবর্দী খান মুঘল সম্রাটকে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এবং দিল্লির দুর্বলতার সুযোগে নিজের নামে বাংলার সুবেদারির শাহী ফরমান জারি করিয়ে নেন। ফলে দিল্লি সরফরাজ খান শাসনের বৈধতা দিল না। এর আগে ১৭২৭-এ ঠাকুর্দা মুর্শিদকুলি খান সরফরাজ খানকে উত্তরাধিকারী মনোনীত করলেও, তাঁর পিতা সুজাউদ্দিন খান সামরিক শক্তি ও দিল্লির ফরমান দেখিয়ে সিংহাসন দখল করেন। সরফরাজকে সরে দাঁড়াতে হয়েছিল। ফলে বংশানুক্রমিক ধারার দিক থেকেও তাঁর মসনদের দাবি আগে থেকেই কিছুটা দুর্বল ও বিতর্কিত ছিল।

এই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক জটিলতার জন্যই ঐতিহাসিকরা সরফরাজ খানের সিংহাসন আরোহণের দাবিকে “সমস্যাজনক” বলেছেন। এই বৈধতার সংকটের সুযোগ নিয়েই আলীবর্দী খান ১৭৪০ গিরিয়ার যুদ্ধে সরফরাজ খানকে পরাজিত ও নিহত করে বাংলার মসনদ দখল করেন।

চলবে

ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট ফ্রম দ্য সিলেক্ট কমিটি অন দি অ্যাফেয়ার্স অফ দি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সংক্ষেপে দ্য ফিফথ রিপোর্ট।

বিশ্বেন্দু নন্দ

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ

পেজফোরনিউজ-এর নববর্ষ বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন

Currently Maintained by the2.dev