| | |
এই মুহূর্তে ::
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৭৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ SIR-এর ফাঁসে জ্ঞানেশ কুমার, কমিশনের অন্দরে অশান্তি (পঞ্চম কিস্তি) : দিলীপ মজুমদার হাসানের ইতিহাস ও বর্তমান ছুঁয়ে : নন্দিনী অধিকারী গান্ধীজী : রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কবরের ইতিহাস : সসীমকুমার বাড়ৈ ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৭৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ SIR-এর ফাঁসে জ্ঞানেশ কুমার, কমিশনের অন্দরে অশান্তি (চতুর্থ কিস্তি) : দিলীপ মজুমদার ছেলে বেলার পুজো : সুব্রত দত্ত SIR-এর ফাঁসে জ্ঞানেশ কুমার, কমিশনের অন্দরে অশান্তি (তৃতীয় কিস্তি) : দিলীপ মজুমদার শাশ্বত বোস-এর গল্প ‘সর্বভূক’ ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৭৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ SIR-এর ফাঁসে জ্ঞানেশ কুমার, কমিশনের অন্দরে অশান্তি (দ্বিতীয় কিস্তি) : দিলীপ মজুমদার শত সুরের সারস্বত সাধক — নলিনীকান্ত সরকার : রিঙ্কি সামন্ত পীযূষ কান্তি দাস-এর ছোটগল্প ‘ঝন্টু মামা ও তাঁর শিকারের গল্প’ ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৭৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ SIR-এর ফাঁসে জ্ঞানেশ কুমার, কমিশনের অন্দরে অশান্তি (প্রথম কিস্তি) : দিলীপ মজুমদার রোহিঙ্গাদের রাখাইনে ফেরা — বর্তমান পরিস্থিতিতে একট চ্যালেঞ্জ : হাসান মোঃ শামসুদ্দীন ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৭৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিশ্বজিৎ মণ্ডল-এর ছোটগল্প ‘আদমের চোখ’ ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৭৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার পার্থ সারথি পাত্র-র ছোটগল্প ‘টাইম-ব্যাঙ্ক’ ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৭৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ সার্ধশতবর্ষে কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ও শতবর্ষে সুরসম্রাট ভূপেন হাজারিকার স্মরণে : যশোবন্ত রায় মাটির নিচের ইন্টারনেট — অণুজীব ও উদ্ভিদের এক অদৃশ্য নেটওয়ার্ক : অন্বেষা গাঙ্গুলী ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৭২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ ব্রম্পটনে জ্ঞানেন্দ্রমোহন ঠাকুরের সমাধি : অসিত দাস শৌনক দত্ত-র ছোটগল্প ‘হোয়েন আই ওয়াজ ডেড’ ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৭১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ ডোকরা শিল্পীদের কাহিনি : স্বর্ণাভা কাঁড়ার
Notice :
❅ পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন, ই-মেল : pagefour2020@gmail.com, আমাদের পোর্টালের কিছু ছবি বাদে প্রায় সব ছবিই অন্তর্জাল থেকে সংগ্রহ করা হয়। কারুর যদি কপিরাইট থাকে জানাবেন। আমরা সেই ছবি পোর্টাল থেকে ডিলিট করে দেব।

ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৭৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ

Reporter
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গা / ৯৮ Views জন পড়েছেন
আপডেট শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬

[সংক্ষিপ্তসার — গ্রান্ট এখানে বাংলার রাজস্ব ইতিহাসের তৃতীয় প্রধান হিসাব উপস্থাপন করেছেন — ১৭২২ সালের মুর্শিদকুলি খানের (জাফর খানের) চূড়ান্ত বন্দোবস্ত, যা জমা কামিল তুমারী নামে পরিচিত। আওরঙ্গজেবের দীর্ঘ রাজত্বকালে বাংলার রাজস্বে আনুষ্ঠানিক বৃদ্ধি ঘটেনি; কেবল কোচবিহার (১৬৬০) ও চট্টগ্রাম (১৬৬৫) জয়ের ফলে রাজস্ব নিয়মিত জমা পড়ত। সম্রাট তাঁর শেষ ২৫ বছর দাক্ষিণাত্যের যুদ্ধে ব্যস্ত থাকায় বাংলার দায়িত্ব পৌত্র আজিম-উশ-শানের ওপর ন্যস্ত করেন। দেওয়ানির দায়িত্ব পান জাফর খান (মুর্শিদকুলি খান) — যিনি সততা ও উচ্চাকাঙ্ক্ষার পরিচয় দিয়ে যুবরাজের স্বার্থবিরোধী পদক্ষেপ প্রতিহত করেন। মুর্শিদকুলি খান তকসীম-ই-জমা বা রাজস্বের সুষম বণ্টনের সর্বশেষ ও কার্যকর সংস্কার করেন। তিনি ১৭১৭ সালে রাজধানী ঢাকা থেকে মুর্শিদাবাদে স্থানান্তর করেন; ৩,০০০ অশ্বারোহী রক্ষীবাহিনী বিলুপ্ত করে এবং জায়গির ওড়িশায় স্থানান্তর করে ১০ লক্ষ টাকা সাশ্রয় করেন। সাতগাঁওয়ে হস্তাবুদ জরিপ করে সাড়ে ১১ লক্ষ টাকা নিট আয় যুক্ত করেন। ১৭২২ সালের চূড়ান্ত হিসাব: সমগ্র বাংলাকে ১৩টি চাকলায় বিভক্ত করা হয়; ৩৪টি সরকারের পরিচয় বজায় রেখে পরগনার সংখ্যা ১,৬৬০-এ উন্নীত করা হয়। মোট রাজস্ব দাঁড়ায় ১,৪২,৮৮,১৮৫ সিক্কা রুপি। এর মধ্যে খালসা অংশ ১,০৯,০৬,৭০৯ টাকা এবং জায়গির বরাদ্দ ৩৩,২৭,৭৭৭ টাকা। গ্রান্টের মূল বক্তব্য — এই চূড়ান্ত বন্দোবস্তই ছিল বাংলার প্রকৃত রাজস্ব, যা ১৭৬৫ সালে দেওয়ানি লাভের সময় দেশীয় প্রশাসন গোপন করেছিল।]

যাই হোক, সম্রাট আলমগীরের দীর্ঘ ও বলিষ্ঠ রাজত্বকালে — বিশেষ করে তাঁর ভাই শাহজাদা সুজাকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর — বাংলার রাজস্ব আদায়ে আনুষ্ঠানিক বৃদ্ধি ঘটেনি। অবশ্য রাজকোষে রাজস্ব নিয়মিত জমা পড়ার বিষয়টি এর ব্যতিক্রম হিসেবে গণ্য করা যেতে পারে; এটা সম্ভব হয়েছিল ক্ষমতাসীন সম্রাটের ভয়ে সমগ্র অঞ্চলকে বশ মানানোর ফলে, অথবা ১৬৬০-এ কোচবিহার এবং তার পাঁচ বছর পর চট্টগ্রাম (নতুন নাম ইসলামাবাদ) জয়ের ফলে। সম্রাট তাঁর জীবনের শেষ ২৫ বছর দাক্ষিণাত্য জয়ের যুদ্ধে ব্যস্ত ছিলেন। দূরবর্তী পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোর পরিচালনার দায়িত্ব তিনি তাঁর পৌত্র আজিম-উশ-শানের ওপর ন্যস্ত করেছিলেন — তবে তা রাজস্ব বাড়ানোর উদ্দেশ্যে নয়, বরং রাজকীয় মর্যাদার অংশ হিসেবেই। তাই তিনি কখনোই নির্ধারিত রাজস্ব/খাজিনার চেয়ে বেশি কিছু দাবি করেননি। তবে রাষ্ট্রের প্রয়োজনে সেই নির্ধারিত অর্থ যথাযথভাবে আদায়ের তাগিদে তিনি দেওয়ানির দায়িত্ব এমন এক ব্যক্তির ওপর অর্পণ করেন, যিনি এর আগে নিম্নতর পদে নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছিলেন। সেই ব্যক্তি তাঁর সততা ও প্রশংসনীয় উচ্চাকাঙ্ক্ষার পরিচয় দিয়েছিলেন যুবরাজ-সুবাদারের এমন কিছু পদক্ষেপ দৃঢ়ভাবে প্রতিহত করার মাধ্যমে, যা ছিল সার্বভৌম শাসকের সম্মান আর স্বার্থের পরিপন্থী — অথচ সেই শাসক ছিলেন এমন একজন, যিনি যেমন পুরস্কার প্রদানে তৎপর ছিলেন, তেমনি এমন আচরণের গুণাগুণ বা তাৎপর্য অনুধাবনেও ছিলেন অত্যন্ত তীক্ষ্ণ। বিশেষ মর্যাদা পাওয়া সেই ব্যক্তিটি ছিলেন বিখ্যাত জাফর খান [মুর্শিদকুলি খান]। তাঁর পরবর্তী প্রশাসনিক কার্যক্রম বাংলার রাজস্ব ইতিহাসের সবচেয়ে উজ্জ্বল অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়; কারণ এটা ছিল তকসীম-ই-জমা বা রাজস্বের সুষম বণ্টনের ক্ষেত্রে সর্বশেষ ও অত্যন্ত কার্যকর সংস্কারের যুগ। প্রতিটি আঞ্চলিক বিভাগের সক্ষমতা অনুযায়ী এই রাজস্ব নির্ধারণ করা হয়েছিল। এমনকি আজও — যদিও অনেক সুপণ্ডিত স্থানীয় বাসিন্দাও বিষয়টি জানেন না — জমিদারি সনদ বা ইজারার মাধ্যমে জমি বরাদ্দ ও বার্ষিক কর নির্ধারণের ক্ষেত্রে এটাই একটা প্রতিষ্ঠিত ও কার্যকর নিয়ম হিসেবে টিকে আছে। এই নিয়ম এমন এক সময়ে প্রয়োগ করা হল যখন রাজস্বের উপযুক্ত উৎস, জমির প্রকৃত পরিমাপ আর আয়তন, স্বৈরতান্ত্রিক সার্বভৌম ক্ষমতার অবিচ্ছেদ্য অধিকার ছিল এবং সেই ক্ষমতার উৎস থেকে উদ্ভূত ন্যায়সঙ্গত রাজনৈতিক সুবিধাসমূহ সম্পর্কে উপযুক্ত জ্ঞান আর বিচক্ষণতার পরিচয় দেওয়া হতো। এই সুবিধার অংশীদার ছিলেন কৃষিকাজে নিয়োজিত বিশাল জনগোষ্ঠী — উচ্চপদস্থ ভূমিমালিক থেকে শুরু করে কঠোর পরিশ্রমী দরিদ্র রায়তও — যাদের মধ্যে সুশৃঙ্খল ক্রমবিন্যাস বিদ্যমান ছিল। ভারতীয় শাসনব্যবস্থার প্রধান আর প্রয়োজনীয় বিষয় নির্ধারণে টোডরমলের মানদণ্ডকে যিনি পূর্ণতা দিয়েছিলেন বলে মনে করা হয়, সেই অর্পিত-ক্ষমতা-পাওয়া ও আইন-প্রণয়নকারী অর্থ-প্রশাসক [মুর্শিদকুলি খান] ব্রাহ্মণ পিতামাতার ঘরে জন্মগ্রহণ করেছিলেন; এবং হিন্দুদের সেই বিশেষ শ্রেণীর সাংবিধানিক প্রবণতা বা জাতীয় চরিত্রকে যদি তাঁর বংশপরিচয়ের প্রমাণ হিসেবে ধরা হয়, তবে তাঁর পূর্বপুরুষদের পরিচয় নিয়ে সন্দেহের অবকাশ থাকে না। তাঁদের সমস্ত বৈশিষ্ট্য — যেমন উদাসীনতা, ধৈর্য, সূক্ষ্ম বুদ্ধিমত্তা, মিতব্যয়িতা, খুঁটিনাটি বিষয়ে মনোযোগ এবং রক্তপাত বা মৃত্যু ঘটায় না এমন নিষ্ঠুরতা — তাঁর মধ্যে বিদ্যমান ছিল; পাশাপাশি ঊর্ধ্বতনদের প্রতি ছিল চরম বশ্যতা, আর ঠিক একই নীতিতে অধীনস্থদের প্রতি — যারা কোনোভাবে তাঁর খেয়ালখুশিমতো অসন্তোষের কারণ হতো — তিনি ছিলেন নির্মম ও অত্যাচারী। জন্মগত গুণাবলির সাথে মুসলিম শিক্ষা যুক্ত হয়ে তাঁর চরিত্রে এক নতুন প্রাণশক্তি ও পরিশীলিত ভাব এনে দিয়েছিল। শৈশবে ইস্পাহানের হাজি শফিয়ার কাছে ক্রীত হয়ে তিনি পারস্যে নীত হন এবং সেখানে মোহাম্মদ হাদি নামে ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত ও লালিত-পালিত হন। পৃষ্ঠপোষকের মৃত্যুর পর তিনি দাক্ষিণাত্যে ফিরে আসেন এবং শীঘ্রই সম্রাট আলমগীরের (আওরঙ্গজেব) অধীনে চাকরিতে নিযুক্ত হন। সম্রাট প্রথমে তাঁকে করতলব খান উপাধিতে ভূষিত করে হায়দ্রাবাদের দেওয়ান নিযুক্ত করেন; পরে মুর্শিদকুলি খান উপাধি দিয়ে বাংলার সুবায় একই পদে বদলি করেন। ১৭০৭ সালে সম্রাটের মৃত্যুর ঠিক আগে শাহজাদা আজিম-উস-শানের প্ররোচনায় তাঁর প্রশাসনিক কার্যকলাপ নিয়ে অভিযোগ ওঠা সত্ত্বেও আহমেদনগরে তাঁকে এই পদে বহাল রাখা হয়; এমনকি পরবর্তী শাসক বাহাদুর শাহের পুরো আমলজুড়ে তিনি নিজের পদ ও প্রভাব অক্ষুণ্ণ রাখতে সক্ষম হন। ১৭১৩ সালে ফারুখশিয়ার হিন্দুস্তানের সিংহাসনে আরোহণ করলে বাংলার নিজামত পদ শূন্য হয়; তখন ব্যাংকার জগৎ শেঠের সহায়তায় জাফর খান অত্যন্ত সুবিধাজনক শর্তে সেই পদ নিজের জন্য অদজিকার করেন এবং মুতামন-উল-মুলক, আলাউদ্দৌলা ও আসাদ জং-এর মতো উচ্চতর উপাধি লাভ করেন। তবে সম্ভবত এই যাত্রায় তাঁর সৌভাগ্যের মূল কারণ ছিল সেই বলিষ্ঠ মানসিকতা ও দৃঢ়তা, যা তিনি দিল্লির নিযুক্ত দুজন পরপর সুবাদারের বিরুদ্ধে প্রদর্শিত প্রতিরোধ ও রণক্ষেত্রে তাঁদের পর্যুদস্ত করার মাধ্যমে প্রমাণ করেছিলেন। উল্লেখ্য, ওই একই বছরে সংঘটিত গৃহযুদ্ধে জাহান্দার শাহ তাঁর আপন ভ্রাতুষ্পুত্রের হাতে ক্ষমতা ও প্রাণ — উভয়ই হারিয়েছিলেন এবং সেই সময়েই দিল্লি থেকে ওই সুবাদারদের পাঠানো হয়েছিল। ঠিক এই সময়কাল থেকেই আর্থিক প্রশাসনের ওপর তাঁর নিরঙ্কুশ ও অবাধ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়; কারণ কার্যত একই ব্যক্তির হাতে তখন নাজিমের মতো উচ্চপদ এবং অর্থ-প্রশাসনের দায়িত্ব — উভয়ই ন্যস্ত হয়েছিল। এই পরিবর্তনের প্রথম ফল ছিল ১৭১৭-য় প্রশাসনিক কেন্দ্র বা রাজধানীর স্থানান্তর — জাহাঙ্গীরনগর (বা ঢাকা) থেকে মুর্শিদাবাদে। মুর্শিদাবাদ ছিল সামগ্রিকভাবে সমস্ত জেলার তুলনায় অধিকতর কেন্দ্রীয় অবস্থানে এবং এটা ছিল জাফর খানের (মুর্শিদকুলি খান) সেই আবাসস্থল যেখানে তিনি কেবল দেওয়ান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে থাকতেন। এরপর সরকারি রাজস্বের ব্যবস্থাপনা ও ব্যয়ের ক্ষেত্রে আগে শুরু হওয়া সংস্কার কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। প্রদেশের একমাত্র নিয়মিত ও স্থায়ী বেতনভুক্ত বাহিনী হিসেবে ৩,০০০ অশ্বারোহীর যে রাজকীয় রক্ষীবাহিনী ছিল, তাকে একটা অকার্যকর ব্যবস্থা হিসেবে গণ্য করা হয়; কারণ, গঙ্গার পশ্চিম তীরের কয়েকটি স্থান ছাড়া এই অঞ্চলের নিচু ভূমি ও অসংখ্য নদ-নদীর কারণে অশ্বারোহী বাহিনীকে কার্যকরভাবে ব্যবহার করা সম্ভব ছিল না — তাই বিদেশি আক্রমণ প্রতিরোধ কিংবা অভ্যন্তরীণ শান্তি বজায় রাখার ক্ষেত্রে এই বাহিনী কোনো কাজে আসত না। এই বাহিনী বিলুপ্ত করার ফলে — যা প্রকৃতপক্ষে আঞ্চলিক প্রশাসকের উচ্চাকাঙ্ক্ষা দমনে নিয়োজিত অন্যতম প্রধান রাজকীয় নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা তুলে নেওয়ার শামিল ছিল — এবং সেই সাথে বাংলার কিছু জায়গির প্রতিবেশী ওড়িশা সুবায় স্থানান্তরের মাধ্যমে বার্ষিক রাজস্বের খালসা (সরাসরি সরকারি নিয়ন্ত্রণাধীন) অংশে ১০ লক্ষ টাকা সাশ্রয় হয়। এছাড়া, প্রচলিত আনুপাতিক কর হার যাচাই ও সামঞ্জস্য বিধানের লক্ষ্যে অভ্যন্তরীণ জেলাগুলোতে — বিশেষ করে সাতগাঁওয়ে — পরিচালিত হস্তবুদ (বাস্তব আয়-ব্যয় ও উৎপাদন ক্ষমতা বিষয়ক) জরিপের ফলে রাজকোষে আরও সাড়ে ১১ লক্ষ টাকার নিট আয় যুক্ত হয় অথবা তা পূর্ববর্তী রাজস্ব তালিকার সাথে স্থায়ী বৃদ্ধি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তদনুসারে এই নানাবিধ সংস্কারসমূহ জমা কামিল তুমারি Jumma Kaumil Toomary — অর্থাৎ বাংলার রাজকীয় রাজস্বের এক অধিকতর নিখুঁত ও চূড়ান্ত হিসাব-বিবরণীতে — অন্তর্ভুক্ত করা হল। এই হিসাব শেষ পর্যন্ত নবাব জাফর খান কর্তৃক মোহাম্মদ শাহের রাজত্বের চতুর্থ বছরে (হিজরি ১১৩৫, ফসলি-বাংলা ১১২৮ এবং খ্রিস্টীয় ১৭২২ সালের সমসাময়িক) চূড়ান্ত রূপ পায়; উল্লেখ্য যে, এটা ছিল এ দেশে প্রকৃত ব্রিটিশ বিজয়ের মাত্র ৩৫ বছর আগেকার এবং সিডেড Ceded ও দেওয়ানি Dewanny ভূমি হিসেবে পূর্ণাঙ্গ আনুষ্ঠানিক অধিকার লাভের ৪৪ বছর পূর্ববর্তী ঘটনা। সমগ্র অঞ্চলকে ১৩ চাকলা বা বড় ভূ-বিভাগে নতুন করে বিন্যস্ত করা হয়েছিল, যা সমসংখ্যক পৃথক ফৌজদারি ও আমিলদারি জেলা — অর্থাৎ দেওয়ানি ও সামরিক প্রশাসনিক এলাকার — গঠন করেছিল। এই নতুন বিন্যাস প্রাচীন ৩৪টি সরকার (circar)-এর সমন্বয়ে গঠিত হলেও সেগুলোর স্বতন্ত্র পরিচয় তখনও বজায় রাখা হয়েছিল এবং এর আওতায় পুরনো পরগনাগুলোকে আরও সূক্ষ্ম উপ-বিভাগে বিভক্ত করে মোট পরগনার সংখ্যা ১৬৬০-এ বাড়ানো হয়। রাজস্ব ও আয়তনের বিচারে সমগ্র সুবার মূল্যায়ন এবং এর অন্তর্ভুক্ত জায়গির ও জমিদারি স্বত্বাধীন ভূমির অনির্দিষ্ট ও পরিবর্তনশীল বিন্যাস নির্ধারণের ক্ষেত্রে এই পরগনাগুলো প্রয়োজনীয় ও সুনির্দিষ্ট একক হিসেবে কাজ করত; যথা —

এর আগে আমরা দুটো হিসাব দেখেছি : ১৫৮২-র টোডরমলের আসল তুমার জমা এবং ১৬৫৮-র সুলতান সুজার বাড়ানো তুমার জমা। এবার আমরা দেখব গ্রান্টের দেওয়া তৃতীয় হিসাব — ১৭২২-র মুর্শিদকুলি খানের ১৩ চাকলায় চূড়ান্ত বন্দোবস্ত।

চাকলা (Chuckleh)

১ম — বন্দর বালাসোর (Bunder Balasore): বন্দর ও সংলগ্ন ভূখণ্ড সহ — রুমনেহ, বুস্তেহ ও মুস্কুরির কিসমত বা বিভক্ত সরকার থেকে; যা শাহজাহানের রাজত্বকালে ওড়িশা সুবা থেকে বিচ্ছিন্ন করে বাংলার সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছিল; প্রায় ১৭৫০ সাল পর্যন্ত তা পূর্বের প্রদেশেই ফিরিয়ে দেওয়া হয়; তবে মূলত জাফর খানের জমা তুমারী হিসাবে গণ্য ছিল … ১৭ মহল … ১,০৮,৮৭৬ টাকা।

২য় — হিজলি (Hejellee): ওড়িশার মালজেটিয়া, জলেশ্বর ও মুস্কুরির কিসমত থেকে গঠিত — যেখানে জালামুঠা, দুরদুমনাহ, মহিষাদল ইত্যাদির কাদা ও লবণাক্ত জমির অনুপাত প্রায় ৯:১ … ৩৫ পরগনা … ৪,১৮,৫৮৯ টাকা।

ওড়িশা থেকে সংযুক্তির মোট (তমুলুক ছাড়া): ৫২ পরগনা … ৫,২৭,৪৬৫ টাকা।

৩য় — মুর্শিদাবাদ (Moorshedabad): উদেম্বের, জন্নতাবাদ, বারবেকাবাদ, শরীফাবাদ ও মাহমুদাবাদের বড় অংশ; সাতগাঁওয়ের কয়েকটি পরগনা; দারুল জের্ব বা টাঁকশালের প্রায় সম্পূর্ণ কর; চুনাকোলির সায়ের ইত্যাদি নিয়ে গঠিত। সামগ্রিকভাবে এটি রানী ভবানীর জমিদারির সেই অংশ, যা রাজশাহী নামে পরিচিত; কসিমবাজারের অধিকাংশ উর্বর দ্বীপ, বীরভূমের দুই-তৃতীয়াংশ, উখড়ার দুই-পঞ্চমাংশ; তুত্তেসিং, আসিদনগর, সত্যাশেখ ইত্যাদি সম্পূর্ণ; গঙ্গার পশ্চিমে রুকুনপুর, লশকরপুর ও চুন্দলাই ইত্যাদি; গঙ্গার পূর্বে … ১১৮ পরগনা … ২৯,৯৯,১২৬ টাকা।

৪র্থ — বর্ধমান (Burdwan): শরীফাবাদ, মন্দারন, পেশকাশ সরকার থেকে গঠিত; সেলিমাবাদের বড় অংশ, সাতগাঁওয়ের একটি অংশ; বর্ধমানের সমৃদ্ধ জমিদারি সহ; বীরভূমের এক-তৃতীয়াংশ; বিষ্ণুপুর ও পচেতের সম্পূর্ণ করদ জেলা … ৬১ পরগনা … ২২,৪৪,৮১২ টাকা।

৫ম — হুগলি বা সাতগাঁও (Houghly or Satgong): মূলত একই নামের সরকার, সেলিমাবাদ ও মন্দারনের অবশিষ্ট, খলিফেতাবাদের তিনটি পরগনা এবং ওড়িশার গোয়ালপাড়ার একটি অংশ নিয়ে গঠিত; এর মধ্যে কলকাতার কোম্পানির জমিদারি, উখড়া বা কিশেনগরের তিন-পঞ্চমাংশ, বর্ধমানের কিছু সংযুক্তি, তমুলুক মাইহেট্টি, বক্সবন্দরের সায়ের ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত … ১১৫ পরগনা … ১৫,৩৯,০০৩ টাকা।

৬ষ্ঠ — ভূষণা (Bhoosnah): মাহমুদাবাদ সরকার, ফতেহাবাদের অংশ নিয়ে গঠিত; রানী ভবানীর জমিদারির সেই অংশ যা নেলডি নামে পরিচিত; মেহমুদশাহী ইত্যাদি সম্পূর্ণ … ১১৫ পরগনা … ৬,৭৮,৫৭৮ টাকা।

৭ম — যশোর (Jessore): খলিফেতাবাদ সরকার, সাতগাঁওয়ের অবশিষ্ট ও ফতেহাবাদের অংশ নিয়ে গঠিত; ইউসুফপুর, সৈদপুর ইত্যাদি জমিদারি … ৭৯ পরগনা … ৩,৫৩,২৬৬ টাকা।

গঙ্গার পশ্চিমে ৫টি চাকলার মোট (পূর্বের কয়েকটি জেলা ব্যতীত): ৪৮৬ পরগনা … ৭৮,১৪,৭৮৫ টাকা।

৮ম — আকবরনগর (Akbernagur): উদুম্বর ও জন্নতাবাদ সরকারের অবশিষ্ট; পূর্ণিয়া ও তাজপুরের সম্পূর্ণ; যা থেকে আধুনিক কাঁকজোল বা রাজমহল ও পূর্ণিয়া প্রদেশ গঠিত; পিঞ্জেরাহ বা দিনাজপুরের বিস্তীর্ণ জমিদারির এক-তৃতীয়াংশ … ১১৮ পরগনা … ৯,২৬,২৬৬ টাকা।

৯ম — ঘোড়াঘাট (Ghorah Gaur): একই নামের সরকার, পিঞ্জেরাহ ও কুচবিহারের সম্পূর্ণ; বাজোয়া ও বারবেকাবাদের বড় অংশ; রানী ভবানীর জমিদারির ভেটোরিয়াঘ নামে পরিচিত অংশ; দিনাজপুরের দুই-তৃতীয়াংশ, রংপুরের আধুনিক প্রদেশ, সিলবেরি, বুরবাজু, আতেহ ও কাগমারির ছোট জেলা … ৪৫১ পরগনা … ২১,৮০,৪১৫ টাকা।

১০ম — খড়ি-বাড়ি (Curry-Bary): কুচবিহার ও আসাম থেকে বিচ্ছিন্ন ছোট সরকার — বাংলাভূম, দক্ষিণকোল, ঢেকরি, কামরূপ; বাজোয়ার একটি ছোট অংশ; ব্রহ্মপুত্রের পূর্বে; বাহারবন্দ, সুসং ইত্যাদি জমিদারি … ২৫ পরগনা … ২,০২,৭০৫ টাকা।

১১শ — জাহাঙ্গীরনগর (Jehangeer-Nagur): সোনারগাঁও, বাকলাহ,উদয়পুর ও মোরাদ-খানেহের সম্পূর্ণ সরকার; বাজুহা ও ফতেহাবাদের অবশিষ্ট; অসংখ্য ছোট জমিদারিতে বিভক্ত; প্রধান জালালপুরের অধীনে শ্রেণীবদ্ধ; ত্রিপুরা জেলা ব্যতীত … ২৩৬ পরগনা … ১৯,২৮,১৯৪ টাকা।

১২শ — সিলেট (Silhet): প্রাচীন সরকার ও আধুনিক প্রদেশ; সেরাইল ও তরফ পরগনা বাদে … ১৪৮ পরগনা … ৫,৩১,৪৫৫ টাকা।

১৩শ — ইসলামাবাদ (Islamabad): চট্টগ্রাম সরকার সহ; আলমগীর কর্তৃক হ্রাস ও গঠিত … ১৪৪ পরগনা … ১,৭৬,৭৯৫ টাকা।

গঙ্গার পূর্বে ৬টি চাকলার মোট : ১,১২২ পরগনা … ৫৯,৪৫,৯৩০ টাকা।

বাংলার ১৩টি চাকলার মোট জমা কামিল তুমারী, খালসা ও জায়গির ভূমি, মহল ও সায়ের: ১,৬৬০ পরগনা … ১,৪২,৮৮,১৮৬ টাকা।

জমা কামিল তুমারী, সারসংক্ষেপে পুনরুক্ত ও বিশ্লেষিত।

বাংলার খালসা অংশ ও রাজস্ব, নিম্নরূপ:

আসল (Ausil): ১৫৮২ সালে টোডরমলের প্রতিষ্ঠিত মূল মূল্যায়ন — রাজকোষের এখতিয়ারের অধীন ভূমির জন্য; ১৯টি সরকার, ৬৮২ পরগনা … ৬৩,৪৪,২৬০ টাকা।

ওয়াসিল (Wasil): নতুন অধিকৃত অঞ্চল ও রাজস্বের উৎস — বিজয় বা অন্যথায়; সুবার প্রথম বন্দোবস্ত থেকে বর্তমান পর্যন্ত; ১৫টি সরকার, ৩০৭ পরগনা; প্রতিষ্ঠিত খাজনার অনুপাত … ১৪,৩৫,৫৯৩ টাকা।

মোট মূল মূল্যায়ন ৩৪টি সরকার, ৯৮৯ পরগনা, রাজস্ব … ৭৭,৭৯,৮৫৩ টাকা।

এজাফা (Ezafa): পুরনো খাজনার বৃদ্ধি — ভূমির ক্রমোন্নতি, বার্ষিক হস্তাবুদের প্রকৃত উৎপাদন, বা পর্যায়ক্রমিক তদন্তের মাধ্যমে; এখানে মুনাফা কেবল অন্তর্দেশীয় জেলাগুলোতেই সীমাবদ্ধ ছিল এবং প্রাচীন পরগনার সূক্ষ্ম উপবিভাগে বিভিন্ন নামে অতিরিক্ত হিসাবে উপস্থাপিত; যথা:

শাহজাহানের রাজত্বের শেষে, ১৬৫৮ সালে: ৩৬১ পরগনা … ৯,৮৭,১৬২ টাকা।

মুহাম্মদ শাহের রাজত্বের শুরুতে, ১৭২২ সালে: ৩১০ পরগনা … ১১,৭২,২৭৯ টাকা।

মোট উন্নতি: ৬৭১ পরগনা … ২১,৫২,৪৪১ টাকা।

জেবতী (Zebty): পুনরুদ্ধারকৃত ভূমি — পূর্ববর্তী বিভাগগুলোতে ছড়িয়ে আছে, তবে জায়গিরে বরাদ্দ; ৩,০০০ অশ্বারোহী স্থায়ী সেনাবাহিনী ও কয়েকজন মুন্সবদারের ব্যয় নির্বাহের জন্য; দেশের প্রথম বন্দোবস্ত থেকে জাফর খানের শাসনামল পর্যন্ত; যখন পূর্ববর্তী প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণভাবে হ্রাস করা হয় এবং পরবর্তীটির বরাদ্দ ওড়িশা সুবায় স্থানান্তরিত হয়; উভয়ের পরিমাণ রাজকোষের প্রাপ্তিতে অন্তর্ভুক্ত … ১০,২১,৪১৫ টাকা।

মোট খালসা অংশ — ৩৪টি সরকার, ১৩টি চাকলায় গঠিত, ১৬৬০টি পরগনায় উপবিভক্ত, মূল্যায়িত … ১,০৯,০৬,৭০৯ টাকা।

জায়গির বরাদ্দ — তখন মূল খাজনায় হ্রাসকৃত … ৩৩,২৭,৭৭৭ টাকা।

১৭২২ সালে সমগ্র বাংলা সুবার আরও নিখুঁত রাজকীয় আনুপাতিক মূল্যায়নের মোট … সিক্কা রুপি ১,৪২,৮৮,১৮৫ টাকা।

[৭৮ কিস্তির টিকা পরের ৭৯ কিস্তিতে]

চলবে

ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট ফ্রম দ্য সিলেক্ট কমিটি অন দি অ্যাফেয়ার্স অফ দি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সংক্ষেপে দ্য ফিফথ রিপোর্ট।

বিশ্বেন্দু নন্দ

আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন

Currently Maintained by the2.dev