শীত শুরু হলেও এবারে সবজির দাম কমেনি। চাষিরা বলছেন, ফলন কম। তাই বাজারে শীত মরশুমেও কমছে না সবজির দাম। ফাঁপড়ে পড়েছে গৃহস্থ। কিছুদিন ধরে ঠান্ডা-গরম আবহাওয়া চলছিল। নভেম্বর শেষ হতেই শীতের আমেজ। প্রতি বছর এই সময়টা সবজির দাম কম থাকে। কারণ শীতকালীন বিভিন্ন শাক- সবজি বাজারে প্রচুর পরিমাণে আমদানি হয়। বাঙালি এই সময়টা স্বল্প দামে সবজি কেনার সুযোগ পান। এবারে বিপরীত চিত্র লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বেগুনের কেজি ১০০ টাকা ছুঁয়েছে! শিম, উচ্ছে প্রভৃতিও ১০০ ছুঁই ছুঁই। শীতের সবজির মধ্যে তুলনামূলকভাবে কিছুটা দাম কম ফুলকপি, বাঁধাকপির। এই দুটো গুরুত্বপূর্ণ সবজিকে বিশেষ কাবু করতে পারেনি। ভালো সাইজের ফুলকপি ২০ টাকার আশপাশে। বাঁধাকপির কেজি ৩৫-৪০ টাকা।
রাজ্য সরকারের খাদ্য সংক্রান্ত টাস্ক ফোর্সের সদস্য কমল দে জানান, ঠান্ডা হঠাৎ কমে যাওয়ার ফলেই বেগুন, উচ্ছে, শিম প্রভৃতির ফলন কিছুটা কমেছে। শীত একটু পড়তেই চাষিরা এই সবজিগুলি মাঠে লাগিয়েছিলেন। কিন্তু হঠাৎ তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ার ফলে এসব সবজির ফুল পরিণত হচ্ছে না। ফলন কমেছে তার জন্য। ফলে বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বাড়ছে। পাইকারি বাজারে এসব সবজির দাম ৭০-৮০ টাকার আশাপাশে চলে এসেছে। আর একটু শীত পড়লেই এসব সবজির ফলন এবং জোগান বাড়বে।
শীত পড়ে গেলেও টম্যাটোর দাম এখনও চড়া। খুচরো বাজারে ৮০ টাকার আশপাশে। ভিন রাজ্যের চালানি এই সবজির দাম বেশি। চলতি সপ্তাহে পুরুলিয়া থেকে টম্যাটোর সরবরাহ শুরু হবে বলে টাস্ক ফোর্স আশা করছে। তখন দাম কিছুটা কমবে। উল্লেখ্য, শীতকালে রাজ্যে উৎপাদিত টম্যাটো এর প্রথমে আসে পুরুলিয়া থেকে। শীতের শেষদিকে দক্ষিণ ২৪ পরগনা-সহ বিভিন্ন জেলা থেকে বিপুল পরিমাণে টম্যাটো আসতে শুরু করে বাজারে। এর তখন দাম বেশ কমে যায়। বাজারে এখন টাটা কড়াইশুঁটির দেখা মিলছে। তব এর দাম খুবই চড়া-১০০ টাকার বেশি। কড়াইশুঁটি হিমাচল প্রদেশ থেকে আসছে।