প্রাচীনকালে একজন শাসক কতটা দুর্নীতিগ্রস্ত ছিলেন, এটা বুঝতে হলে প্রথমেই দেখতে হয় সে রাজাটি তার প্রজাদের কাছ থেকে কতটুকু উপঢৌকন গ্রহণ করতেন। সেকালে অর্থলোলুপ রাজারা একটি প্রথা চালু করেছিলেন। যখনই কোনো প্রজা সেই রাজ্যের রাজা-মহারাজাদের সঙ্গে দেখা করতে আসত দরখাস্ত কিংবা কোনো আর্জি নিয়ে, তখনই প্রজাদের দিতে হতো বিপুল পরিমাণ উপঢৌকন। ৩২৬ খ্রিষ্টপূর্বের কথা। চাণক্যের অসীম সাহায্য-সহযোগিতা ও বুদ্ধির বলে তার যোগ্য শিষ্য চন্দ্রগুপ্ত মগদের অত্যাচারী, বর্বর ও অর্থলোলুপ রাজা ধননন্দকে উৎখাত করে বসেছিলেন সিংহাসনে। ধননন্দকে সিংহাসন থেকে উৎখাত করার বেশ কিছুদিন আগে একদিন পণ্ডিত চাণক্য উপস্থিত ছিলেন ধননন্দের রাজদরবারে। তিনি তার পুঁথিতে লিখেছেন-একদিন বেশকিছু প্রজা কর কমানোর আর্জি নিয়ে রাজদরবারে হাজির হয়েছেন। রাজা ধননন্দকে যথাসময়ে জানানো হলো সে কথা। ধননন্দ বললেন, বুঝলাম। কিন্তু রাজদর্শন করতে এরা কি কোনো উপঢৌকন সঙ্গে এনেছে? আবেদন-নিবেদন-বিচার-যে কাজেই আসুক, রাজসভায় পদার্পণ করলে রাজাকে উপঢৌকন দিতে হয়। পুরোনো এ প্রথার কথা কি এদের জানা নেই? চাণক্য ধননন্দের এসব কথা শুনে মনে মনে বললেন, এটা তো দেশবাসীরই জানা। এটাই হচ্ছে ধননন্দের ব্যক্তিগত আয়ের আরেকটি উৎস। প্রধানমন্ত্রী, অমাত্য বটুকেশ্বরের দিকে তাকিয়ে বললেন, উপস্থিত আবেদনকারীরা রাজার জন্য কী কী উপঢৌকন এনেছেন তাড়াতাড়ি সম্রাটকে নিবেদন করুন। অমাত্য বটুকেশ্বর লজ্জিতভাবে বললেন, এরা কিছুই আনেনি সম্রাট। সবাই রিক্ত হস্তে এসেছে। বলছে উপঢৌকন দেওয়ার মতো সামর্থ্য এদের নেই। বিকৃত হয়ে উঠল ধননন্দের মুখ। এতদিনের প্রচলিত প্রথা লঙ্ঘন করেছে এরা। এদের গলা ধাক্কা দিয়ে বের করে দিন রাজদরবার থেকে।
এ তো গেল প্রায় আড়াই হাজার বছর আগের ইতিহাস। এখন দুশ বছর আগের একটি কাহিনি বলি। সময়টা ১৭১৫ সাল। তখন সম্রাট আওরঙ্গজেব গত হয়েছেন। তার নাতি ফররুখ্শিয়ার দিল্লির বাদশা। ইংরেজরা কলকাতায় ব্যবসা-বাণিজ্য ফেঁদে বসেছেন ভালোই। তারা তাদের প্রতিপত্তি বৃদ্ধি করতে চান আরও বহুগুণ। তারা চিন্তা করলেন বিপুল পরিমাণ ঐশ্বর্য-উপঢৌকন নিয়ে দেখা করবেন ফররুখ্শিয়ারের সঙ্গে। ফররুখ্শিয়ার বিলেতি খেলনা খুব ভালোবাসেন। বড় হয়েও খেলনার লোভ ছাড়তে পারেননি তিনি। ইংরেজরা ভাবলেন অন্যান্য জিনিসপত্রের সঙ্গে সম্রাটকে বেশকিছু উৎকৃষ্ট বিলেতি খেলনা উপহার দিলে হয়তো কাজের সুবিধা হতে পারে। ইংরেজরা এক লাখ দুই হাজারের কিছু বেশি টাকার বিভিন্ন জিনিসপত্র ও খেলনা উপহার দিলেন সম্রাটকে। আজকের বাজারমূল্যে যা শতকোটিরও বেশি হবে। সম্রাটের দরবারের আমির-ওমরাহদের জন্য সেসব জিনিসপত্র দেওয়া হলো তার দামও এক লাখ আট হাজার টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছিল। দরখাস্ত পেশ করা হলো যথাসময়ে। কিন্তু সম্রাটের কাছ থেকে কোনো উত্তর তো আর আসে না। খোঁজখবর নিয়ে জানা গেল, যে উজিরের মাধ্যমে দরখাস্ত দেওয়া হয়েছে তার তেমন কোনো ক্ষমতা নেই। রাজদরবারে সত্যিকারের কিছু ক্ষমতা ছিল যাদের তারা দুই ভাই, আবদুল্লা আর হুসেনের। এবার এ দুই ভাইকে যথেষ্ট পরিমাণ উৎকোচ দিয়ে আবার দরখাস্ত পেশ করা হলো। এবার কাজ হলো জাদুর মতো। ফররুখ্শিয়ার ইংরেজদের কলকাতার কাছে চব্বিশটি গ্রামের জমিদারি বকশিশ দিলেন। এ হলো বর্তমানে কলকাতার চব্বিশ পরগনা জেলা।
উপরোক্ত দৃষ্টান্ত দুটি থেকে সহজেই বোঝা যাচ্ছে যে, যুগে যুগে দুর্নীতিগুলো আসলে শুরু হয় সর্বোচ্চ পর্যায় থেকেই। তারপর তা ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ে নিচের স্তরে। মাছের পচন যেমন শুরু হয় মাথা থেকে ঠিক তেমনি। বিগত চার-পাঁচ বছরে বাংলাদেশে দুর্নীতি যেন প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় দেশ থেকে পাচার হয়ে গেছে হাজার হাজার কোটি টাকা। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে বাংলাদেশ ব্যাংকের মতো প্রতিষ্ঠানও লুট হয়ে যায়, শিক্ষামন্ত্রী তার উন্মুক্ত বক্তৃতায় রাষ্ট্রের কর্মচারীদের কম করে ঘুস খেতে পরামর্শ দেন ইত্যাদি। ঘুস, দুর্নীতি, প্রশ্নফাঁস চারদিকে এমন অরাজক পরিস্থিতি দেখেও দেশের সর্বোচ্চ কর্তাব্যক্তিরা মুখে কুলুপ এঁটে বসে থাকেন। দেশের সাধারণ মানুষের মনে হয়তো প্রশ্ন জাগতে পারে কেন তারা পাচ্ছেন না এর যথাযথ প্রতিকার। এর উত্তরও রয়েছে ইতিহাসের পাতাতেই, শুধু চোখ দুটো খুলে একটু দেখতে হয়। উত্তর আমেরিকার ক্যারাবিয়ান দ্বীপপুঞ্জের একটি দেশ হলো ডমেনিকান রিপাবলিক। দেশটি স্পেনের কাছ থেকে স্বাধীনতা অর্জন করে ১৮২১ সালে। ১৯৩০ সালে নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসে র্যাফায়েল লিউনাইডাস ত্রোহিও। কিন্তু এরপর তিনি দেশটিতে আর কোনোদিন নির্বাচন দেননি। ক্ষমতায় ছিলেন ১৯৬১ সাল অর্থাৎ আঁততায়ীর হাতে নিহত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত। তার এ ৩০-৩১ বছর শাসনামলকে বলা হয় ‘ত্রোহিও যুগ’। পৃথিবীর বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় বিশেষ করে উত্তর আমেরিকার শিক্ষালয়গুলোতে স্বৈরশাসকের প্রকৃষ্ট উদাহরণ হিসাবে বেশ গুরুত্বের সঙ্গে পড়ানো হয় ত্রোহিও যুগ। রাষ্ট্রপতি ত্রোহিও ক্ষমতায় টিকে থাকতে শুধু কাগজ-কলমে গুম, খুন ও হত্যা করেছিলেন পঞ্চাশ হাজার মানুষ। ত্রোহিও ব্যবস্থা নিতে গিয়ে দেখলেন কাকে রেখে কাকে ধরবেন উনি। দুর্নীতিবাজরা কমবেশি সবাই তার পেটোয়া বাহিনী কিংবা অপকর্ম দলের সদস্য। কয়লা থেকে ময়লা উনি কীভাবে আলাদা করবেন।
এবার বেগম জিয়া প্রসঙ্গে আসি। সম্ভবত ২০১৬ সালের শেষ অথবা ২০১৭ সালের শুরুর দিকের কথা। হঠাৎ করেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে কে বা কারা ‘বেগম জিয়ার সম্পত্তির সন্ধান পেয়েছে সৌদি সরকার’ মর্মে একটি কাল্পনিক খবর প্রচার করতে থাকে। পরবর্তী সময়ে ‘বাংলাদেশ অবজারভার’ একটি নিউজ করে বেগম জিয়ার তথাকথিত এ অর্থসম্পদ নিয়ে। প্রকাশিত খবরটির সোর্স হিসাবে অবজারভার ক্যানাডিয়ান টিভি চ্যানেল দ্য ন্যাশনাল এবং আরবভিত্তিক চ্যানেল দ্য গ্লোবাল ইনটেলিজেন্স নেটওয়ার্ক বলে উল্লেখ করে। সবচেয়ে মজার বিষয় হচ্ছে-বিংশ শতাব্দীর এ সময়ে কল্পনাপ্রসূত, বানোয়াট কিংবা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কোনো খবর প্রচার করে কি পার পাওয়া সম্ভব? কারণ যেখানে প্রায় প্রতিটি মানুষের হাতে আছে স্মার্টফোন এবং ইন্টারনেট। ইতোমধ্যে এটা প্রমাণিত হয়ে গেল যে, কানাডায় দ্য ন্যাশনাল টিভি চ্যানেল কিংবা আরবভিত্তিক দ্য গ্লোবাল ইনটেলিজেন্স নেটওয়ার্ক নামে কোনো চ্যানেলের অস্তিত্ব নেই।
তাহলে এখন প্রশ্ন হচ্ছে বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে কেন এ মিথ্যা অপপ্রচার। সন্দেহ নেই এর উত্তরও কিন্তু ইতিহাসের পাতা খুললে স্পষ্টই চোখে পড়বে। এটি একটি অতিপ্রাচীন ও প্রচলিত অপকৌশল। সে বিষয়ে আলোকপাত করার আগে বেগম জিয়ার চরিত্রের কয়েকটি দিক একটু এখানে তুলে ধরতে চাই। তার সঙ্গে কথা বলে কিংবা তাকে কাছ থেকে যতটুকু দেখেছি আমি, শুধু সেটুকুই বলতে পারি। ভবিষ্যতে হয়তো তার অতি নিকটজন লিখবেন তার পূর্ণাঙ্গ জীবনী। পাঠকদের হয়তো মনে আছে ১৯৯৬ সালে মহীউদদীন খান আলমগীরের নেতৃত্বে সচিবালয়ের উপকণ্ঠে জনতার মঞ্চ নামক একটি মঞ্চ তৈরি করা হয়েছিল। তো হয়েছে কী, সেই মঞ্চ থেকে তৎকালীন বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন পরিচালিত হচ্ছিল। তখন বিএনপির দুজন ওপরের সারির নেতা ও মন্ত্রী বেগম জিয়াকে বললেন, দেখেছেন কী শুরু করছে ওরা! আপনি এক্ষুনি পুলিশ দিয়ে এসব মঞ্চ-ফঞ্চ উঠিয়ে দিন। তাদের কথা শুনে বেগম জিয়া সেদিন বলেছিলেন, আন্দোলন করা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার। বলতে গেলে বলতে হয়, একেবারে সোজাসাপটা মানুষ বেগম জিয়া। অন্তরে যা পোষণ করেন মুখেও তাই বলে দেন। কোনো দেখানোপনা নেই। রাজনৈতিক স্ট্যানবাজি পছন্দ করেন না একেবারেই। আরেকদিনের ঘটনা। আমি গিয়েছি বেগম জিয়ার গুলশান অফিসে। বেগম জিয়ার বিশেষ সহকারী অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস আমাকে দেখেই বললেন, বেগম জিয়ার কক্ষে সব আইনজীবী তার মামলা নিয়ে কথা বলছেন। যাও তুমিও গিয়ে বস ওখানে। শিমুল বিশ্বাস আমার বাবার বন্ধু ছিলেন। আমাকে পুত্রতুল্য স্নেহ করেন। আমি একটু ইতস্তত করছি দেখে বললেন, তোমার জন্যও একটি চেয়ার রাখা আছে, যাও অসুবিধা নেই। আমি কক্ষে ঢুকতেই বেগম জিয়ার একজন ফটোগ্রাফার আমাকে দেখে একটু হাসি-মশকরা করে বললেন, কী ব্যাপার! আজ তো দেখছি মুজিব কোট পরে এসেছেন। আমি বললাম, কেন উনি (শেখ মুজিবুর রহমান) কি এমন রং-চঙের মেরজাই (মুজিবকোট) পরতেন নাকি। বেগম জিয়া ঈষৎ হেসে বললেন, পোশাকের আবার ধরন কী, পোশাক তো পোশাকই। ওইদিন বাইরে অনেক বৃষ্টি হচ্ছিল। কক্ষে উপস্থিত ছিলেন বন্ধুবর ব্যারিস্টার মীর হেলাল ছাড়াও আমার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের বন্ধু ব্যারিস্টার রাগিব রউফ চৌধুরী, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, অ্যাডভোকেট মাসুদ তালুকদার, অ্যাডভোকেট সজলসহ কিছু আইনজীবী।
আরেকবার বেগম জিয়ার সঙ্গে দেখা করার জন্য নিয়ে যাই আমার বন্ধু যুগান্তরের সাহিত্য সম্পাদক কবি জুননু রাইনকে। সঙ্গে ছিল আমার আরেক বন্ধু রাজনীতিবিদ ব্যারিস্টার মীর হেলাল। জুননু রাইন নিবৃতচারী। কম কথা বলেন। খুবই কম মানুষের সঙ্গে মিশেন। ওইদিন জুননু রাইন বেগম জিয়ার সঙ্গে দেশের শিল্পসাহিত্য নিয়ে অনেক কথা বলেন। আমরা বিএনপি সমমনা চিন্তাশীলরা দেশের গণতন্ত্র ন্যায়ের শাসনের পক্ষে কীভাবে নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা চালিয়ে যাচ্ছি সেসব কথা। বেগম জিয়া সব শুনে বললেন, ‘দেশের জন্য ভাববা, মানুষের কল্যাণের কথা ভাববা’। তার এ আদর্শ প্রচার তিনি শুধু তার দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেননি। তিনি দেশের কথা ভেবেছেন, মানুষের কথা ভেবছেন। সারা জীবন তিনি এভাবেই এই দেশ এবং এই দেশের মানুষের কল্যাণের কথা ভেবেছেন।
সে যা হোক, যে কথা পূর্বে বলছিলাম, প্রোপাগান্ডা কিংবা অপপ্রচার যাই বলি না কেন, এটা কিন্তু সাধারণত তিনভাবে বিস্তৃত হয়। প্রথমত, পরামর্শ দ্বারা মিডিয়া কিংবা প্রভাবশালীদের প্ররোচিত করা। দ্বিতীয়টি পক্ষপাতিত্বমূলক আর তৃতীয়টি হচ্ছে, আদর্শিক। এই যে বাংলাদেশের একটি সংবাদপত্র বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে এমন একটি সংবাদ প্রচার করল, এর দায় কে নেবে? বাংলাদেশ না হয়ে যদি পশ্চিমা দেশগুলোতে এটা হতো তাহলে কী হতো? এ ধরনের একটি ঘটনা ঘটেছিল ইরাক যুদ্ধের সময়। অনেকেরই হয়তো এখনো স্পষ্ট মনে আছে, ২০০২-০৩ সালে জর্জ বুশ, কলিন পাওয়েল, ডোনাল্ড রামসফেল্ড, কন্ডোলিজা রাইস প্রমুখ ব্যক্তি টিভির সামনে এসেই আমেরিকান অনুনাসিক উচ্চারণে কিছু বুলি আওড়াতেন ‘ইরাক হ্যাজ গট দ্য উইপন অব মাস ডেস্ট্রাকশন্স’। বাংলা করলে এর অর্থ দাঁড়ায়-ইরাকের কাছে গণবিধ্বংসী অস্ত্রের মজুত রয়েছে। এ প্রোপাগান্ডাটি যিনি প্রথম উদ্ভাবন করেছিলেন তার নাম জুডিথ মিলার। অর্ধেক ইহুদি ও অর্ধেক রোমান ক্যাথলিক এ সাংবাদিক কাজ করতেন প্রভাবশালী পত্রিকা নিউইয়র্ক টাইমসে। তিনি প্রথম ইরাক নিয়ে সম্ভবত ২০০২ সালের দিকে একটি সংবাদ প্রচার করেন, তার কাছে ‘তথ্য-উপাত্ত’ আছে যে, ইরাকের কাছে প্রচুর পরিমাণ পরমাণু অস্ত্রের মজুত রয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে জর্জ বুশ, কলিন পাওয়েল প্রমুখ বিভিন্ন টিভি মিডিয়ায় জুডিথ মিলারের লেখাসংবলিত পত্রিকাটি হাতে তুলে নিয়ে বিশ্ববাসীকে দেখিয়ে বললেন, দেখুন, শুধু আমরা নই বিশ্ববিখ্যাত সাংবাদিক জুডিথ মিলারও বলছেন, ইরাকের কাছে গণবিধ্বংসী অস্ত্রের মজুত রয়েছে। বিভিন্ন সময় আরববিরোধী মনোভাবের কারণে তখন থেকেই অনেক বিশ্লেষক ধারণা করেছিলেন, মিলার আমেরিকার বড় বড় রাঘববোয়াল ইহুদি লবিস্টের কাছ থেকে উৎকোচ গ্রহণ করেছেন। ইরাকে যখন গণবিধ্বংসী অস্ত্র খুঁজে পাওয়া গেল না, তখন ব্যাপক সমালোচনার মুখে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়। সঙ্গে সঙ্গে তার বিরুদ্ধে হয় মামলা। সে মামলায় ফেডারেল কোর্ট তার পরিবেশিত সংবাদের উৎস সম্পর্কে জানতে চান তার কাছে। কিন্তু প্রকাশিত খবরের উৎস বলতে না পারায় কোর্ট তাকে আদালত অবমাননার দায়ে ১৮ মাসের কারাভোগের শাস্তি প্রদান করেন।
দেশবাসী খুব ভালো করেই জানেন, বাংলাদেশে পাওয়া যাবে না এর কোনো প্রতিকা। কিন্তু প্রকৃতির বিচার কে রুখবে? শত অন্যায় অত্যাচার করেও বেগম জিয়াকে তার আদর্শ থেকে বিচ্যুত করা গেল না। দেশ ও জনগণের পক্ষে তার যে অবস্থান যা তিনি জীবন বাজি রেখে বজায় রেখেছেন, আজকে সেই আদর্শেরই বিজয় হলো। ফ্যাসিবাদের করুণ পতন হলো। সত্যের জয় হলো। এই মহীয়সীর প্রতি ভালোবাসা জানাতে আজ তার জানাজায় ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি মানুষের উপস্থিতি দেখল পৃথিবী। সমগ্র দেশ জানাজায় দাঁড়িয়ে খোদার দরবারে দুহাত তুলে প্রার্থনা করল রাজনীতির এই মহাকবির জন্য।