শনিবার | ৭ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | দুপুর ২:৪৫
Logo
এই মুহূর্তে ::
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (৫৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ নির্বাচন পরবর্তী মিয়ানমার-রাখাইন পরিস্থিতি ও রোহিঙ্গা সমস্যা : হাসান মোঃ শামসুদ্দীন ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (৫৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (৫৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ শ্রীচৈতন্যদেব গরুড়ীয় বৈষ্ণবধর্ম বা গৌড়ীয় বৈষ্ণবধর্মের প্রবর্তক : অসিত দাস বাসুদেব ঘোষের পদাবলীতে চৈতন্য মহাপ্রভুর জন্মবৃত্তান্ত ও বায়ুপূরাণে অবতারত্ব বর্ণন : প্রবুদ্ধ পালিত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (৫৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে দোলউৎসব : রিঙ্কি সামন্ত পদে পদে বিস্মৃত জনপদে (তৃতীয় পর্ব) : সুব্রত দত্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (৫২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ প্রসূতি ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের জন্য বাঁকুড়ায় এলেন রবীন্দ্রনাথ : প্রবুদ্ধ পালিত এসআইআর-এর নামে ১ কোটি ২৫ লক্ষ নাগরিকের নাম বাদ সরব দেশ বাঁচাও গণমঞ্চ : মোহন গঙ্গোপাধ্যায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (৫১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ কলকাতা ঘন ঘন কেঁপে উঠছে কেন : তপন মল্লিক চৌধুরী জহির রায়হান-এর ছোটগল্প অনমিতা ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (৫০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ নন্দিনী অধিকারী-র ছোটগল্প ‘কান্না হাসির দোলায়’ আ শর্ট ট্রিপ টু ‘জামশেদপুর’ : রিঙ্কি সামন্ত নয় টাকা কেজি দরে বারো লক্ষ টন আলু কিনবে রাজ্য সরকার : মোহন গঙ্গোপাধ্যায় এআই ইমপ্যাক্ট সামিট নিয়ে প্রশ্ন অনেক উত্তর কম : তপন মল্লিক চৌধুরী ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (৪৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ আমার বাবার রসবোধ : সৈয়দ মোশারফ আলী ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (৪৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ একটি বই যেভাবে বদলে দিয়েছিল তলস্তয়কে : সাইফুর রহমান কেন্দ্রের দ্বিচারিতায় দীর্ঘ আট বছরেও পশ্চিমবঙ্গের নাম ‘বাংলা’ হল না : সুব্রত গুহ ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (৪৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ আলুর পর্যাপ্ত ফলন, প্রান্তিক চাষিদের জন্য হিমঘরে ৩০ শতাংশ আলু সংরক্ষণের ব্যবস্থা : মোহন গঙ্গোপাধ্যায় বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ম্যাজিক লন্ঠনের খোঁজে : মৈত্রেয়ী ব্যানার্জী
Notice :

পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই শুভ দোল পূর্ণিমা-র আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন,  ই-মেল : pagefour2020@gmail.com

ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (৪৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ

ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গা / ১৬৩ জন পড়েছেন
আপডেট শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

পরের কিস্তির অনুবাদে প্রবেশ করার আগে আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ কথা — এটাই এক কিস্তি জায়গা নেবে। পরের কিস্তি শুরু হবে ৪৬ থেকে। ফার্মিঙ্গার পরের কিস্তিতে নন্দকুমারের মামলা নিয়ে ভেরেলস্টকে উল্লেখ করে লিখছেন, ‘ব্রিটেনে সরকারি এবং ব্যক্তিগত ঋণের অবিশ্বাস্য ব্যাপকতাই আমাদের আইনপ্রণেতাদের জালিয়াতির মামলায় মৃত্যুদণ্ডের বিধান জারি করতে প্ররোচিত করেছে’। এই প্রসঙ্গে কেন ধার এবং মুদ্রা ব্যবস্থায় বিশ্বাসযোগ্যতা আনার জন্য কেন ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ মৃত্যদণ্ড দিল এবং এই কাজে কেন আইজাক নিউটনকে ব্যবহার করল তার কয়েকটা স্তবক আমি কার্ল উইনারলিন্ডের ক্যাজিয়েলিটি অব ক্রেডিট থেকে উল্লেখ করব।

পশ্চিম ইওরোপ [পূর্ব ইওরোপ, পশ্চিমের কলোনিই], আপাতত ইংলন্ডের নাম নিচ্ছি [এবং ডাচ, ডেন, ফরাসী, জার্মান ইত্যাদিকেও বাদ দেব না], নিজেদের দেশের ছোটলোকদের ওপর কলোনি চাপিয়ে ভারতবর্ষে (আমেরিকায়, আফ্রিকায়, এশিয়ায়) কলোনি তৈরি করতে এসেছিল। ১৬০০-য় যখন লন্ডনে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি তৈরি হচ্ছে, সে সময়, ইংলন্ডে প্রযুক্ত হচ্ছে এনক্লোজার আইন — অর্থাৎ এজমালি, যৌথ, কৌম জমিকে, জনগণের চার্চএর [পাদ্রিরা গ্রামে গঞ্জে যে সব ছোট ছোট চার্চ চালাত, জনগণের দানে চলত, ছোট ছোট জমি ছিল ক্ষুণ্ণিবৃত্তির জন্যে, বড় প্রাতিষ্ঠানিক সাম্রাজ্যবাদী খ্রিষ্ট ধর্মের আওতার বাইরে] সব জমি একাট্টা করে জমিদারদের দিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা হয়। কার্ল উইনারলিন্ড, ক্যাজুয়ালিটি অব ক্রেডিটএ এই বিষয়টা ছুঁয়ে গেছেন। এত দিন ধরে নেওয়া হয়েছিল, ১৭৫০-৬০-৭০-৮০ থেকে যে কেন্দ্রিভূত কারখানা শুরু হল, সে সব চালাবার জন্যে বিপুল শ্রমিক এসেছিল স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে, গ্রামাঞ্চলে বিপুল উদ্বৃত্ত হয়ে যাওয়া মানুষের থেকে। তারা গ্রামের কারিগর-হকার-চাষী-পশুপালন ব্যবস্থায় নিজেদের আর প্রতিপালন না করতে পেরে শহরে উদ্বৃত্ত হয়ে এসেছিল। মহিলা এবং শিশু [শ্রমিক হিসেবে তাদের কোনও দিনও গণ্য করা হয় নি, শ্রমিক বলতে ইতিহাস, গল্প, কবিতা, ছবিতে পুরুষই বুঝিয়েছি — মহিলা শিশুরা বিশাল পরিমানে ছিল — সিঙ্গল মাদারদের সংখ্যা বিশাল ছিল — মা যখন কাজ করত তার সন্তানকে পাওয়া যেত ফ্রি শ্রমিক হসেবে — যে সব কাজ বড় দের দিয়ে করানো যেত না, যেমন বয়লার, চিমনি পরিষ্কার, বহু বাচ্চা ফার্নেসে পড়ে মারা গেছে — ইন্টারনাল কলোনি], এবং পুরুষেরা এইভাবে শ্রমিক হয়েছে। এ সব মার্ক্স এঙ্গেলস ডব ইত্যাদি পুঁজিতন্ত্রকে জাস্টিফাই করতে গিয়ে বলেছেন (আসলে পুঁজিতন্ত্র না এলে কিভাবে সমাজতন্ত্র আসবে? তাই পুঁজি যতই ঘৃণ্য হোক, আধুনিকতা যতই দাস ব্যবস্থার রকমফের হোক, বাম-প্রগতিশীলেরা বরাবরই এই নব্য দাস কাঠামোকে জাস্টিফাই আজও করছেন)। তারা বলছেন, The expropriated small farmer, degraded to the position of labourer… swelled the rural exodus being driven into the towns। ডব বলছেন ডেথ রেট কমার জন্য জনসংখ্যা হঠাতই বেড়ে যায়। এই যে proletarianizing পদ্ধতিটা, সেটা স্বাভাবিক ছিল, চাপানো ছিল না। এদের বক্তব্য proletarianizingএর কাজটা রাষ্ট্র বা রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে করে নি। মানুষের ওপরে নব্য দাস ব্যবস্থা চাপানোর যে কাজ পুঁজিতন্ত্র করে চলেছে, তাকে সহনীয় করে তোলাই মূলত বাম-প্রগতিশীলদের কাজ। সাম্রাজ্য-দাস-প্রকল্পে আধুনিকতা বড় হাতিয়ার। কিন্তু জে ডি চেম্বার্স, কার্ল গ্রিফিন, রজার জে প কাইন, জন চ্যাপম্যান, রিচার্ড অলিভের, হ্যারিয়েট ব্রাডলি এবং আরও অনেকেই স্পষ্টভাবে বলছেন পুঁজিতন্ত্রের শ্রমিকেরা স্বাভাবিকভাবে তৈরি হয় নি, তাদের তৈরি করার জন্যে রাষ্ট্র ব্যবস্থা উদ্যোগী হচ্ছে। গ্রামের পর গ্রাম উজাড় করা হচ্ছে, শহর/বন্দর ঘিরে উচ্ছেদ হওয়া গ্রাম্যদের জন্যে নতুন গ্রাম তৈরি হচ্ছে।

ফলে ব্রিটিশেরা প্রথমে বাংলায় পরে দক্ষিণ এশিয়ায় এসে নতুন কিছুই করে নি, তারা নিজেদের দেশে যে কলোনি তৈরি করে হাত পাকিয়েছিল, সেই কলোনির অভিজ্ঞতা দক্ষিণ এশিয়ায় প্রয়োগ করতে এসেছে, পরিকল্পিতভাবে এই কাজ তারা করেছে। অন্যান্যরা সেটা দক্ষিণপূর্ব এশিয়া, এশিয়া, আফ্রিকা, আমেরিকায় প্রয়োগ করেছে। সুশীল চৌধুরী বা থাঙ্কাপ্পান নায়ারকে কেউ কোনও দিন উপনিবেশ বিরোধী ইতিহাসকার বলেন নি। বরং থাঙ্কাপ্পানকে দেখা হয়েছে নতুন কলোনিয়াল শহরের ইতিহাসকার হিসেবে, অথচ তিনিই কোনও দ্বিধা ছাড়াই ১৬৮৬-র মুঘল ব্রিটিশ যুদ্ধ, যার নাম চাইল্ডস প্লে, চাইল্ডের পরিকল্পনায় যুদ্ধ, এবং এর ফলে কুঠিয়াল চার্নকের উদ্যমে কলকাতার স্থাপনা কলোনিয়ালিজম প্রকল্পের অংশ হিসেবে দেখবেন (প্রয়াণের পরে আমি লিখেছিলাম, কেউই বিষয়টা ছোঁন নি। থাঙ্কাপ্পান নায়ারকে উপনিবেশ বিরোধী চর্চার ইতিহাসকার হিসেবে দেখলে উপনিবেশিক কলকাতার সযত্নে তৈরি করা মূর্তি ভেঙে চুরমার হয়ে যাবে), বা সুশীল চৌধুরী ফ্রম প্রস্পারিটিতে ব্রিটিশ-নবাব দ্বন্দ্বকে সাব-ইম্পিরিয়ালিজমের অংশ হিসেবে দেখেছেন। যে জন্যে ইতিহাস আলোচনায় এরা দুজন চরমতম ব্রাত্য — সুশীলবাবু তো গালি খান। চাষী কারিগর হকারের উদ্বৃত্তে কলকাতা তৈরি হওয়াই আদতে বিপুল কলোনিয়াল প্রসেস। ইওরোপ যে আজও দরিদ্র এটা পরিষ্কার। পুঁজি জমা হচ্ছে কিছু মানুষ গোষ্ঠীর হাতে — তার সঙ্গে সার্বিক ইওরোপের স্বচ্ছলতার কোনও সম্পর্ক নেই। সারা বিশ্ব লুঠে ইওরোপেরে রাষ্ট্র-কর্পোরেটরা বিপুল সম্পদ সঞ্চয় করছে, তার চুঁইয়ে পড়া সম্পদের ওপর ভর দিয়ে ইওরোপের ভদ্রবিত্তের রমরমা – কারন পুঁজিতন্ত্রের পুঁজির ব্যবস্থাপনা করে তো ভদ্রবিত্তই। আমেরিকা আজও ইজরায়েলের মতই কলোনিয়াল স্টেট। ইওরোপে দারিদ্র ভয়াবহ। ইওরোপে আজও ভদ্রবিত্ত ছাড়া অন্যরা স্রেফ উদ্বৃত্ত। তাদের দালাল টাটা, বিড়লা, আদানি, আম্বানিদের দেখে বুঝছেন না যে তারা ইওরোপিয় কাঠামোটাই দক্ষিণ এশিয়ায় চালাচ্ছে?

১৬৮০-৯০-এর দশক। ইংলন্ডের সাম্রাজ্যেচ্ছা স্পষ্টভাবে জেগে উঠেছে। কর্পোরেটরা বিশ্বজুড়ে সক্রিয়। ১৬৮০র দশকে হুগলীতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি মুঘলদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে গিয়ে ব্যর্থ হয়েছে। ইংলন্ড তার কারেন্সি স্টেবিলাইজ করতে যে নতুন রূপোর মুদ্রা বাজারে আনছে, সে সব হয় গলিয়ে ফেলা হচ্ছে নতুবা নকল করা হচ্ছে। মৃত্যুদণ্ড দিয়েও মুদ্রা বিকৃতি আটকানো যাচ্ছে না। ফলে মুদ্রার ওপর আস্থা থাকছে না — তাই ধার ব্যবস্থাও দাঁড়াচ্ছে না। ইংলন্ড [এবং মেট্রোপলিটন হতে চাওয়া ইওরোপিয় দেশগুলি] বিশ্বজুড়ে উপনিবেশ তৈরির আগে যে নিজেদের দেশে ‘ছোটলোক’দের ওপর উপনিবেশ চাপিয়ে দিয়েছিল, তার প্রমান দিচ্ছেন Carl Wennerlind — Casualties of Credit_ The English Financial Revolution, 1620-1720, তিনি বলছেন ১৬০০ থেকেই উৎপাদন প্রক্রিয়া এবং সম্পত্তির অধিকারকে নতুন করে সাজিয়ে তোলার ফলে টিউডর আর স্টুয়ার্ট আমলে বিপুল সংখ্যক কৃষক জমিহীন, কাজহীন এবং উদ্বৃত্ত হয়ে গ্রামাঞ্চল থেকে উচ্ছেদ হল। উৎপাদন ব্যবস্থা পাগান [অর্থাৎ ইংলন্ডের কারিগর, চাষী, হকার, পশুচারক, ধীবর] ব্যবস্থা থেকে কেন্দ্রিভূত হওয়ার দিকে যাওয়ার সময় যে বিপুল সংখ্যক ‘ছোটলোক’ উচ্ছেদ হচ্ছে, ঠিক পলাশীর পরের ফকির সন্ন্যাসী চাষী কারিগর হকার যেমন হাতে অস্ত্র তুলে নিয়েছিল, তেমনি ইংলন্ডের সর্বহারার রিটালিয়েট করতে থাকে। বিনয় ঘোষ নতুন উপনিবেশ আর প্রযুক্তির তাত্ত্বিক বেকনের মানসিকতার মানুষ চাইছেন ইংলন্ডের দক্ষিণ এশিয় উপনিবেশ গড়ে তুলতে, সেই ফ্রান্সিস বেকন খোদ ইংলন্ডে বসে উচ্ছেদ হওয়া ছোটলোকেদের ‘অসামাজিক কাজকর্ম’ নিয়ে খিস্তি করছেন, ‘এরা শালা জ্বালিয়ে খাচ্ছে, চোখের বালি হয়ে উঠছে, সমাজে বিপদ আর গোলমালের বীজ রোপন করছে’। এই উচ্ছেদ হওয়া ভবঘুরেদের কাজকর্ম ‘ভদ্রবিত্ত’ ব্রিটিশদের খিস্তি খাচ্ছে কারন ছোটলোক চুরি করে, পকেট মারে, ভদ্রবিত্ত ‘শান্তিতে থাকতে চাওয়া’ মানুষের সম্পত্তির অধিকারের ওপর হুমকি হয়ে উঠছে, মাতলামি করছে, বেলেল্লাপনা হিংসা চাপিয়ে দিচ্ছে। ভদ্রবিত্তরা এই উপদ্রব ছোটলোকেদের বেজম্মার বাচ্চা গালি দিচ্ছে। সম্পত্তি এবং ভদ্রবিত্ত জনসাধারণের জীবন যাপনে শৃঙ্খলা বিপন্ন করার পাশাপাশি, এই উচ্ছেদ হওয়া ভবঘুরেরা ক্রমবর্ধমানভাবে অজনপ্রিয় হয়ে উঠছিল কেন না, ভদ্রবিত্তরা তাদের রোখার জন্যে বিপুল অর্থ খরচ করতে হচ্ছিল। এই লগে লগে এল পুওর ল’। ষোড়শ শত থেকে পুওর ল কার্যকর হবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পর্যন্ত। ইংলন্ড ছোটলোকেদের ‘অবাধ্যতা’ সামাল দিতে পারল বিংশ শতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে নতুন ওয়ার্ল্ড অর্ডার তৈরি করে।

ফিরি মূল প্রবন্ধে ইংলন্ডে ভদ্রলোকেরা শাসকদের হয়ে যে নতুন ভূমি ব্যবস্থা আর প্রযুক্তি প্রযুক্ত করল, তার ফলে বিপুল সংখ্যক চাষী উচ্ছেদ হয়েছে, কর্মহারা হয়েছে, প্রতিবাদে ছোটলোকরা বদ্রোহ করে প্রতিশোধ নিচ্ছে। আর নিজের দেশে উপনিবেশ তৈরি করে বিদেশে বড় করে উপনিবেশিক পরিবেশ তৈরি করার কাজে হাত পাকাচ্ছে ভদ্রবিত্ত ব্রিটনরা। লক আর মন্তেগু ১৬৯৬-তে প্রখ্যাত নিউটনকে অনুরোধ করলেন টাঁকশালের নিয়ন্ত্রণ হাতে তুলে নিতে। তিনি কেম্ব্রিজে পদার্থবিদ্যা, অঙ্ক এবং কিমিয়াবিদ্যা পড়ানো ছেড়ে দেশের মুদ্রাব্যবস্থাকে স্থিতিশীল করতে টাঁকশালে যোগ দিয়ে একের পর এক বন্দীশালা, ট্যাভার্ন, ইনগুলোতে ছদ্মবেশে তদন্ত করলেন কারা, কীভাবে মুদ্রা জাল বা গলিয়ে ফেলতে পারে। ‘ছোটলোক’ আসামীদের সঙ্গে কথাবার্তা বলার সময় তিনি হিংসার পথও নিয়েছেন। নিম্নআদালতগুলোয় মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলেও অধিকাংশ সময় সাধারণ পরিবার থেকে আসা বিচারক আসামীদের হয় ছেড়ে দিতেন, না হয় কম সাজা দিতেন, মৃত্যুদণ্ডও দেওয়া হত না এমন নয়। বিচারকেরা তুলনামূলকভাবে হাল্কা সাজা দেওয়ার ফলে মুদ্রাকে স্থিতিশীল করা নিয়ে শাসকের মাথা ব্যথা যাচ্ছিল না। নিউটন নিজের তদন্ত সমীক্ষায় যাদের অভিযুক্ত করলেন, স্পষ্টভাবে তাদের প্রত্যেককের মৃত্যুদণ্ড চাইলেন। উদাহরণস্বরূপ জনৈক অভিযুক্ত চ্যানেলরকে তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে আদালত মৃত্যুদণ্ড দেয় — নিউটনের দিকে তাকিয়ে বেচারা বলে ওঠে “O dear Sr no body can save me but you O God my God I shall be murderd unless you save me O I hope God will move your heart with mercy and pitty to do this thing for me। নিউটন উত্তর দিলেন না। এক হপ্তা পরে চ্যালেনরকে টাইবার্নে ফাঁসি দেওয়া হল। অধিকাংশকে প্রকাশ্যে উৎসব আয়জন করে ফাঁসি দেওয়া হল, কাউকে চাকা ছাড়া স্লেজের পিছনে বেঁধে রাস্তা দিয়ে টেনে নিয়ে অক্সফোর্ড স্ট্রিট আর এজওয়ার স্ট্রিটের ক্রসিংএ ফাঁসিতে ঝোলানো হল, কখনও কখনও ফাঁসুড়ে ফাঁসি দিয়ে উদ্দামনৃত্য নাচলেন সর্বসমক্ষে, এবং দেহ আত্মীয়দের হাতে তুলে দেওয়া হল না। কার্ল মুদ্রা নকলকারী Eleanor Elsomএর হত্যান্ডের উদাহরণ দিচ্ছেন জনৈক প্রত্যক্ষ্যদর্শীর বর্ণনায় [এই বীভৎসতার বর্ণনা অনুবাদ না করাই ভাল], She was… saturated with tar, and her limbs were also smeared with the same inflammable substance, while a tarred bonnet had been placed on her head. She was brought out of the prison bare-foot, and being put on a hurdle, was drawn on a sledge to the place of execution near the gallows. Upon arrival, some time was passed in prayer, aft er which the executioner placed her on a tarr barrel, a height of three feet, against the stake. A rope ran through a pulley in the stake, and was placed around her neck, she herself fixing it with her hands. Three irons also held her body to the stake, and the rope being pulled tight, the tar barrel was taken aside and the fire lighted… She was probably dead before the fire reached her, as the executioner pulled upon the rope several times whiles the irons were being fixed. এইভাবে নিউটন অসীম দক্ষতায় অভিযোগকারীদের মৃত্যুদণ্ড দিতে থাকায় ক্রমশঃ আর্থ আর মুদ্রা ব্যবস্থার ওপর ভদ্রবিত্তের আস্থা ফিরে এল। কার্ল লিখছেন This spectacle of terror and the theatrical performance of death situated the onlookers within a web of coercion with the explicit intent of establishing respect for and compliance with the rules of the monetary system.

চলবে

ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট ফ্রম দ্য সিলেক্ট কমিটি অন দি অ্যাফেয়ার্স অফ দি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সংক্ষেপে দ্য ফিফথ রিপোর্ট।

বিশ্বেন্দু নন্দ


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো সংবাদ

পেজফোরনিউজ শারদোৎসব বিশেষ সংখ্যা ২০২৫ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন