রবিবার | ৮ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | রাত ১:৪৭
Logo
এই মুহূর্তে ::
দোল ফিরে ফিরে আসে, ফিরে আসে স্বর্নালী স্মৃতি : মৈত্রেয়ী ব্যানার্জী মেদিনীপুরের নদী ও খালপথে জলযানে রবীন্দ্রনাথ : সুব্রত গুহ ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (৫৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (৫৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ নির্বাচন পরবর্তী মিয়ানমার-রাখাইন পরিস্থিতি ও রোহিঙ্গা সমস্যা : হাসান মোঃ শামসুদ্দীন ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (৫৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (৫৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ শ্রীচৈতন্যদেব গরুড়ীয় বৈষ্ণবধর্ম বা গৌড়ীয় বৈষ্ণবধর্মের প্রবর্তক : অসিত দাস বাসুদেব ঘোষের পদাবলীতে চৈতন্য মহাপ্রভুর জন্মবৃত্তান্ত ও বায়ুপূরাণে অবতারত্ব বর্ণন : প্রবুদ্ধ পালিত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (৫৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে দোলউৎসব : রিঙ্কি সামন্ত পদে পদে বিস্মৃত জনপদে (তৃতীয় পর্ব) : সুব্রত দত্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (৫২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ প্রসূতি ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের জন্য বাঁকুড়ায় এলেন রবীন্দ্রনাথ : প্রবুদ্ধ পালিত এসআইআর-এর নামে ১ কোটি ২৫ লক্ষ নাগরিকের নাম বাদ সরব দেশ বাঁচাও গণমঞ্চ : মোহন গঙ্গোপাধ্যায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (৫১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ কলকাতা ঘন ঘন কেঁপে উঠছে কেন : তপন মল্লিক চৌধুরী জহির রায়হান-এর ছোটগল্প অনমিতা ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (৫০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ নন্দিনী অধিকারী-র ছোটগল্প ‘কান্না হাসির দোলায়’ আ শর্ট ট্রিপ টু ‘জামশেদপুর’ : রিঙ্কি সামন্ত নয় টাকা কেজি দরে বারো লক্ষ টন আলু কিনবে রাজ্য সরকার : মোহন গঙ্গোপাধ্যায় এআই ইমপ্যাক্ট সামিট নিয়ে প্রশ্ন অনেক উত্তর কম : তপন মল্লিক চৌধুরী ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (৪৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ আমার বাবার রসবোধ : সৈয়দ মোশারফ আলী ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (৪৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ একটি বই যেভাবে বদলে দিয়েছিল তলস্তয়কে : সাইফুর রহমান কেন্দ্রের দ্বিচারিতায় দীর্ঘ আট বছরেও পশ্চিমবঙ্গের নাম ‘বাংলা’ হল না : সুব্রত গুহ
Notice :

পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই শুভ দোল পূর্ণিমা-র আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন,  ই-মেল : pagefour2020@gmail.com

বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার

দিলীপ মজুমদার / ৪৫ জন পড়েছেন
আপডেট শুক্রবার, ৬ মার্চ, ২০২৬

২৯. ভাষাবিদ কে? হরিনাথ দে

বর্ধমানের মহারাজা ইতালির ভ্যাটিকান সিটিতে গেছেন মহামান্য পোপের সঙ্গে দেখা করতে। তাঁর সঙ্গে আছেন বাংলার এক তরুণ অধ্যাপক। পোপের সঙ্গে কথা বলতে চান যুবক। কিন্তু আলাপ হবে কোন ভাষায়? ইংরেজি? না, পোপ ইংরেজি ভাষায় বলবেন না কিছু। যুবকটি কি লাতিন ভাষা জানেন? পোপ নিশ্চিত যে যুবক লাতিন জানেন না।

এবার পোপকে অবাক করে দিয়ে যুবকটি লাতিন ভাষায় অভিবাদন করলেন পোপকে। কিছুটা অবাক পোপ, বেশ খুশিও। ভারতবর্ষের এক যুবক শুদ্ধ লাতিনে কথা বলছেন তাঁর সঙ্গে। পোপ যুবককে বললেন, ‘বাঃ, চমৎকার। তুমি লাতিন বেশ ভালো শিখেছ। এবার ইতালীয় ভাষাটাও শিখে নাও।’

এবার যুবকটি পরিষ্কার ইতালীয় ভাষায় কথা বলতে লাগলেন পোপের সঙ্গে।

কে এই যুবক?

যুবকের নাম হরিনাথ দে (১৮৭৭-১৯১১)। তাঁর জীবনের আয়ু মাত্র ৩৪ বৎসর। অথচ এই স্বল্প আয়ুর মধ্যে তিনি ৩৪টি ভাষা আয়ত্ত করে ফেলেছিলেন। তাঁর ভাষাশিক্ষার কথা বলতে গিয়ে অরিত্র সোম বলেছেন :

‘সবজি কাটতে কাটতে ছোট্ট হরিনাথকে তরকারির খোসা দিয়ে বর্ণমালা চিনিয়েছিলেন মা। কিছুক্ষণ পরে সেই খোসা আর কয়লা নিয়ে তিনি গোটা বাড়ি ভরিয়ে দিয়েছিলেন বর্ণমালায়। এভাবেই ভাষার সঙ্গে আত্মীয়তা হয়ে গিয়েছিল হরিনাথের। সে তো ছিল নিজের ভাষা, মাতৃভাষা। কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার ঘটতে থাকে সেই ছোট বয়েস থেকেই। স্থানীব চার্চ থেকে বাইবেল নিয়ে পড়তে শুরু করেছিলেন। কয়েকদিন পরে চার্চের ফাদার দেখেন, ছোট ছেলেটা গোটা বাইবেল হিন্দিতে অনুবাদ করে ফেলেছে।’

চব্বিশ পরগণার আড়িয়াদহে হরিনাথের জন্ম। রায় বাহাদুর ভূতনাথ দে তাঁর বাবা। মায়ের নাম এলোকেশী। ছোটবেলায় ছিলেন মধ্যপ্রদেশের রায়পুরে। বাবার কর্মস্থলে। সেখান থেকে মিডল স্কুল পরীক্ষায় পাশ করে চলে আসেন কলকাতায়। কলকাতায় এন্ট্রান্স ও এফ .এ পরীক্ষায় পাশ করে লাতিন ও ইংরেজি সাহিত্যে অনার্স নিয়ে ভর্তি হলেন প্রেসিডেন্সি কলেজে। তারপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লাতিনে এম.এ পাশ করেন।

১৮৯৭ সালে বিলাতে গিয়ে ভর্তি হন কেমব্রিজের ক্রাইস্ট কলেজে। ক্ল্যাসিকাল ট্রাইপসে উত্তীর্ণ হন। লাভ করেন নানা পুরস্কার।

১৯০১ সালে দেশে ফিরে আসেন তিনি। এখানে ঢাকা সরকারি কলেজ, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, প্রেসিডেন্সি কলেজে অধ্যাপনা করেছেন। অধ্যক্ষ হয়েছেন হুগলি কলেজের। ১৯০৭ সালে কলকাতা ইম্পিরিয়াল লাইব্রেরির গ্রন্থাগারিক হয়েছেন।

অবাক হতে হয় তাঁর কথা ভেবে। মাত্র ৩৪ বছরের মধ্যে তিনি কি করে আয়ত্ত করলেন গ্রিক, লাতিন, ফরাসি, জার্মান, পর্তুগিজ, স্প্যানিস, ডাচ, রুমানীয়, ইতালীয়, গথিক, হিব্রু, চিনা, আরবি, ফারসি, জেন্দ, তিববতি, সংস্কৃত, পালি, গুজরাতি, মারাঠি, ওড়িয়া, হিন্দি, উর্দু – এই সব ভাষা।

তাঁর অকাল মৃত্যুর পরে এশিয়াটিক সোসাইটির স্মৃতিসভায় প্রাচ্যতত্ত্ববিদ আবদুল্লা সুরাবর্দী বলেছিলেন : ‘একজন মহারাজার মৃত্যুর পরে আর একজন মহারাজা তাঁর উত্তরাধিকার গ্রহণ করেন। কিন্তু হরিনাথের মনীষার উত্তরাধিকার গ্রহণ করার মতো ব্যক্তি আগামী এক শতাব্দীর মধ্যে জন্মগ্রহণ করবে না।’

হরিনাথের মৃত্যুর পরে কবি সত্যেন্দ্রনাথ লিখেছিলেন এক মর্মস্পর্শী কবিতা :

আজ শ্মশানে বহ্নিশিখা অভ্রভেদী তীব্রজ্বালা,

আজ শ্মশানে পড়ছে ঝরে উল্কাতরল জ্বালার মালা।

যাচ্ছে পুড়ে দেশের গর্ব, শ্মশান শুধু হচ্ছে আলা,

যাচ্ছে পুড়ে নতুন করে সেকেন্দ্রিয়ার গ্রন্থশালা।

আজ শ্মশানে বঙ্গভূমির নিবল একটি উজল তারা,

রইল শুধু নামের স্মৃতি রইল কেবল অশ্রুধারা।

নিবে গেল অমূল্য প্রাণ, নিবে গেল বহ্নিশিখা,

বঙ্গভূমির ললাট ’পরে রইল আঁকা ভস্মটীকা।

সত্যেন্দ্রনাথ হরিনাথের নামের স্মৃতি থাকার কথা বলেছিলেন। না, সে স্মৃতিও আজ নেই।


আপনার মতামত লিখুন :

One response to “বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার”

Leave a Reply to Abhijit Banerjee Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ

পেজফোরনিউজ শারদোৎসব বিশেষ সংখ্যা ২০২৫ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন