রাজ্য জুড়ে ‘লক্ষ্মীর পাঁচালী’ -র মতো মমতার ‘উন্নয়নের পাঁচালী’-কে ঘিরে মানুষের মধ্যে উৎসাহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তৃণমূল সরকারের ১৫ বছরের কাজের খতিয়ান অর্থাৎ রিপোর্ট কার্ড। এক কথায় হল ‘উন্নয়নের পাঁচালী’। মা মাটি মানুষের সরকারের কাছে নির্বাচনের আগে নিশ্চিতভাবেই একটা চমক বলতে পারা যায়। কিন্তু সবচেয়ে বড়ো চমক আছে এর নামটিতে। ‘উন্নয়নের পাঁচালী’ এই পাঁচালী কথাটির মধ্যে বাংলার বিশেষত ধর্মপ্রাণ মহিলাদের একটা বিশেষ আবেগ জড়িয়ে আছে।’লক্ষ্মীর পাঁচালী’, ‘সত্য পীরের পাঁচালী’ — এই সমস্ত কিছুর সঙ্গেই যুক্ত হয়ে রয়েছে সংসারের কল্যাণ কামনা। স্বামী-সন্তানের মঙ্গল কামনায় মানুষ পাঁচালী শোনে বা পড়ে। স্বাভাবিকভাবেই পাঁচালী কথাটার মধ্যে দিয়ে একটা মঙ্গলময় মাতৃশক্তির কথা মনে ভেসে ওঠে। প্রতিটি ক্ষেত্রে এবং প্রতিটি অঞ্চলে মা-মাটি-মানুষের সরকার সফলভাবে মানুষের জন্য
বিগত ১৫ বছর ধরে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে কাজ করে চলেছে এবং আগামীদিনেও করবে। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে বাংলার ২.২১ কোটি মহিলা প্রতি মাসে আর্থিক সহায়তা পাচ্ছেন (সাধারণ শ্রেণির মহিলাদের জন্য ১,০০০ টাকা এবং তপশিলি জাতি/তপশিলি জনজাতির মহিলাদের জন্য ১,২০০ টাকা)। সরকার সর্বদা কৃষক ও শ্রমিকের পাশে আছে। ২০২৫ সাল পর্যন্ত কৃষকবন্ধু (নতুন) প্রকল্পের আওতায় রাজ্যের ১.১০ কোটিরও বেশি কৃষককে মোট ২৭,০১৬ কোটি টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। এছাড়াও, বিনামূল্যে সামাজিক সুরক্ষা যোজনা-র মাধ্যমে বাংলা জুড়ে ১,৮৪ কোটি অসংগঠিত শ্রমিকের সামাজিক নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা হয়েছে। রেশন পৌঁছে যাচ্ছে ঘরে ঘরে খাদ্য সাথী প্রকল্পে। প্রায় ৯ কোটি মানুষ ভরতুকিযুক্ত রেশন পেয়েছেন, আর দুয়ারে রেশনের মাধ্যমে ৭.৫ কোটি উপভোক্তার দোরগোড়ায় রেশন পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষায় এগিয়ে বাংলা। গত ১৫ বছরে কন্যাশ্রী, শিক্ষাশ্রী, মেধাশ্রী, ঐক্যশ্রী এবং সংখ্যালঘু স্কলারশিপ এই সকল প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় এক কোটি শিক্ষার্থীকে তাদের শিক্ষার জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। কাঠামোর উন্নয়নে অগ্রণী বাংলা। ১৫ বছরে বাংলার সরকার মানুষের জীবন বদলেছে ১০০ শতাংশ। বিদ্যুদয়ন নিশ্চিত করেছে। সেইসঙ্গে গ্রামীণ পরিবারের কাছে নলবাহিত পানীয় জলের সংযোগ পৌঁছে গেছে।
‘পথশ্রী-রাস্তাশ্রী’ প্রকল্পের আওতায় নতুন নতুন রাস্তা নির্মাণ করা হচ্ছে। এছাড়াও চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছে সরকার আস্থা সাথী প্রকল্পের মাধ্যমে। এর আওতায় ২.৪৫ কোটি পরিবাবের ৮.৭২ কোটি মানুষ স্বাস্থ্য বিমার সুবিধা পেয়েছেন। আবাসেও ভরসা রাজ্য সরকার। ১ কোটি পরিবারের জন্য মর্যাদাপূর্ণ বাসস্থানের ব্যবস্থা। ২০১১ সাল থেকে মা-মাটি-মানুষের সরকার স্বচ্ছল বাংলায় সবল অর্থনীতি গড়ে তুলেছে। ২০১১ সালের পর থেকে বাংলার অর্থনীতি প্রায় ৪.৪১ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং গড় মাথাপিছ আয় তিন গুণ বেড়ে হয়েছে ১,৬৩,৪৬৭ টাকা। আমাদের সরকার ১.৭২ কোটি মানুষকে দারিদ্র্য সীমার বাইরে নিয়ে এসেছেন। সারা দেশে গত ৪৫ বছরের মধ্যে বেকারত্বের হার সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে, ঠিক সেই সময়েই বাংলায় বেকারত্বের হার ৪০% কমেছে এবং ২ কোটিরও বেশি কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করেছে।
কেন্দ্রীয় ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পের তহবিল বন্ধ করে দেওয়ার পরও মা-মাটি-মানুষের সরকার কর্মশ্রী (বর্তমানে পরিবর্তিত নাম ‘মহাত্মা-শ্রী’) প্রকল্প চালু করে ৭৮.৩১ লক্ষেরও বেশি জব কার্ডধারীর জন্য ১০৪.৫৮ কোটি কর্মদিবস সৃষ্টি করেছে। এতে মোট ব্যয় হয়েছে ২০,৭৭৬ কোটি টাকা। প্রসঙ্গত , তপশিলি, অনগ্রসর ও সংখ্যালঘুরা সুরক্ষিত বাংলায়। ১.৬৯ কোটিরও বেশি তপশিলি জাতি, তপশিলি জনজাতি ও অনগ্রসর শ্রেণিভুক্ত মানুষকে জাতি শংসাপত্র প্রদান করা হয়েছে। সেই সঙ্গে, সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় পরিকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে দেশজুড়ে এক নম্বরে রয়েছে এবং রাজ্যে ৬৯,০০০ ইমাম ও মুয়াজ্জিনকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। মা-মাটি-মানুষের সরকার ‘দুয়ারে সরকার’-এর মাধ্যমে মানুষের দোরগোড়ায় পরিষেবা পৌঁছে গেছে।