বৃহস্পতিবার কামারপুকুর মঠে যথোচিত মর্যাদায় পালিত হচ্ছে ঠাকুর রামকৃষ্ণদেবের ১৯১তম জন্মতিথি ও উৎসব। সেইসঙ্গে শুরু কামারপুকুর মেলা।বেলুড় মঠ সহ কামারপুকুরেও বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ঠাকুর রামকৃষ্ণদেবকে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করা হচ্ছে। এদিন কামারপুকুরে ভোর থেকে সানাইবাদন, মঙ্গলারতি,বেদপাঠ, স্তবগান ও ঊষা কীর্তন ও শ্রীশ্রী কথামৃত পাঠের পর বিশেষ পূজা ও শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করা হয়। সকাল সাড়ে সাতটায় শোভাযাত্রা সহ কামারপুকুর তীর্থ পরিক্রমা করেন সন্ন্যাসী, ব্রহ্মচারী, ছাত্রছাত্রী, ভক্ত ও স্থানীয় গ্ৰামবাসীরা। এছাড়া এদিন বিকেলে থাকছে বাউল সংগীত ও তরজা গান। সন্ধ্যায় যাত্রা ‘কে ঐ আসিল যে কামারপুকুরে’ পরবর্তী দু’দিনও থাকছে ঠাকুর রামকৃষ্ণদেবকে নিয়ে আলোচনা, ভক্তিমূলক সঙ্গীতানুষ্ঠান, নাটক ,বাউল সংগীত ইত্যাদি।

উল্লেখ করা যেতে পারে রামকৃষ্ণ পরমহংস ১৮ ফেব্রুয়ারি ১৮৩৬সালে জন্মগ্ৰহণ করেন হুগলির কামারপুকুরে। পূর্বাশ্রমের নাম গদাধর চট্টোপাধ্যায়। ঊনবিংশ শতকের এক প্রখ্যাত ভারতীয় বাঙালি যোগসাধক, দার্শনিক ও ধর্মগুরু। প্রধান শিষ্য স্বামী বিবেকানন্দ তার প্রচারিত ধর্মীয় চিন্তাধারায় রামকৃষ্ণ মিশন প্রতিষ্ঠা করেন।

শ্রীরামকৃষ্ণ-চর্চায় মেলে মুক্তির পথ। ধর্মে ধর্মে বিভেদের মাঝে কুসংস্কার ও সামাজিক ভেদাভেদকে অগ্রাহ্য করে মানুষের ও সমাজের ত্রাতা হিসেবে অবতীর্ণ হয়েছিলেন হুগলির এই প্রত্যন্ত গ্রামের যুবক। সব সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে প্রচলিত ধ্যানধারণাকে ভেঙে চুরমার করে দিয়েছিলেন শ্রীরামকৃষ্ণ। নিজের জীবন দিয়ে সত্যের সন্ধান দিয়ে গিয়েছিলেন সমাজকে।

কামারপুকুর মঠ ও মিশনের অধ্যক্ষ স্বামী লোকোত্তরানন্দ মহারাজ জানান, প্রতি বছরের ন্যায় এবারও যথোচিত মর্যাদায় ঠাকুর রামকৃষ্ণদেবের ১৯১ তম শুভ জন্মতিথি পালিত হচ্ছে। সেই সঙ্গে বিভিন্ন ভক্তিমূলক সঙ্গীতানুষ্ঠান, নাটক ও যাত্রা থাকছে। আশপাশের গ্ৰাম ছাড়াও দূরবর্তী জেলা থেকেও অসংখ্য ভক্ত উপস্থিত হয়েছেন। হাজার হাজার ভক্ত দুপুরে প্রসাদ পাচ্ছেন।