নিষেধাজ্ঞা জারি সত্ত্বেও ঘুড়িতে চীনা মাঞ্জার ব্যবহার। ফলে মর্মান্তিক মৃত্যু একের পর এক। উদ্বেগ বাড়ছে। অথচ প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা জারিকে উপেক্ষা করে বাড়ছে এধরনের ঘুড়ি ওড়ানো। বিশ্বকর্মা পূজো থেকে শুরু হয়েছে, কিন্তু আজও তা চলছে। শহর থেকে গ্ৰামে তরুণরা ঘুড়ি ওড়িয়ে আনন্দ উপভোগ করতে গিয়ে বেঘোরে প্রাণ যাচ্ছে নিরীহ মানুষের। দেখা দিয়েছে সর্বত্র ক্ষোভ। এদিকে নিষেধাজ্ঞা জারির পরও চীনা মাঞ্জায় মৃত্যু ঠেকাতে ব্যর্থ পুলিশ। মানুষের অভিযোগ, নামেই পুলিশের কড়াকড়ি। বাস্তবে যে তার কোনও ইতিবাচক প্রভাব নেই, সম্প্রতি আরও একবার সেটাই প্রমাণ হয়ে গেল। নিষিদ্ধ চীনা মাঞ্জার সুতোয় গলা কেটে মৃত্যু হল প্রাপ্তন এক সেনাকর্মীর। দুপুরে কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়েতে একটি ল্যাম্পপোস্টে ঝুলে থাকা ঘুড়ির সুতোয় এই ঘটনা ঘাটে। ফি-বছর বিশ্বকর্মা পূজো এলেই চীনা মাঞ্জার ঘুড়িতে কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়েতে যেন ত্রাস হয়ে ওঠে। প্রাণহানি এড়াতে বারাকপুর কমিশনারেটের তরফে এক্সপ্রেসওয়ে জুড়ে সাবধান-বাণী’ দেওয়া হয়। কিন্তু এদিনের মর্মান্তিক ঘটনার পর আম জনতার প্রশ্ন, চীনা মাঞ্জা নিয়ে সচেতন করে স্রেফ কয়েকটা ব্যানার-হোর্ডিং ঝুলিয়ে দিলেই কি প্রশাসনের দায়িত্ব শেষ। আর কিছুই করার নেই তাদের। তাহলে কি এভাবে বেঘোরে প্রাণ চলে যাওয়াটাই ভবিতব্য।
তবে শুধু ব্যারাকপুর কমিশনারেট এলাকা বললে ভুল হবে, হাওড়া, হুগলির বিস্তীর্ণ শহরতলি জুড়েই চলেছে চীনা মাঞ্জার দেদার বিক্রিবাটা। বাদ নেই কলকাতাও। সূত্রের খবর, কলকাতার বড়বাজারে চীনা মাঞ্জার সূতো বিক্রি হচ্ছে। সেখান থেকে ছড়িয়ে পড়েছে বিভিন্ন জায়গায়। বেহালা, তারাতলা, বেলেঘাটা, চেতলা-সহ হুগলি ও হাওড়ার বিভিন্ন অঞ্চলে। চীনা মাঞ্জার ব্যবহার পুলিশের নজরে এসেছে। তবে কলকাতা পুলিশের দাবি, শহরে কোথাও চীনা মাঞ্জায় দুর্ঘটনার খবর নেই। মা ফ্লাইওভারে অবশ্য এই কারণে বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। হাওড়া-আমতা রোডের ধারে বাঁকড়া বাজার এলাকায় রয়েছে বেশ কয়েকটি চীনা মাঞ্জার দোকান। বাইরে থেকে দেখে সাধারণ মুদি দোকান মনে হলেও আড়ালে চলছে এই কারবার।
এদিকে চীনা মাঞ্জায় গলা কেটে মৃত্যু প্রাক্তন সেনাকর্মীর ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতের নাম গৌতম ঘোষ । আদি বাড়ি নদীয়ায়। বর্তমানে থাকেন মোহনপুরে। অবসর নেওয়ার পর তিনি কলকাতা এয়ারপোর্টে চাকরি করতেন। এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
তবে শুধু শহরতলি নয়, গত কয়েক বছরে কলকাতা শহরেও চীনা মাঞ্জার কারণে একের পর এক দুর্ঘটনা, এমনকি মৃত্যুর উদাহরণও রয়েছে। তারপরও এই মারণ সুতো ব্যবহারে রাশ টানা যাচ্ছে না কেন, উঠছে সেই প্রশ্ন। খবরে প্রকাশ, অন্যান্য দিনের মতো এদিনও গৌতমবাবু কল্যানী এক্সপ্রেসওয়ে ধরে এয়ারপোর্ট যাচ্ছিলেন। তারপরই তিনি দুর্ঘটনায় পড়েন। কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়েতে চীনা মাঞ্জা সুতোয় গলা কেটে প্রাক্তন সেনা জওয়ানের মৃত্যুতে নড়েচড়ে বসেছে পুলিশ। বিশ্বকর্মা পুজোর দুপুরে ঘটা মর্মান্তিক মৃত্যুতে শোকাহত বারাকপুরবাসী। এই পরিস্থিতিতে চীনা মাঞ্জা সুতো বিক্রির বিরুদ্ধে অভিযানে নামে বারাকপুর কমিশনারেটের বিভিন্ন থানা। এই সুতো বিক্রির জন্য খড়দহ, টিটাগড়, নিউ বারাকপুর থানা এলাকা থেকে ৯ ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া ওই সুতো লাগানো ঘুড়ি ওড়ানোর জন্য মোহনপুর থানা একজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, বারাকপুর মহকুমা এলাকায় প্রকাশ্যে দেদার বিকোচ্ছে চীনা মাঞ্জা সুতো। পুলিশ কোনও পদক্ষেপ না নেওয়ায় এই সুতোর রমরমা ব্যবসা চলছে। যার জেরে বুধবার দুপুরে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। যদিও পুলিশের দাবি, চীনা মাঞ্জা সুতো বিক্রির বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালানো হবে।