৯৭. মাসিক বা ত্রৈমাসিক হিসাবগুলো তাদের ডায়েরিসহ কমিটি অব একাউন্টসের কাছে পরিদর্শনের জন্য জমা দিতে হবে। সেই দপ্তর এ সব বিশদে পরীক্ষা করে তাদের মতামত প্রত্যয়িত করবে। এরপর সেই হিসাবগুলো বোর্ডের সামনে পেশ করা হবে; এবং কাউন্সিলে অনুমোদিত ও পাস হওয়ার পর, তা হিসাবরক্ষকের কাছে হস্তান্তর করা হবে, যিনি তখন, এবং তার আগে নয়, সেগুলোকে সাধারণ হিসাবের খাতায় অন্তর্ভুক্ত করবেন। এই নিয়ম খাজনা আর রাজস্ব সংগ্রাহককে প্রভাবিত করবে না, যার অধীনে (যদি আপনাদের কোনো আপত্তি না থাকে) সেই একই সীমিত জেলাগুলো থাকবে যা কলকাতা হারানোর আগে আমাদের জমিদারের (অর্থাৎ, কলকাতার কালেক্টর।) অধীনে ছিল।
৯৮. আমাদের সদ্য অধিগ্রহণ করা সমস্ত জমির উপযুক্ত পরিমাপনের নির্দেশ দিয়ে আপনি অবশ্যই উপযুক্ত কাজ করেছেন, কিন্তু আমরা আশা করি যে এই কাজ একাধিক ব্যক্তির মাধ্যমে এবং খুব বড় খরচ ছাড়াই সম্পন্ন করা যাবে। এই ধরনের ব্যক্তি, যদি বিচক্ষণ হন, তবে বিভিন্ন জমির পর্যবেক্ষণ থেকে আপনাকে অনেক উপকারী পরামর্শ দিতে সক্ষম হবেন; এবং যদি তারা নতুন কোনো সুবিধা খুঁজে বের করতে পারেন, তবে আমরা তাদের যোগ্যতার কথা ভুলে যাব না। নরম নীতি অনুসরণ করে এবং প্রজাদের প্রকৃত অত্যাচার ও বোঝা স্বরূপ, কর থেকে মুক্তি দিয়ে আপনি বিচক্ষণ ও বুদ্ধিমানের মতো কাজ করেছেন। এই কল্যাণকর নীতিগুলো গ্রহণ করার ফলে, আমাদের অধিগ্রহণকৃত অঞ্চল এবং কলকাতাও ভবিষ্যতে অসংখ্য ও উপকারী প্রজায় পূর্ণ হবে, যারা স্বার্থ বা ভালোবাসার কারণে আমাদের সরকারের প্রতি অনুগত থাকবে, এবং ইংরেজ নামটি ততটাই শ্রদ্ধেয় ও সম্মানিত হবে যতটা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এটি প্রাপ্যভাবে অবজ্ঞা ও ঘৃণার পাত্র হয়েছে, এবং এই কৃতিত্বের জন্য আমরা প্রধানত আমাদের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট কর্নেল ক্লাইভকেই কৃতিত্ব দিই। মিঃ ভ্যান্সিটার্ট আমাদের আস্থার একটা বিশেষ নিদর্শন পাচ্ছেন, ইত্যাদি, ইত্যাদি।
৯৯. করি জুরি পরগনা (কড়ি জুরি [খেজুরি?] পরগণার বিস্তৃতি অজানা; এটি দক্ষিণে গঙ্গা সাগর পর্যন্ত এবং পূর্বে সুন্দরবন পর্যন্ত বিস্তৃত; আমরা নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানতে পেরেছি যে, পূর্বে এর রাজস্বের পরিমাণ ছিল ৪০ লক্ষ টাকা, কিন্তু বর্তমানে এই পরগণার বেশিরভাগ অংশই অনাবাদী, জনবসতিহীন এবং জঙ্গলে পরিপূর্ণ। এর খাজনার পরিমাণ মাত্র ২,৯২৫ টাকা ৯ আনা, এবং আমরা নবাবকে কেবল ৫৬২ টাকা ৮ আনা প্রদান করি।” ক্লাইভ: কার্যবিবরণী, ৩১শে ডিসেম্বর, ১৭৫৮।) যা পূর্বে চল্লিশ লক্ষ টাকা রাজস্ব দিত এবং এখন মাত্র ২,৯২৫ টাকা দেয়, আমরা স্বীকার করি যে এটি সরকারি অত্যাচারের একটা অত্যন্ত প্রকট উদাহরণ, অন্যথায় এত বিশাল এলাকা মরুভূমিতে পরিণত হতে পারত না; এবং আমরা আনন্দের সাথে লক্ষ্য করছি যে আপনি আমাদের অধিগ্রহণের এই গুরুত্বপূর্ণ শাখাটির প্রতি উপযুক্ত মনোযোগ দিতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, এই দেশটিকে বাসযোগ্য করে তোলা এবং এটিকে জনবহুল করাই আপনার প্রধান উদ্দেশ্য…
১৩৮. আপনার চিঠি আমাদের কাছে পৌঁছানোর আগেই, আমরা এই মৌসমের জন্য রূপো ব্যবহারের চুক্তি সম্পাদন করে ফেলেছিলাম; এবং তাই, আমরা ইচ্ছুক হলেও, আপনাকে কোনো পরিমাণই রুপো সরবরাহ করা আমাদের পক্ষে সম্ভব ছিল না, কিন্তু আপনি যখন বলেন যে ফোর্ট সেন্ট জর্জ এবং আপনার অধীনস্থদের সরবরাহ, দুর্গ নির্মাণ সম্পন্ন করা এবং বসতির প্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে গিয়ে ১৭৬০ সালের মধ্যে আপনার কোষাগার নিঃশেষ হয়ে যাবে, তখন আমরা বিস্মিত হই। এটি সত্যিই বর্তমানে আমাদের বোধগম্যতার বাইরে, এবং যদি এটি সত্য প্রমাণিত হয়, তবে আপনার বিশাল এবং চমকপ্রদ অধিগ্রহণগুলো এই কোম্পানির ধ্বংসের কারণ হবে, কারণ এটি একটা স্পষ্ট সত্য যে, যদিও আমরা সাম্প্রতিক চুক্তি থেকে এক মিলিয়নেরও বেশি পাউন্ড স্টার্লিং লাভ করেছি, তবুও এই বিপুল অর্থের একটা পয়সাও আমাদের আয়ের সহায়তায় আসেনি, এবং আমাদের হিসাব অনুযায়ী পুরো অর্থই আপনার দুর্গে ব্যয় হয়ে যাবে।
এই নির্দেশাবলীর উত্তরে প্রেসিডেন্ট ও কাউন্সিল, ১৬ই জানুয়ারি, ১৭৬১ তারিখে লিখলেন:
“১০৭. রাজস্ব আদায়ের ভার আপনার কাউন্সিলের ‘কালেক্টর’ উপাধি পাওয়া একজন সদস্যের হাতে ন্যস্ত ছিল, যিনি এই পদ্ধতি প্রচলিত থাকাকালীন নিয়মিতভাবে সমস্ত খাজনা ও রাজস্বের হিসাব দিয়েছেন; এবং এই মৌসমের ১লা এপ্রিল তারিখের আপনার আদেশ প্রাপ্তির পর, আমরা ৯৬তম ও ৯৭তম অনুচ্ছেদে বর্ণিত নিয়মাবলী অনুসারে, তাদের দপ্তরের কাজকর্মে অধিকতর শৃঙ্খলা আনার জন্য বোর্ডের তিনজন সদস্য এবং দুজন জুনিয়র কর্মচারী নিয়ে একজন হিসাবরক্ষক ও সচিবসহ ‘নতুন ভূমি কমিটি’ গঠন করেছি। তারা আলাদা খাতা রাখবেন এবং বার্ষিকভাবে তাদের কার্যবিবরণী আপনাদের কাছে প্রেরণ করবেন।”(এই কমিটি গঠনের পূর্বে, নতুন জমি ব্যবস্থাপনার জন্য ১৭৫৮-র ২১শে সেপ্টেম্বর একটা কমিটি গঠিত হয়েছিল। মি. ওয়াটস, ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড এবং স্ক্র্যাফটন এই প্রথম কমিটিতে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। দেখুন, কমিটি অব সেক্রেসির চতুর্থ প্রতিবেদন, ১৭৭৩।)
গভর্নর ও কাউন্সিল এবং কোর্টের মধ্যেকার চিঠিপত্র থেকে জানা যায় যে, নতুন ভূমি কমিটি (কমিটি অব দ্য নিউ ল্যান্ডস) প্রতি সপ্তাহে একবার বৈঠক করত। প্রতিটি পরগনার পরিস্থিতি সম্পর্কে ব্যক্তিগতভাবে পরিচিতি লাভের জন্য, পূর্বে কালেক্টরের হাতে থাকা ব্যবস্থাপনার ভার কমিটির সদস্যদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়েছিল। ৮ই এপ্রিল, ১৭৬২ তারিখে প্রেসিডেন্ট ও কাউন্সিল কোর্টকে লিখছেন:
“৯. মাগুরা পরগনা ব্যতীত কলকাতা পরগনাগুলোর ইজারা আগামী মাসের প্রথম তারিখে শেষ হয়ে যাচ্ছে, তাই নতুন ভূমি কমিটি কোম্পানির সর্বোত্তম স্বার্থে এবং একই সাথে সেগুলোর আরও উন্নতির কথা বিবেচনা করে, কীভাবে সেগুলোর বন্দোবস্ত করা যায়, তা নিয়ে আলোচনার জন্য ঘন ঘন বৈঠক করেছে। প্রতিটি পরগনাকে ছোট ছোট অংশে বিভক্ত করার পরিকল্পনা প্রস্তুত করা হয়েছে, এবং আমরা একমত হয়েছি যে ইজারার মেয়াদ দীর্ঘতর হওয়া উচিত, যাতে কৃষকদের পক্ষে জমি উন্নত করার জন্য কিছু অর্থ ব্যয় করা লাভজনক হয়; কিন্তু অন্যদিকে, আমরা জমিগুলোর প্রকৃত উৎপাদন সম্পর্কে আরও নিখুঁত জ্ঞান অর্জন করতে চাই, অর্থাৎ শ্রমিকরা জমি থেকে কী ফসল পায় এবং তারা কৃষকদের কী পরিমাণ দেয়, তা জানতে চাই, কারণ আমরা দেখতে পাচ্ছি না যে মিস্টার ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড সংকলিত দেবন্দী বা খাজনার তালিকা (debundee or rent roll) আদৌ নির্ভরযোগ্য, এবং ইজারার শর্তানুযায়ী এমনটি হওয়ার কথা থাকলেও, কৃষকরা বাসিন্দাদের কাছ থেকে খাজনা আদায়ের ক্ষেত্রে তা অনুসরণ করেছে বলেও মনে হয় না। আমরা পুরো এলাকার একটা সঠিক পরিমাপও চাই, এবং প্রকৃতপক্ষে আমরা মনে করি যে দীর্ঘ মেয়াদে ইজারা দেওয়ার আগে এই দুটি তথ্যই অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। তাই আমরা এই জ্ঞান অর্জনের জন্য এক বছরের জন্য জমিগুলো কোম্পানির হাতে রাখার একটা পরীক্ষা চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি, এবং শুধুমাত্র লবণাক্ত জমিগুলো ইজারা দেব, যা আমাদের ধারণা অনুযায়ী আপনার রাজস্বের একটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পৃথক উৎস হয়ে উঠবে। মিস্টার ক্যামেরন সাগর থেকে পূর্ব সীমা পর্যন্ত পুরো এলাকার একটা অত্যন্ত সম্পূর্ণ জরিপ ও রূপরেখার পরিকল্পনা তৈরি করেছেন, যা বাঙ্কাবাজারের কাছে নদীতে মিলিত হয়েছে, যা আপনার অধিকারভুক্ত এলাকার উত্তর সীমা। তিনি আবার দ্রুততার সাথে প্রতিটি পরগনার অভ্যন্তরীণ জরিপ ও পরিমাপ করার জন্য অগ্রসর হবেন, যা আমাদের পুরো এলাকা এবং প্রতিটি পরগনার একরের সংখ্যা সম্পর্কে সম্পূর্ণ জ্ঞান দেবে। ইতিমধ্যে, আমরা প্রস্তাব করছি যে নতুন ভূমি কমিটির বিভিন্ন সদস্যরা তাদের ১৭৬১-র কার্যবিবরণীতে বর্ণিত পদ্ধতি অনুসারে নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেওয়া বিভিন্ন পরগনার যত্ন ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব নেবেন:- তারা প্রতিটি পরগনার প্যারিশের সংখ্যা, প্রতিটি প্যারিশের গ্রামের সংখ্যা এবং বাসিন্দাদের সংখ্যা ও নাম নিবন্ধন করবেন।” এবং প্রতিটি গ্রামের ভূমি মালিকদের নাম, প্রত্যেকের মালিকানাধীন জমির পরিমাণ, তার প্রকৃতি ও উৎপন্ন ফসল এবং পূর্বে নির্ধারিত বার্ষিক খাজনার পরিমাণ—এবং আপাতত তারা সেই একই খাজনা আদায় করবে যা ইজারাদাররা আদায় করত, যতক্ষণ না আমরা রেজিস্টার ও পরিমাপ থেকে বিচার করে দেখতে পারি যে খাজনা কতটা বাড়ানো যেতে পারে।
চলবে
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট ফ্রম দ্য সিলেক্ট কমিটি অন দি অ্যাফেয়ার্স অফ দি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সংক্ষেপে দ্য ফিফথ রিপোর্ট।

বিশ্বেন্দু নন্দ