রবিবার কলকাতার নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কিষাণ ক্ষেত মজদুর তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক নির্বাচনী রাজ্য সম্মেলন অনুষ্ঠিত হল। এদিন সম্মেলনে এস আই আর নিয়ে মানুষকে হেনস্থার প্রতিবাদে সরব হন বক্তারা। মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন, আমাদের কৃষিপ্রধান রাষ্ট্র। আগে কী ছিল, এখন কী হয়েছে। কৃষকরা পিষ্ট হচ্ছেন গাড়ির চাকায়। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখানকার কৃষকদের উন্নয়নে পাশে দাঁড়িয়েছেন। এছাড়া উল্লেখ করতেই হয় যেভাবে এস আই আর নিয়ে এ রাজ্যের মানুষকে হেনস্থা করা হচ্ছে, তার অকল্পনীয়।
পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কিষাণ ক্ষেত মজদুর তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি পূর্ণেন্দু বসু জানান, মানুষকে এস আই আরের শুনানিতে যেভাবে হেনস্থা করা হচ্ছে তার মানা যায় না। আমাদের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সুপ্রিমকোর্টে উকিলের ভূমিকা নিয়ে এস আই আর নিয়ে মানুষের হেনস্থার কথা তুলে ধরলেন তার দেশের কাছে নজিরবিহীন ঘটনা। সম্মেলনে রাজ্যের তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি সুব্রত বক্সি বলেন, এস আই আর নিয়ে মানুষকে সার্বিকভাবে হেনস্থা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে কোনো সন্দেহই নেই। মানুষের এই হেনস্থার কথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সুপ্রিমকোর্টে তা তুলে ধরেছেন।
প্রসঙ্গত, এদিন সম্মেলনে বিধানসভা নির্বাচনের আগে বাংলার কৃষক সমাজের কাছে বার্তা পৌঁছে দিল তৃণমূল কংগ্রেস। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ১৫ হাজারের মতো কৃষক ও খেতমজুর অংশ নেন। কৃষক সমাজের পাশে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার কীভাবে আছে এবং আগামী দিনে থাকবে, তার সুস্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে। গত ৫ ফেব্রুয়ারি রাজ্য বাজেটে কৃষক ও খেতমজুরদের ব্যাপক উন্নয়ন আর্থিক শ্রীবৃদ্ধির বিষয়টি ঘোষিত হয়েছে। বাংলার খেতমজুররা জীবিকা, কৃষি ও সংশ্লিষ্ট কাজকর্মের উপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল।

বাজেটে বলা হয়েছে, ২ হাজার টাকা করে দুটি কিস্তিতে বার্ষিক মোট ৪ হাজার আর্থিক অনুদান তাঁদের দেওয়া হবে। তৃণমূল নেতৃত্ব বলছেন, খেতমজুরদের কথা এর আগে কেউ কখনোই ভাবেনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সর্বতোভাবে তাঁদের পাশে আছেন। তৃণমূলের কৃষক ও খেতমজুর সংগঠনের প্রধান পূর্ণেন্দু বসু বলেন, ব্যাপক কৃষক সমাজের কাছে বার্তা পৌঁছে দিতেই এই কর্মসূচি। কৃষক, খেতমজুররা আমাদের বন্ধু। তাঁদের সার্বিক উন্নতির জন্য মমতার বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার ও দল সর্বতোভাবে পাশে আছে। বাংলার কৃষকদের কীভাবে বঞ্চিত করছে মোদি সরকার তা সম্মেলনে উঠে আসে।
এদিন সাংসদ দোলা সেন সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন। সম্মেলনের সাফল্যে অনন্য ভূমিকা পালন করেন তিনি। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের কয়েকজন মন্ত্রী, বিধায়ক, জেলার দলীয় সভাপতি ও অন্যান্য বিশিষ্টজনেরা।