হাইকোর্টের নির্দেশের পরই ভাবাদিঘিতে রেলের কাজ দ্রুত শুরু। কঠোর পুলিশি নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে কাজ চলছে । এদিকে, ভাবাদিঘি আন্দোলনকারীদের গত ১৯ সেপ্টেম্বর আবেদন খারিজ করে দিয়েছে হাইকোর্টের সিঙ্গেল বেঞ্চ। ফলে শেষ পর্যন্ত আন্দোলনকারীরা পিছু হটতে বাধ্য হল।
এদিকে গোঘাট থেকে ভাবাদিঘি পর্যন্ত রেললাইন তৈরির জন্য মাটি ফেলার কাজ শেষ পর্যায়ে। এবার খুব শীঘ্রই রেললাইন পাতার কাজও শুরু হবে। কেবল ভাবাদিঘির উপর অংশটুক কাজ একেবারে শেষ পর্যায়ে হবে বলে সূত্রের খবর। অপরদিকে বিষ্ণুপুর থেকে কামারপুকুর রেললাইনের কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে। কামারপুকুর থেকে ভাবাদিঘি পর্যন্ত যে সামান্য কাজ বাকি আছে,তা শীঘ্রই শেষ হবে বলে রেল সূত্রের খবর।
প্রসঙ্গত, গত ১৬ সেপ্টেম্বর কলকাতা হাইকোর্টের সিঙ্গেল বেঞ্চে ভাবাদিঘির মুষ্টিমেয় অনিচ্ছুকের পক্ষে মানিক রায়, সুকুমার রায়রা কেস করেছিলেন। যে মামলার শুনানি হয় গত ১৯ সেপ্টেম্বর। এদিন হাইকোর্টের বিচারপতি পার্থসারথি সেনের এজলাসে। যেখানে ভাবাদিঘির মুষ্টিমেয় অনিচ্ছুকদেরদের পক্ষে মানিক রায়, সুকুমার রায়দের করা মামলাতে আইনজীবী বিচারপতির কাছে বেশ কিছু প্রশ্ন তোলার চেষ্টা করেন। যার মধ্যে ছিল ক’টা পিলার হচ্ছে, তাদেরকে জানানো হচ্ছে না, ১১ টি পিলার কেন দেওয়া হচ্ছে এমন প্রশ্ন তোলেন। ৫-৬টা পিলার নয় কেন? তখন বিচারপতি আইনজীবীকে বলেন বিষয়টা ঠিক করবেন ইঞ্জিনিয়াররা। আইনজীবী ভাবাদিঘির মানুষজনদের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়ার কথা হয়েছিল সেই কথা তুলে ধরার চেষ্টা করেন। এই সময় কলকাতা হাইকোর্টের অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাডভোকেট জেনারেল কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চের কনটেম্প পেন্ডিং মামলার কথা তুলে ধরেন। এরপরই সিঙ্গেল বেঞ্চের বিচারপতি মামলা খারিজ (ডিসমিস) করে দেন। অর্থাৎ ভাবাদিঘির গুটিকয়েক অনিচ্ছুক মানুষজনদের আর কোন রাস্তা রইল না। এখন এলাকার মানুষজন বলছেন একটাই রাস্তা, তা হল রেলপথ। যা ভাবাদিঘির উপর দিকে জলের ক্ষতি না করে পিলার দিয়ে ব্রিজ তৈরি করে ছুটবে ট্রেন। এখন তারকেশ্বর-বিষ্ণুপুর সরাসরি রেল চলাচল শুধুমাত্র সময়ের অপেক্ষা।

ভাবাদিঘির ৪০২ দাগের আগে পর্যন্ত মাটি ফেলা, মোরাম ফেলা, পাথর ফেলা, রেললাইনের পাত বিছানো সমস্ত কাজ দ্রুততার মধ্যে শেষ করতে চাইছে কন্ট্রাক্টর। ইতিমধ্যেই কামারপুকুর স্টেশন, জয়রামবাটি স্টেশন গয়না পড়ে সাজতে শুরু করেছে। কামারপুকুর রেল স্টেশনের যাবতীয় কাজ দ্রুততার মধ্যে শেষ করা হচ্ছে। কামারপুকুর থেকে জয়রামবাটি পর্যন্ত রেললাইনের বিভিন্ন স্থানে মাটি ফেলার কাজ, সেতু তৈরির কাজ চলছে জোর কদমে। রেল ভাবাদিঘির জন্য যে সেতু তৈরির টেন্ডার ঝুলিয়েছে তাতে ৫১ কোটি টাকার নোটিশ করা হয়েছে। ১৬ অক্টোবরের মধ্যে টেন্ডার জমা করার শেষ দিন। নোটিশে ব্রিজ তৈরির সর্বোচ্চ সময়সীমা দেওয়া আছে ৯ মাস। এক ইঞ্জিনিয়ার এর সাথে কথা বলে জানা গেল কাজ দ্রুত গতিতে চললে এই ধরনের ব্রিজ চার মাসের মধ্যে তৈরি করা সম্ভব। সেই ক্ষেত্রে অক্টোবর মাসকে ছেড়ে দিলেও নভেম্বর ডিসেম্বর জানুয়ারি ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে কাজ শেষ হয়ে মার্চ এপ্রিল মাসের মধ্যে কামারপুকুর পর্যন্ত রেলপথ তৈরি হয়ে যাবার সম্ভাবনা রয়েছে। উল্টোদিকে বিষ্ণুপুর থেকে জয়রামবাটি পর্যন্ত রেল পথ সম্পন্ন হয়েছে। জয়রামবাটি থেকে কামারপুকুর দ্রুত গতিতে কাজ চলছে, যে কাজ ফেব্রুয়ারি-মার্চের মধ্যেই শেষ হবার সম্ভাবনা রয়েছে।