রবিবার | ২৩শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই ফাল্গুন, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ | সকাল ৭:৫৮
Logo
এই মুহূর্তে ::
বাংলাভাষার নেচিতে ‘ময়ান’ ও ‘শাহিস্নান’-এর হিড়িক : অসিত দাস একটু একটু করে মারা যাচ্ছে বাংলা ভাষা : দিলীপ মজুমদার রাজ্যে এই প্রথম হিমঘরগুলিতে প্রান্তিক চাষিরা ৩০ শতাংশ আলু রাখতে পারবে : মোহন গঙ্গোপাধ্যায় সামরিক জান্তার চার বছর — মিয়ানমার পরিস্থিতি : হাসান মোঃ শামসুদ্দীন ১৯ ফেব্রুয়ারি ও স্বামীজির স্মৃতিবিজড়িত আলমবাজার মঠ (প্রথম পর্ব) : রিঙ্কি সামন্ত চাষিদের বাঁচাতে রাজ্যের সরাসরি ফসল কেনার দাওয়াই গ্রামীণ অর্থনীতি আরও চাঙ্গা হবে : মোহন গঙ্গোপাধ্যায় বাংলার নবজাগরণের কুশীলব (সপ্তম পর্ব) : দিলীপ মজুমদার মোদীর মিডিয়া ব্যস্ত কুম্ভের মৃত্যুমিছিল ঢাকতে : তপন মল্লিক চৌধুরী রেডিওকে আরো শ্রুতিমধুর করে তুলেছিলো আমিন সায়ানী : রিঙ্কি সামন্ত গোপাল ভাঁড়ের আসল বাড়ি চুঁচুড়ার সুগন্ধ্যায় : অসিত দাস প্রতুলদার মৃত্যু বাংলা গানের জগতে অপূরণীয় ক্ষতি — মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় : সুমিত ভট্টাচার্য মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র ও গোপাল ভাঁড়, মিথ এবং ডিকনস্ট্রাকশন : অসিত দাস মহাকুম্ভ ও কয়েকটি প্রশ্ন : মৈত্রেয়ী ব্যানার্জী ভিয়েতনামের গল্প (শেষ পর্ব) : বিজয়া দেব কাশীকান্ত মৈত্রের জন্মশতবর্ষ উদ্‌যাপন : ড. দীপাঞ্জন দে অমৃতের সন্ধানে মাঘী পূর্ণিমায় শাহীস্নান : রিঙ্কি সামন্ত বাংলার নবজাগরণের কুশীলব (ষষ্ঠ পর্ব) : দিলীপ মজুমদার জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ির সঙ্গে মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের যোগ : অসিত দাস ‘হরিপদ একজন বেঁটে খাটো সাদামাটা লোক’-এর গল্প হলেও… সত্যি : রিঙ্কি সামন্ত রোহিঙ্গা সংকট — ফেলে আসা বছর ও আগামীদিনের প্রত্যাশা : হাসান মোঃ শামসুদ্দীন বাংলার নবজাগরণের কুশীলব (পঞ্চম পর্ব) : দিলীপ মজুমদার ‘রাঙা শুক্রবার অথবা কহরকন্ঠ কথা’ উপন্যাস বিষয়ে শতদল মিত্র যা বললেন রবীন্দ্রনাথের ধর্মীয় পরিচয় : গোলাম মুরশিদ কেজরিওয়াল হারলো প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে অরাজকতা ও দায়িত্বজ্ঞানহীনতার জন্য : তপন মল্লিক চৌধুরী বাংলার নবজাগরণের কুশীলব (চতুর্থ পর্ব) : দিলীপ মজুমদার সাহেব লেখক দেড়শো বছর আগেই বলেছিলেন পঞ্চানন কুশারীর কবিয়াল হওয়ার সম্ভাবনার কথা : অসিত দাস বাংলার নবজাগরণের কুশীলব (তৃতীয় পর্ব) : দিলীপ মজুমদার সর্বপাপবিনাশীনি জয়া একাদশী ব্রত মাহাত্ম্য : রিঙ্কি সামন্ত বাংলার নবজাগরণের কুশীলব (দ্বিতীয় পর্ব) : দিলীপ মজুমদার বাজেটে সাধারণের জীবনমানের উন্নয়নের একটি কথাও নেই : তপন মল্লিক চৌধুরী
Notice :

পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই শুভ বসন্ত পঞ্চমী ও সরস্বতী পুজোর  আন্তরিক শুভেচ্ছা শুভনন্দন।  ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন,  ই-মেল : pagefour2020@gmail.com

ট্রেড এন্ড কমার্সিয়াল অর্গানিজেশন ইন বেঙ্গল : সুশীল চৌধুরী (৭১ নং কিস্তি), অনুবাদ : বিশ্বেন্দু নন্দ

বিশ্বেন্দু নন্দ / ৬৬৩ জন পড়েছেন
আপডেট মঙ্গলবার, ১৩ জুন, ২০২৩

ট্রেড এন্ড কমার্সিয়াল অর্গানিজেশন ইন বেঙ্গল ১৬৫০-১৭২০, উইথ স্পেশাল রেফারেন্স টু দ্য ইংলিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি

অষ্টম অধ্যায়

একটি জীবনবৃত্তান্ত (রিজিউমে)

বাংলায় শাসন করতে আসা সুবাদারদের ভাগ্য ফেরানোর কাহিনী থেকে আমরা আন্দাজ করতে পারি যে কী ধরণের লুঠ চলেছে এই অঞ্চলে। বাঙলার প্রত্যেকজন নবাব বাংলা থেকে বিপুল পরিমান অর্থ লুঠ করে নিয়ে গিয়েছে। স্যর জে এন সরকার জানিয়েছেন, শায়েস্তা খান দশ বছরে ৯ কোটি টাকা, খান জাহান বাহাদুর খান এক বছরে দু-কোটি টাকা, আজিমুশ্বান ৯ বছরে ৮ কোটি টাকা বাংলা থেকে লুটে নিয়ে গিয়েছেন তাদের শাসনামলে (জে এন সরকার, প্রাগুক্ত, খণ্ড ২, ৪১৩)। এর থেকে বোঝা যায় বাংলা থেকে কি পরিমান লুঠ হয়েছে। এছাড়াও অন্যান্য অঞ্চলও বাংলা থেকে বিপুল পরিমান অর্থ লুঠ করেছে। ফলে বাংলা থেকে বিপুল রপ্তানি এবং বাংলায় বিপুল পরিমান রূপো আসা সত্ত্বেও সাধারণ দামস্তরে তার কোনও প্রভাব পড়ে নি এবং খাদ্যপণ্যের দামও খুব একটা বাড়ে নি এবং অন্য উপকূল এলাকার থেকেও দাম অনেক কম ছিল। কিন্তু খাদ্যের দাম কম থাকলেও একদিকে উৎপাদন বৃদ্ধি এবং অন্যদিকে পণ্য কেনার তীব্র প্রতিযোগিতা সত্ত্বেও সাধারণ কারিগর বা তাঁতির জাগতিক অবস্থার খুব একটা পরিবর্তন ঘটে নি এবং এই বিষয় নিয়ে আমরা কয়েক স্তবক আগেই আলোচনা করেছি। ইওরোপিয় কোম্পানি যে পরিমান রূপো আনত তা যথাসম্ভব তৃণমূলস্তরের কারিগরদের হাতে পৌঁছত না, উদ্বৃত্ত যেটি তৈরি হত তা মূলত সীমাবদ্ধ থাকত ওপরতলার এক শ্রেণীর মানুষ, দালাল-মধ্যশ্রেণী-ব্যবসায়ীদের কাছে।

শেষ অবদি বলা যায়, বাংলায় যে কৃষি নির্ভর অর্থনীতি ছিল, তার বিপুল বাণিজ্যিকরণ ঘটেছিল। কিছু কৃষিপণ্যের ইওরোপিয় চাহিদা এবং বিদেশি কোম্পানিগুলির দ্বারা সেগুলি সংগ্রহ করার উদ্যমে কৃষির বাজারী করণ এবং বাণিজ্যিকরণ উভয়ই বিপুলভাবে বৃদ্ধি পায়। তিনটি মূল রপ্তানিপণ্য, সুতি, রেশম এবং সোরার উৎপাদন বৃদ্ধি ঘটে মূলত ইওরোপিয় কোম্পানিগুলির চাহিদার কারণেই। এখন এই পণ্যগুলির চাহিদা বাজারের চাহিদা অনুযায়ী নিয়ন্ত্রিত হয়। ফলে এটা আমরা আন্দাজ করতেই পারি, যদিও সংখ্যা দিয়ে এটির পরিমান বিচার করা যাবে না, ইওরোপিয় বাণিজ্য বৃদ্ধির কারণে ব্যবসায়ীকরণের উদ্যম সৃষ্টি হয় এবং দক্ষ নজরদারিতে বাণিজ্যিক শস্যের চাষের এলাকার এবং তার সঙ্গে যুক্ত হয়ে রপ্তানির পরিমান বাড়ে সে পদ্ধতি পরের সময়ে আরও বেশি করে উজ্জ্বল হয়ে প্রতিভাত হবে। তবুও বলব, ইওরোপিয় কোম্পানিগুলির ব্যবসা বৃদ্ধির যে প্রভাব বাংলার অর্থনীতিতে পড়েছিল, তাকে উন্নয়ণের প্রবণতা বলা ঠিক হবে না, বরং এটি বাঙলার পরম্পরার প্রান্তিক এলাকায় একটুখানি আঁচড় কাটতে পেরেছিল মাত্র।

সপ্তদশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাঙলার খাদ্যদ্রব্যের বাজার দর — মুরল্যান্ডের তত্ত্ব খণ্ডন

মুরল্যান্ডের তত্ত্ব (ডবলিউ এইচ মুরল্যান্ড, ফ্রম আকবর টু আওরঙ্গজেব, ১৭৮-৮২) সপ্তদশ শতকের হুগলীর বাজার দর ভারতীয় উপকূল এবং অন্যান্য এলাকার বাজার দরের সঙ্গে তুলনীয়, সেটি খণ্ডনের সময় এসেছে ডাচ এবং ব্রিটিশ মহাফেজখানাগুলিতে রক্ষিত সংশ্লিষ্ট ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বিপুল নথিপত্র থেকে উদ্ধার হওয়া বিপুল তথ্যভাণ্ডারের আলোকে। এই যে বিশাল তথ্যভাণ্ডার আমাদের হাতে আছে, সেখান থেকে নিঃসন্দেহে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যায় যে, সে সময়ের বাঙলার খাদ্যদ্রব্যের বাজার দর বেশ কম ছিল — এবং ভারতীয় অন্যান্য উপকূল এলাকার তুলনায় তো যথেষ্টই কম ছিল।

মুরল্যান্ডের বক্তব্য ছিল ১৬৫০ অবদি বাঙলার বাজার দর অন্যান্য উপকূল এলাকার তুলনায় অচিন্ত্যনীয়ভাবে কম ছিল। এই অস্বাভাবিক কর্মকাণ্ডের কারণ তিনি বর্ননা করতে গিয়ে তিনি দেখিয়েছেন, এর আগের সময়ে অন্যান্য উপকূল অঞ্চলে যত পরিমান রূপো আসত, তখন বাংলায় রূপোর আমদানি প্রায় হতই না বলা চলে, তাই রূপোর কম দামের সঙ্গে বাজার দরও কম ছিল। তার পরেই, সপ্তদশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে ইওরোপিয়রা বাংলায় ব্যবসা করতে এসে বাঙলার ব্যবসার ক্ষেত্র বাড়ালে বাঙলার বাজার দর অন্যান্য এলাকার বাজার দর অনুযায়ী উন্নীত হয়।

এই সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ার কারণ হল ১৬৫০ সালে বাঙলার জনৈক কুঠিয়ালের মন্তব্য। তিনি লিখেছিলেন, বাঙলার পণ্য ভারতের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় প্রায় অর্ধেকের কম দামে মেলে। কিন্তু এই ব্যক্তিই আবার ১৬৫৮তে লেখেন খাদ্যদ্রব্যের দাম প্রায় তিনগুণ বেড়েছে। কুঠিয়ালের অভিযোগ মেনে নিয়ে মুরল্যাণ্ড লিখলেন, এই সময়ে ইওরোপিয়রা বিপুল পরিমানে দামি ধাতু বাংলায় এনে ব্যবসাবাণিজ্য বৃদ্ধি ঘটাচ্ছিল; তার মতে এই ঘটনার প্রভাব পড়েছে বাজার দর বৃদ্ধিতে। বাংলায় কেন রূপোর অপ্রাপ্যতা ছিল, সেটা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলছেন, এর আগের সময় বাঙলার রাজস্ব রূপোয় নেওয়া হত, এবং এই রূপো দিল্লির মুঘল দরবারে সিক্কা রূপি হিসেবে রাজস্ব মেটাতে প্রায় সবই চলে যেত। তাই এই সময়ে বাঙলার বাণিজ্য দরুণ যে পরিমান রূপো বাংলায় আসত এবং থাকত তার পরিমান বাঙলার বাজার দরকে বাড়াবার ক্ষেত্রে বিন্দুমাত্র যথেষ্ট ছিল না কারণ রূপো বাংলায় স্বাভাবিকভাবে খুবই দামি ছিল, অন্যভাষায় বাজার দর খুবই শস্তা ছিল।

ইওরোপিয় রপ্তানি বাণিজ্য বাড়ার জন্যে হঠাতই বাংলায় বিপুল পরিমান রূপো প্রবেশ করতে থাকে, এবং এটির পরিমান এতই বেশি ছিল যে, এই ধাতু বাংলায় বিপুল মুদ্রা অবস্থায় পরিবর্তন ঘটায়। তিনি বলছেন এই যে বিপুল রূপোর কম বাজারদরওয়ালা বাংলায় প্রবেশ ঘটল, ঠিক তার জন্যে এতদিন যে রূপোর অপ্রাপ্যতার জন্যে যে বাজার দর মুখ লুকিয়েছিল, সেটি হঠাৎ উচ্ছল হয়ে বাংলার বাজার দরকে উপকূলীয় বাজার দরের সমান করে দিল। এই উপপাদ্যকে প্রমান করার জন্যে লিখছেন এই সময়ের (অর্থাৎ ১৬৫০-এর আগে) বাংলা দশটি দেশে চাল পাঠাত, যারা এই পরিমান করমণ্ডল থেকে আনিয়ে নিতে পারত (কিন্তু তারা শস্তার দেশ বাংলা থেকে আনায় — অনুবাদক)।

কিন্তু আমাদের হাতে যথেষ্ট প্রমান আছে, যা দিয়ে আমরা প্রমান করিয়ে দেখাতে পারি, বাংলার খাদ্যদ্রব্যের বাজার দর কোনও দিনই সর্বভারতীয় উপকূল এলাকার বাজার দরের সঙ্গে এক হয় নি। মূরল্যান্ডের তত্ত্বটি দাঁড়িয়ে আছে মাত্র একজন কুঠিয়ালের লেখা মন্তব্যের ভিত্তিতে, আমাদের হাতে আছে ভারতের বিভিন্ন এলাকার বাজার দরের সমীক্ষা, যা দিয়ে নির্ভুলভাবে প্রমান করা যায় বিভিন্ন উপকূল এলাকার বাজার দরের তুলনায় বাংলার বাজার দর যথেষ্ট কম ছিল। ১৬৯৮তে বম্বের কুঠিয়াল লিখছেন, বাংলার শ্রমের মূল্য খুবই কম, তার কারণ আমাদের সঙ্গে বাংলায় খাদ্যদ্রব্যের বাজার দরের বিপুল পার্থক্য (ওসি, ২২ মে, ১৬৯৮, ৬৫৬৬ সংখ্যা, ৫৪)। ১৭০২-তে কোর্ট অব ডিরেক্টর লিখছে, বাংলার সঙ্গে মাদ্রাজের বিনিয়োগের পার্থক্যের অন্যতম প্রধান কারন হল, পণ্যগুলির বাজার দরের পার্থক্য (ডিবি, ৪ ফেব্রুয়ারি, ১৭০৯, ৯৬ খণ্ড, ৪৩৪)। ১৭১১তে সেই একই কর্তারা লিখলেন, ফোর্ট (মাদ্রাজ)-এর তুলনায় বে(বাংলা) অঞ্চলের পণ্যের বাজার দর অনেক কম। বে-তে যেটা একটাকা ফোর্টে সেটা এক প্যাগোডা (১ প্যাগোডা সমান ৩.৫টাকা মোটামুটি, সূত্র ডিবি, ২৮ ডিসে, ১৭১১, ৯৭ খণ্ড, ৪৬১)। (চলবে)


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ১৪৩১ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন