বাঁকুড়ার ভারত সেবাশ্রম সংঘের প্রাঙ্গণে ২৭ ও ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ আয়োজিত হলো দেশীয় বীজ মেলা। হায়দ্রাবাদে ওয়াসন সংগঠন এবং তামিলনাড়ুর কিস্টান ফাউন্ডেশন, ভারত বীজ স্বরাজ মঞ্চ, ভারত এগ্রো ইকোলজিক্যাল ফান্ড, বাঁকুড়ার পাঁচাল সুস্থায়ী কৃষি বিকাশ উদ্যোগ ও ফোরাম ফর ইন্ডিজেনাস এগ্রিকালচারাল মুভমেন্ট, রায়গঞ্জ এর উদ্যোগে এই দুদিন ব্যাপী বীজ মেলার আয়োজন করা হয়েছিল। উদ্যোগে এই মেলায় কোন বিষাক্ত খাবার নেই। কৃত্রিম রং নেই।
এই মেলাতে ভেষজ বীজ শাকসবজির বীজ, ধানের বীজ এবং বিভিন্ন রকমের জৈব উপায়ে উৎপাদিত চাল ডাল তেল মধু ইত্যাদি বিপুল পর্ষদ ছিল। কৃষকরা ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এসেছেন, হরিয়ানা, মধ্যপ্রদেশ, ঝাড়খন্ড, কর্ণাটক ছত্রিশগড়, বিহার, আসাম এবং পশ্চিমবঙ্গের স্পিডন থেকে সাগরদ্বীপ পর্যন্ত বিভিন্ন কৃষক এবং কৃষক সংগঠন দেশজ বীজের প্রদর্শন করেছেন।
তাঁদের দেশজ বীজের অভূতপূর্ব সম্ভার আপনাদের সামনে মেলে ধরেছেন বিভিন্ন স্টলের মাধ্যমে। সেই সঙ্গে রয়েছে বিভিন্ন জৈব উপায় উৎপাদিত ফসল এবং এই সংক্রান্ত বই পত্র। বাঁকুড়া শহরে এটাই প্রথম উদ্যোগ। ছিল জৈব কৃষি সম্বন্ধীয় বিভিন্ন পত্রপত্রিকা এবং বই। গত বছরে রায়গঞ্জের অদুরে হাতিয়া গ্রামে এই মেলার আয়োজন করা হয়েছিল।
যারা এতদিন ধরে যাঁরা দেশজ বীজ বুক দিয়ে আঁকড়ে রেখেছেন পরম যত্নে। তাঁদের সামান্য হলেও স্বীকৃতি প্রদান করার আয়োজন করা হয়েছিল। আমরা নিজেদের ধন্য মনে করছি। হয়তো সবাইকে এই মেলাতেই সম্মান জানাতে অপারগ।
সহযোগীতা করবেন। কৃষকরা দূর দূর প্রান্ত থেকে এসেছেন। দেশজ বীজ আমাদের ভবিষৎ প্রজন্মকে ভালো লাগবে, নবজাতকের কাছে বাসযোগ্য করে রাখবে। আসুন না এই অঙ্গীকার করি।
সতীশ দাশগুপ্ত মঞ্চে তৈরি করা হয়েছিল যেখানে সতীশ দাশগুপ্ত স্মৃতি বক্তৃতা দেওয়ার জন্য এসেছিলেন আজিম প্রেমজি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক উপাধ্যায় সতীশ দাশগুপ্ত অন্তর থেকে গান্ধীবাদী যিনি বেঙ্গল কেমিক্যাল এর সুপারেনটেনডেন্ট ছিলেন সুলেখা কালী নির্মাতা বহু ওষুধ তিনি তৈরি করেছেন এছাড়া বাঁকুড়ার গোগরায় রুক্ষ জমিতে তিনি দেশজ ধান সংরক্ষণের ব্যবস্থা করেছিলেন ১৯৬৫ ৬৬ সালে। এছাড়া তিনি গুড় তৈরি করার বিশেষ পদ্ধতি তেল নিষ্কাশন করার বিশেষ পদ্ধতি বাঁশের থেকে দেশলাই কাঠি তৈরি পদ্ধতি ইত্যাদি উদ্ভাবন করেছিলেন। বেশ কিছু বইপত্র লিখেছিলেন কিন্তু তাকে নিয়ে বিশেষ আলোচনা হয় না। তার কাজকর্মকে তুলে ধরার উদ্দেশ্যই এই স্মৃতি বক্তৃতার আয়োজন করা হয়েছিল এসেছিলেন তার সঙ্গে শেষ জীবন পর্যন্ত থাকা শ্রীমতি সুলেখা মুখোপাধ্যায় তিনি তার সম্বন্ধে বেশ কিছু আলোকপাত করেন।
এছাড়া ছিল প্রখ্যাত ধান গবেষক ডক্টর রিচারিয়ার স্মৃতিচারণা যিনি দেশী ধান নিয়ে কাজ করেছিলেন বহু বছর ধরে এবং দেখিয়েছিলেন যে দেশী ধানের উৎপাদনশীলতা কম নয়। তিনি কটকের ধান গবেষণা কেন্দ্রে অধিকর্তা ছিলেন। স্মৃতি বক্তৃতা দিয়েছেন কটকে ধান গবেষণা কেন্দ্রের প্রাক্তন বিজ্ঞানী ড. সুধীরঞ্জন ধুয়া।
ভ্যাবিলভ এওয়ার্ড গ্রহন করছেন জ্যাকব নেল্লীথানম মহাশয়
আমরা জানি ডক্টর নিকোলাই ভাবিলভ একজন প্রখ্যাত উদ্ভিদ প্রজননবিদ ও কৃষিবিদ এবং তিনি ফসলের উৎপত্তি স্থল সম্বন্ধে ধারণা দিয়েছিলেন। এই মহান রুশ কৃষিবিদের স্মৃতিতে ভ্যাভিলভ পুরস্কার দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয় এবং কলকাতার রুশ দূতাবাস থেকে শুভেচ্ছা বার্তা পাঠানো হয়েছে। এই পুরস্কার পেলেন পুদুচেরির আরভিলে থাকা শ্রীমতি দীপিকা কুন্ডাজী বিশেষ পারিবারিক কারনের জন্য তিনি আসতে পারেননি।
রিচারিয়া সম্মানের ভূষিত হলেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাথরপ্রতিমা দুর্বা চটি গ্রামের শালেয়া বিবি। তিনি প্রায় তিনি প্রায় ১৫ বছর ধরে দেশীয় ধান সংরক্ষণ এবং বিতরণের কাজ করে চলেছেন তার সংগ্রহ প্রায় ২০০ মতো দেশী ধানের জাত রয়েছে। মোট প্রায় ১৬ জন কৃষককে সম্মানিত করা হয়। হুগলির জাঙ্গিপাড়ার পসপুর লাউয়ের বীজ এবং খোল নিয়ে এসেছিলেন শ্রী শ্যাম বারুই যে লাউ থেকে বাদ্যযন্ত্র তৈরি হয়। প্রায় দেড়শ রকমের ধানের বীজ, ১২০ রকমের সবজি, মেটে আলু, স্কোয়াস অনান্য ফসলের বীজ প্রদর্শিত হয়। আসামের মনোহর পেগু গভীর জলের ধান, কালো চাল নিয়ে আসেন।
এছাড়া কৃষি সমস্যা এবং জৈব কৃষি নিয়ে আলোচনার ব্যবস্থা ছিল। অনুষ্ঠান পরিচালনায় উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম জৈব কৃষি বিশেষজ্ঞ এবং প্রাক্তন কৃষি আধিকারিক ড. অনুপম পাল মহাশয়। উদ্যোক্তাদের মধ্যে পাঁচাল সুস্থায়ী কৃষি বিকাশ এর শ্রী ভৈরব সাইনি, ফোরাম ফোর ইন্ডিজেনাস এগ্রিকালচার মুভমেন্টের ডক্টর চিন্ময় দাস ওয়াসানের ডক্টর সব্যসাচী দাস এবং কি স্টোনের রোহন মুখার্জি, ভারত স্বরাজ মঞ্চের আহ্বায়ক শ্রী জ্যাকব নাল্লীথাধম প্রমুখ।
বই প্রকাশ করা হলো বাংলার বেগুন লিখেছেন শ্রী অরুণ রাম,অনুপম পাল সৌমিক ব্যানার্জি। দেশী ধান উৎপাদনের কলাকৌশল নিয়ে একটি হিন্দি বই প্রকাশ করা হয় যার লেখক ডঃ অনুপম পাল এছাড়া বেগুনের পোস্টার গমের পোস্টার, ধান ইকো সিস্টেম নিয়ে ক্যালেন্ডার এবং উক্ত তিন মহান মনিষীকে স্মরণ করে একটি ফোল্ডার প্রকাশ করা হয়।
এটা আপনারা সবাই জানেন ভারত বর্ষ হলো ১৭টা মূল জীববৈচিত্র্য পূর্ণ দেশের মধ্যে একটি অন্যতম দেশ। এই ভারত উপমহাদেশই বেগুন,পটল, আম ইত্যাদির জন্মস্থান। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় একই ধরনের ফসল চাষ হওয়ার সাথে সাথেই আমাদের দেশের বিপুল ফসল বৈচিত্র কিন্তু ধ্বংস হতে শুরু করল। আমাদের দেশের ধানের সংখ্যা ছিল প্রায় ৮২ হাজার বেগুনের জাত ছিল প্রায় তিন হাজার ৬৮ রকমের। আস্তে আস্তে এই সবই লুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। অধুনা ভারত সরকার পরম্পরা গত কৃষি বিকাশ যোজনা চালু করেছেন যাতে জৈব কৃষি করা যায় এবং দেশজ ফসলকে পুনরুদ্ধার করা যায় রাজ্য সরকারও সেই মোতাবেক প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। এই মেলাতে অনেক কৃষক গোষ্ঠী এসেছেন যারা কোন প্রকার রাসায়নিক সার কীটনাশক ব্যবহার না করে অনেক ধরনের ফসলের জাত সংরক্ষণ করছেন ধান গম ভুট্টা তুলো বেগুন ইত্যাদি এখানে তারা তাদের পণ্য প্রদর্শন করবেন এবং তার সাথে সাথে তাদের উৎপাদিত ফসল ও প্রদর্শিত হচ্ছে। সঙ্গে থাকছে মধু।
এখানে আলোচনা সভার ও ব্যবস্থা করা হয়েছে প্রখ্যাত গান্ধীবাদী কর্মযোগী ও বিজ্ঞানী সতীশচন্দ্র দাশগুপ্ত, প্রখ্যাত ধান গবেষক ড. রিচারিয়া এবং রাশিয়ান বিজ্ঞানী নিকোলাই ভ্যাভিলভকে নিয়ে আলোচনা হবে। সেখানে আপনি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে পারেন।
আমি আমরা আপনাকে অনুরোধ করছি আমাদের এই বিশেষ বীজ মেলাতে আপনি সক্রিয়ভাবে যোগদান করুন এবং মেলাকে সাফল্যমন্ডিত করে তুলুন।