প্রতিদিনের মতো আজও বেরিয়ে পরেছিলেন করোনা মোকাবেলায় সাধারণ মানুষের পাশে থাকার জন্য। হঠাৎ একটি ফোন আসতেই সমীরবাবু প্রায় ৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ রাস্তা পেরিয়ে একেবারে হুগলি জেলার শুরু উদয়নারায়ণপুর বিধানসভা কেন্দ্রের শেষ সীমানায় পৌঁছে গেলেন ডিহিভুরসূট-এর প্রত্যন্ত গ্রামে। স্বামী পরিযায়ী শ্রমিকের কাজ করায় লকডাউন পরিস্থিতিতে আসতে পারেনি রাজ্যে, সময় লাগবে ফিরতে। ৯ মাসের দুই যমজ কন্যা সন্তান সহ আরও ১টি কন্যা সন্তান ও শ্বশুর, শ্বাশুড়ী কে নিয়ে থাকেন তনুশ্রী মাইতি।

করোনা মোকাবিলায় লকডাউন পরিস্থিতিতে কোনও খাবার মিলছিলো না দুই যমজ কন্যা সন্তানের। কোনো এক কর্মীর মাধ্যমে বিধায়ক জানতে পেরেই তৎপরতার সাথে নিজেই সরেজমিনে প্রয়োজনীয় বেবিফুড, বিস্কুট থেকে শুরু করে মধু এবং অন্যান্য খাদ্যসামগ্রী নিয়ে বাড়িতে পৌঁছে দিলেন। সমীর বাবু জানিয়ে এলেন, ‘আপনি আপনার পাশের বাড়ি, এলাকার যে কোনও সমস্যায় আমি নাম্বার দিয়ে গেলাম, আমাকে জানাবেন। কিন্ত দয়া করে লকডাউন অমান্য করবেন না।

আপনারা প্রতিনিয়ত দেখছেন টিভিতে, কীভাবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের জীবনের পরোয়া না করে করোনা মোকাবিলায় তৎপর হয়েছেন। দয়া করে বাড়িতে থাকুন, সুস্থ থাকুন সপরিবারে। অযথা আতঙ্কিত হবেন না, গুজব ছড়াবেন না। এরই মধ্যে করোনা মোকাবিলায় প্রথম পর্যায়ের ৩৫,০০০ অসহায় পরিবার কে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার সাথে সাথেই প্রায় ২৮ লক্ষ ৬৬ হাজার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজ্য আপাতকালীন ত্রাণ তহবিলে তুলে দিয়েছিলেন।

এবার একেবারে গ্রামে গ্রামে ঘুরে মানুষের বাড়িতে পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নিলেন উদয়নারায়ণপুরের বিধায়ক সমীর পাঁজা। করোনা সংক্রমণে উদয়নারায়ণপুরে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে, ফলে বিধানসভা এলাকার বেশ কিছু গ্রাম কন্টেইনমেন্ট জোন হিসাবে ঘোষণা করেছে প্রশাসন। বাকি জায়গায় মানুষকে পুরোপুরি লকডাউন পরিস্থিতিতে বাড়ি থেকে না বেরোনোর জন্য বদ্ধপরিকর সমীরবাবু।

প্রতিদিনের মতো কখনো সিংটী, কখনো পাঁচারুল, কখনো আবার দেবীপুরের পাশাপাশি এদিনও সমীরবাবু সকাল থেকেই প্রত্যন্ত গ্রামে গ্রামে, কখনো পঞ্চায়েত সমিতিতে হাওড়া জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য দফতরের মধ্যে ভিডিও কনফারেন্স, আবার কখনো ব্লক প্রশাসন থেকে থানা প্রশাসনের সাথে জরুরি মিটিং।
